কলম্বিয়ায় ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ১৬৪

আপলোড সময় : ১১-০৮-২০২৬ ০৫:৫০:৩০ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১১-০৮-২০২৬ ০৫:৫০:৩০ অপরাহ্ন

ক্যালি-পেরেইরায় ধ্বংসস্তূপে চলছে উদ্ধার অভিযান, বাড়তে পারে প্রাণহানি

পশ্চিমাঞ্চলীয় কলম্বিয়ায় স্মরণকালের অন্যতম শক্তিশালী ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬৪ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে বহু মানুষ আটকে থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে দেশটির জরুরি সেবা বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন।

সোমবার ভোরে কলম্বিয়ার প্রধান কফি উৎপাদনকারী অঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ক্যালি, পেরেইরা ও মানিজালেস শহর। বহু বহুতল ভবন ও আবাসিক স্থাপনা ধসে পড়ায় বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসস্তূপের সৃষ্টি হয়েছে।

ধ্বংসস্তূপে চলছে উদ্ধার অভিযান

ভূমিকম্পের পর মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনের মতো উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। উদ্ধারকারী দল, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকেরা এক্সকাভেটর ব্যবহার করার পাশাপাশি খালি হাতেও ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের সন্ধান করছেন।

প্রায় ২২ লাখ মানুষের শহর ক্যালিতে অন্তত ৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। শহরের একটি প্রসূতি ও শিশু হাসপাতালের ওপরের অংশ ধসে পড়ায় সেখানে বেশ কয়েকজন রোগী আটকা পড়েন। পরে হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে প্রায় ৬০০ রোগীকে ধ্বংসস্তূপে ভরা রাস্তায় সরিয়ে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

পেরেইরা শহরে অন্তত ৬৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। শহরটির একাধিক আবাসিক ভবন ধসে কংক্রিট ও দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া স্টিলের স্তূপে পরিণত হয়েছে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের কাছের গ্রামীণ প্রদেশ চোকোতে আরও অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

কারফিউ, মোতায়েন নিরাপত্তা বাহিনী

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং লুটপাট ঠেকাতে ক্ষতিগ্রস্ত ক্যালি ও পেরেইরা শহরে রাতের কারফিউ জারি করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট আবেলর্দো দে লা এস্পরিয়েলা জানিয়েছেন, শুধু ক্যালি শহরেই ১৮৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত ১,০০০ নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমাদের মূল উদ্দেশ্য জনগণের জীবন রক্ষা করা। মানুষকে রক্ষা ও সংহতি প্রকাশের ক্ষেত্রে আমাদের কোনো রাজনৈতিক বা আদর্শগত বিভেদ নেই।”

বাড়ছে প্রাণহানির আশঙ্কা

বিশেষজ্ঞরা এই ভূমিকম্পকে ১৯৯৯ সালে একই অঞ্চলে আঘাত হানা বিধ্বংসী ভূমিকম্পের সঙ্গে তুলনা করছেন। ওই দুর্যোগে এক হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি হয়েছিল।

আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো বলছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ আটকে থাকতে পারেন। ফলে আগামী কয়েক ঘণ্টার উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযানই শেষ পর্যন্ত এই দুর্যোগে প্রাণহানির প্রকৃত চিত্র কতটা ভয়াবহ হবে, তা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]