সমুদ্রের পানিতে ভয়ংকর ‘মাংসখেকো’ ব্যাকটেরিয়া, মৃত্যু হতে পারে তিন দিনেই

আপলোড সময় : ১০-০৮-২০২৬ ০২:০৪:৫৫ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১০-০৮-২০২৬ ০২:০৪:৫৫ অপরাহ্ন
সমুদ্রের নোনা পানি ও সামুদ্রিক খাবার থেকে ছড়িয়ে পড়ছে ভয়ংকর মাংসখেকো ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ। যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানাসহ বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকায় এ নিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সংক্রমণে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।

লুইজিয়ানার স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে, সমুদ্রের নোনা পানি ও সামুদ্রিক খাবারের মাধ্যমে ‘ভিব্রিয়ো ভালনিফিকাস’ নামের এই ব্যাকটেরিয়া মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। শরীরে ঢোকার পর এটি কোষ, পেশি ও রক্তনালির মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। রক্তে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত গুরুতর অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই রোগীর মৃত্যু ঘটতে পারে।

শুধু লুইজিয়ানাতেই নয়, ফ্লোরিডা, টেক্সাসসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকা, মেক্সিকো উপসাগরীয় অঞ্চল এবং এশিয়ার কিছু সামুদ্রিক এলাকাতেও এই ব্যাকটেরিয়া নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

কী এই মাংসখেকো ব্যাকটেরিয়া?

যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ‘ভিব্রিয়ো ভালনিফিকাস’ মূলত সমুদ্রের নোনা পানিতে জন্মায়। উষ্ণ পরিবেশে এই ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বেঁচে থাকতে ও বংশবিস্তার করতে পারে।

শরীরে প্রবেশের পর এটি ক্ষতিকর বিষাক্ত পদার্থ তৈরি করে। এর ফলে রক্ত ও শরীরের বিভিন্ন টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। গুরুতর সংক্রমণ হলে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই রক্তে বিষক্রিয়া বা সেপসিস দেখা দিতে পারে।

এই ধরনের সংক্রমণে শরীরের ভেতরের পেশি ও কোষকলায় পচন ধরতে শুরু করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ অবস্থাকে ‘নেক্রোটাইজিং ফ্যাসাইটিস’ বলা হয়। গুরুতর ক্ষেত্রে অঙ্গপ্রত্যঙ্গও বিকল হয়ে যেতে পারে। এছাড়া এই ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে লিভারের জটিল রোগও দেখা দিতে পারে।

কীভাবে ছড়ায় সংক্রমণ?

বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রের নোনা পানি এবং আধসেদ্ধ বা কাঁচা সামুদ্রিক খাবার থেকে এই ব্যাকটেরিয়া শরীরে প্রবেশ করতে পারে। তবে এটি ছোঁয়াচে নয়।

শরীরে কোনো কাটা-ছেঁড়া বা ক্ষত থাকলে সেই স্থান দিয়ে নোনা পানি শরীরে প্রবেশের মাধ্যমে সংক্রমণ হতে পারে। এমনকি ট্যাটুর জায়গা দিয়েও ব্যাকটেরিয়া শরীরে ঢুকতে পারে।

ক্ষতস্থান দিয়ে ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করলে প্রথমে ওই এলাকার ত্বক ও নিচের পেশিতে ক্ষতি শুরু হতে পারে। ত্বকে ফোসকা পড়া এবং মারাত্মক ক্ষত তৈরি হতে পারে।

সংক্রমণ রক্তে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র জ্বর, কাঁপুনি ও রক্তচাপ কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। হাত-পা নীল হয়ে যেতে পারে এবং রক্তে বিষক্রিয়া হয়ে সেপসিস দেখা দিতে পারে। গুরুতর অবস্থায় আক্রান্ত অঙ্গের কিছু অংশ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কেটে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

দ্রুত চিকিৎসা জরুরি

ভিব্রিয়ো ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। গুরুতর সংক্রমণে শিরায় অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। সেপসিসের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত অস্ত্রোপচার করে আক্রান্ত ও পচে যাওয়া কোষ অপসারণের প্রয়োজন হতে পারে।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]