চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানাধীন হামজারবাগ এলাকায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় এক প্রবাসীর বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১০ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে হাজী মোহাম্মদ ইউসুফের বাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন দুপুরে মোহাম্মদ ইউসুফের দুবাইপ্রবাসী ছেলে মোহাম্মদ শওকতের হোয়াটসঅ্যাপে কাতারভিত্তিক একটি নম্বর থেকে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে হুমকি দেওয়া হলে পরিবারের পক্ষ থেকে নম্বরটি ব্লক করে দেওয়া হয়। এর কয়েক ঘণ্টা পরই রাতে বাড়িটিতে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, রাতে বিদ্যুৎ না থাকার সুযোগে দুজন ব্যক্তি বাড়ির সামনে আসে। তারা নিরাপত্তারক্ষীকে অস্ত্র দেখিয়ে হুমকি দিয়ে ফটক বন্ধ করতে বলে। এরপর ফটক লক্ষ্য করে পরপর দুই রাউন্ড গুলি ছুড়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। দূরে তাদের সঙ্গে একটি যানবাহন থাকতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
গুলির শব্দে ভবনের বাসিন্দা ও আশপাশের লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।
ভুক্তভোগী মোহাম্মদ ইউসুফ জানান, হঠাৎ করে অস্ত্রধারীরা এসে নিরাপত্তারক্ষীকে ভয় দেখিয়ে গুলি চালিয়ে চলে যায়। চাঁদা দাবির পর এ হামলার ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
জানা গেছে, মোহাম্মদ ইউসুফের বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায়। তবে তিনি পরিবার নিয়ে হামজারবাগ এলাকায় বসবাস করেন। তার পরিবারের সঙ্গে নিষিদ্ধ ঘোষিত স্বেচ্ছাসেবক লীগের চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান আজিজের শ্বশুরবাড়ির সম্পর্ক রয়েছে। গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর আজিজুর রহমান আজিজ গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহেদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে হামলাটি চালানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। চাঁদা দাবি কিংবা হুন্ডি ব্যবসাসংক্রান্ত কোনো বিরোধ রয়েছে কি না, সেসব বিষয়সহ সব দিক বিবেচনা করে তদন্ত করা হচ্ছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত দুই বছরে চট্টগ্রামে চাঁদা দাবি এবং পরবর্তী সময়ে বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার পেছনে বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদ ও তার বাহিনীর সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
সর্বশেষ হামজারবাগে প্রবাসীর বাড়িতে গুলির ঘটনায়ও একই ধরনের কোনো চক্র জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।