মায়ের কিডনিতে প্রাণে বাঁচলেও থমকে গেছে সুজনের ভবিষ্যৎ

আপলোড সময় : ১৫-০৮-২০২৬ ০৫:৫৫:৩৮ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৫-০৮-২০২৬ ০৫:৫৫:৩৮ অপরাহ্ন
সন্তানের জীবন বাঁচাতে মা নিজের কিডনি দিয়েছেন। সেই কিডনি প্রতিস্থাপনের পর মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসেছেন ছেলে সুজন সরদার (৩০)। নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই স্বপ্নের পথেই এখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থের সংকট। নিয়মিত ওষুধ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার খরচ জোগাতে না পেরে তার চিকিৎসা এখন প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে।

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার বিরাশি গ্রামের দিনমজুর আনিছ সরদারের ছেলে সুজন। আট সদস্যের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তার বাবা। দিনভর বিভিন্ন জায়গায় শ্রম বিক্রি করে যে আয় হয়, তা দিয়েই কোনোরকমে চলে সংসার। সেখানে ছেলের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার ব্যয় যেন পরিবারের কাছে অসহনীয় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি হঠাৎ শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে সুজনকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসা চললেও তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। পরে তাকে খুলনার বেসরকারি সিটি হাসপাতাল এবং খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায়, সুজনের কিডনির জটিলতা গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছেছে। দুটি কিডনি নষ্ট বলে জানান চিকিৎসক। ফলে তাকে নিয়মিত ডায়ালাইসিস করতে হতো। একসময় শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে চিকিৎসকেরা কিডনি প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দেন। এমন পরিস্থিতিতে কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য সুজনকে ঢাকার শ্যামলীতে অবস্থিত সিকেডি অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তখন সন্তানের জীবন বাঁচাতে মা মমতাজ বেগম নিজের একটি কিডনি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরে অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর মমতাজ বেগমের কিডনি সুজনের শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়। সফলভাবে অস্ত্রোপচার শেষে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন সুজন। দীর্ঘদিনের অসুস্থতা ও ডায়ালাইসিসের কষ্ট পেরিয়ে তিনি ফিরে পান নতুন জীবন।

এদিকে কিডনি প্রতিস্থাপনের পর সুজনের পরিবার ভেবেছিল, এবার হয়ত দুঃসময় কিছুটা কাটবে। কিন্তু চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, কিডনি প্রতিস্থাপনের পরও দীর্ঘদিন নিয়মিত চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হয়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট ওষুধ সেবনের পাশাপাশি নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা ও অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সময়মতো হাসপাতালে গিয়ে ফলোআপ করাও জরুরি। এসব চিকিৎসা ব্যয়বহুল। সুজনের পরিবার এত দিন ধারদেনা, আত্মীয়স্বজন ও মানুষের সহযোগিতা নিয়ে চিকিৎসা চালিয়ে এসেছে। পরিবারের দাবি, এ পর্যন্ত তার চিকিৎসার পেছনে প্রায় ১৮ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এখন প্রতিমাসে শুধু ওষুধ কিনতেই প্রয়োজন হচ্ছে প্রায় ২০ হাজার টাকা। এর সঙ্গে রয়েছে পরীক্ষা-নিরীক্ষা, চিকিৎসকের পরামর্শ ও যাতায়াতসহ অন্যান্য খরচ। দিনমজুর বাবার পক্ষে এসব ব্যয় বহন করা এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

সুজনের বাবা আনিছ সরদার বলেন, ছেলের জীবন বাঁচাতে তার মা নিজের কিডনি দিয়েছে। এত টাকা খরচ হবে, কখনো ভাবিনি। ধারদেনা করে, মানুষের সহযোগিতা নিয়ে এতদিন চিকিৎসা চালিয়েছি। এখন আর পারছি না।

তিনি বলেন, আমি দিনমজুরি করি। সারাদিন কাজ করে যে টাকা পাই, তা দিয়ে আট সদস্যের সংসার চালাতে হয়। একদিকে সংসারের খরচ, অন্যদিকে ছেলের ওষুধ ও চিকিৎসা। কোনটা রেখে কোনটা করব বুঝতে পারছি না।

সুজনের মা মমতাজ বেগম বলেন, ছেলেকে বাঁচাতে আমার কিডনি দিতে পেরেছি, কিন্তু এখন টাকার অভাবে তার চিকিৎসা চালাতে পারছি না। আমার ছেলে যেন ভালো থাকে, স্বাভাবিকভাবে বাঁচতে পারে, এটাই আমার চাওয়া। মানুষের সহযোগিতা পেলে ওর চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারব।

পরিবারটির আবেদন, সমাজের বিত্তবান মানুষ, প্রবাসী, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন যেন সুজনের চিকিৎসার পাশে দাঁড়ান। তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা পেলে নিয়মিত ওষুধ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছে পরিবারটি।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]