চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষ থেকে আমিনুল ইসলাম (৩২) নামে এক পুলিশ কর্মকর্তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই কক্ষের দরজার পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় তার স্ত্রী তাহমিনা আক্তার (২৪) এবং তাদের ১০ মাস বয়সী সন্তানকে উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বড়তাকিয়া বাজারের হোটেল রিলেক্স জোনের ১০৪ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আমিনুল ইসলাম উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের আব্দুল হক মাস্টার বাড়ির আবুল হোসেনের ছেলে। তিনি বাংলাদেশ পুলিশের রাঙ্গামাটি পুলিশ লাইনে সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার স্ত্রী তাহমিনা আক্তার উপজেলার হাজীশ্বরাই এলাকার বাসিন্দা।
হোটেল কর্তৃপক্ষ জানায়, রোববার (৯ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে আমিনুল ইসলাম, তার স্ত্রী ও সন্তান হোটেলে এসে ১০৪ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেন। বিকেল ও রাতে তারা দুইবার কক্ষ থেকে বের হয়েছিলেন। এরপর রাতে তারা কক্ষেই অবস্থান করেন।
সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হোটেলের দায়িত্বরত ম্যানেজার সোহান তাদের ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়াশব্দ পাননি। দীর্ঘ সময় পর ভেতর থেকে দরজা খুলে দেন রক্তাক্ত তাহমিনা। এ সময় কক্ষের ভেতরে খাটের পাশে ফ্যানের সঙ্গে আমিনুল ইসলামকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান হোটেল কর্মীরা।
হোটেল ম্যানেজার সোহান বলেন, ‘রোববার দুপুরে তারা কক্ষ ভাড়া নেওয়ার পর বিকেলে ও রাতে দুইবার বাইরে গিয়েছিলেন। রাতে আমি নিজের কক্ষে ঘুমিয়ে পড়ি। এরপর কোনো ধরনের শব্দ শুনিনি। সকালে অনেক ডাকাডাকি করেও সাড়াশব্দ না পেয়ে বিষয়টি সবাইকে জানাই।’
খবর পেয়ে মিরসরাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আমিনুল ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় রক্তাক্ত অবস্থায় তার স্ত্রী তাহমিনা আক্তারকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাদের ১০ মাস বয়সী সন্তানকেও ওই কক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
মিরসরাই সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) নাদিম হায়দার চৌধুরী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় আমিনুল ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে। তাহমিনা আক্তারকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আমিনুল ইসলাম রাঙ্গামাটি পুলিশ লাইনে এএসআই হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।