রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় মাদকাসক্ত ছেলের বিরুদ্ধে মা তারা খাতুনকে (৫০) হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার কসবামাজাইল ইউনিয়নের সূবর্ণখোলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত তারা খাতুন ওই ইউনিয়নের জাবেদ বিশ্বাসের স্ত্রী।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে সূবর্ণখোলা এলাকার নাদুরিয়া ঘাট থেকে তারা খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করে পাংশা মডেল থানা পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে রাজু বিশ্বাসকে (২৮) আটক করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী জাবেদ বিশ্বাস পলাতক রয়েছেন।
পাংশা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মাঈনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নাদুরিয়া ঘাট এলাকা থেকে তারা খাতুন নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এটি হত্যাকাণ্ড নাকি সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু—তা তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, তারা খাতুনের ছেলে রাজু বিশ্বাস ইয়াবাসেবী ছিলেন। একপর্যায়ে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। ছেলের চিকিৎসার জন্য তারা খাতুন মোটরসাইকেলে করে কুষ্টিয়ার বনগ্রাম এলাকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন বলে জানা গেছে। তবে পরে রাজু তার মাকে সঙ্গে না নিয়ে খালার বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেন।
পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তারা খাতুনের সঙ্গে তার স্বামী জাবেদ বিশ্বাসের সম্পর্ক ভালো ছিল না। প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানতে পেরেছে, রাজু বিশ্বাস নেশায় আসক্ত ছিলেন।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, রাজুর মোটরসাইকেল থেকে পড়ে তারা খাতুনের মৃত্যু হয়ে থাকলেও ঘটনার পর কাউকে বিষয়টি অবহিত করা হয়নি। ফলে ঘটনাটি নিয়ে পুলিশের সন্দেহ রয়েছে এবং বিভিন্ন দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
এদিকে ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী জাবেদ বিশ্বাসেরও কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে তারা খাতুনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।