ভারতের বেঙ্গালুরুতে একটি পাঁচ তারকা হোটেলে দুই শিশুকন্যাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন তাদের বাবা। সোমবার (১০ আগস্ট) কেম্পেগৌড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছের ওই হোটেল থেকে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুদের বাবা এস জি ইমরানকে (৪০) গলায় গুরুতর আঘাতসহ অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহত দুই শিশু হলো ৫ বছর বয়সী শেখ জোহরা ও ১০ বছর বয়সী শেখ জোয়া। বর্তমানে ইমরান একটি বেসরকারি হাসপাতালে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ জানায়, উত্তর বেঙ্গালুরুর নাগভারা এলাকার বিলালনগরের বাসিন্দা ইমরান একটি বেসরকারি ক্যাব প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত। রোববার (৯ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনি দুই মেয়েকে নিয়ে ওই হোটেলে ওঠেন। হোটেল কর্মীদের তিনি জানিয়েছিলেন, মধ্যরাতের পর দুবাই থেকে একজন অতিথি আসবেন।
তবে সোমবার দুপুরেও ইমরান হোটেল কক্ষ থেকে বের হয়ে চেক-আউট না করায় বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে হাউসকিপিং কর্মীরা দরজায় নক করেন। কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে প্রায় এক ঘণ্টা পর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মাস্টার কি দিয়ে কক্ষটি খোলা হয়।
কক্ষের ভেতরে খাটের কাছে দুই শিশুর নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। অন্যদিকে সোফার পাশে গলায় গুরুতর ক্ষতসহ ইমরানকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তিনজনকেই উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা দুই শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনাস্থল থেকে একটি চিঠি উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেটি ইমরানের লেখা বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। চিঠিতে স্ত্রীর কথিত পরকীয়া সম্পর্ক ও পারিবারিক কলহের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, স্ত্রীর কথিত অনৈতিক সম্পর্কের কারণে তিনি জীবনে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন এবং এ সম্পর্কের প্রমাণ তার কাছে রয়েছে। স্ত্রী তাকে গভীরভাবে কষ্ট দিয়েছেন বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বেঙ্গালুরুর নর্থ-ইস্ট ডিভিশনের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার মিথুন কুমার জি জানান, হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। উদ্ধার হওয়া চিঠি, পারিবারিক বিরোধ এবং ঘটনার পেছনের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, পুরো ঘটনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ইমরানের জ্ঞান ফিরলে তার বক্তব্য নেওয়া হতে পারে। তদন্তের পরই দুই শিশুর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত বিষয় আরও স্পষ্ট হবে।