সাড়ে চার বছরে শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের লক্ষ্য: ববি হাজ্জাজ

আপলোড সময় : ০৯-০৮-২০২৬ ০৬:৫২:৩৮ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৯-০৮-২০২৬ ০৬:৫২:৩৮ অপরাহ্ন

আগামী সাড়ে চার বছরের মধ্যে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

রোববার সকালে রাজধানীর হোটেল শেরাটনে ইউনিসেফ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় অল্প সময়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। তবে সঠিক পরিকল্পনা, তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত নিয়ে কাজ করলে আগামী কয়েক বছরে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব।

তিনি বলেন, ‘ছয় মাসে শিক্ষা ব্যবস্থায় কী পরিবর্তন এসেছে’—এ ধরনের প্রশ্ন করা ঠিক নয়। শিক্ষা কোনো পোশাক পরিবর্তনের মতো বিষয় নয়; এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা। তাই শিক্ষা ব্যবস্থায় টেকসই পরিবর্তন আনতে সময় প্রয়োজন।

ফাউন্ডেশনাল লার্নিংয়ে গুরুত্ব

প্রাথমিক শিক্ষায় ফাউন্ডেশনাল লার্নিংয়ের দুর্বলতা দূর করার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের অনেক শিক্ষার্থী শ্রেণি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় মৌলিক বাংলা ও পড়ার দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না। এ সমস্যা সমাধানে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য রিমিডিয়াল এডুকেশন বা অতিরিক্ত সহায়তামূলক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, কোনো শিক্ষার্থী পঞ্চম শ্রেণিতে পড়লেও যদি প্রথম বা দ্বিতীয় শ্রেণির প্রয়োজনীয় পড়াশোনা না জানে, তাহলে তাকে পঞ্চম শ্রেণির পাঠ দিয়ে এগিয়ে নেওয়া কঠিন। তাই প্রতিটি শিক্ষার্থীর শেখার ঘাটতি চিহ্নিত করে সে অনুযায়ী শিক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

স্কুলের বাইরে থাকা শিশুদের বিদ্যালয়ে আনার উদ্যোগ

আউট অব স্কুল চিলড্রেন বা বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা শিশুদের সংখ্যা কমিয়ে সব শিশুকে বিদ্যালয়ের আওতায় আনার লক্ষ্যেও সরকার কাজ করছে বলে জানান ববি হাজ্জাজ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ নন-ফরমাল এডুকেশন ব্যুরোর বিভিন্ন কর্মসূচির পাশাপাশি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়াতে বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম দেওয়ার পাইলট কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।

মিড ডে মিল কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রথম পর্যায়ের কর্মসূচিতে যেসব সমস্যা দেখা গেছে, সেগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের চেষ্টা চলছে। একটি পাইলট প্রকল্প সফল কি না, তা শুধু কতদূর বাস্তবায়িত হয়েছে তার ভিত্তিতে বিচার না করে এর মাধ্যমে কতগুলো সমস্যা চিহ্নিত ও সমাধান করা গেছে, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে।

শিক্ষার্থীর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে প্রযুক্তি

শিক্ষার্থীদের শেখার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালুর কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রতিটি শিক্ষার্থীর শেখার অগ্রগতি যেন আলাদাভাবে পর্যবেক্ষণ করা যায়, সে জন্য প্রযুক্তিনির্ভর একটি ব্যবস্থা তৈরির কাজ চলছে।

পিইডিপি-৫ নিয়েও নতুনভাবে কাজ করার কথা জানান তিনি। আগামী দিনে প্রকল্পগুলোকে আরও যৌক্তিক ও কার্যকর কাঠামোর মধ্যে আনা হবে জানিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, পিইডিপি-৫-এর আওতায় থাকা কার্যক্রমগুলো থাকবে, তবে সেগুলোকে আরও কার্যকর ও অপারেশনাল কাঠামোয় সাজানো হবে।

প্রাথমিকেই বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে জোর

প্রাথমিক শিক্ষায় বিজ্ঞান, গণিত ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার ওপরও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্রিটিক্যাল থিংকিং বা সমালোচনামূলক চিন্তার দক্ষতা গড়ে তুলতে প্রাথমিক পর্যায় থেকেই স্টিম (STEM) শিক্ষা জোরদারের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ম্যাথ ল্যাব চালুর পাশাপাশি কারিকুলামে সায়েন্স টয়েজ ও ডিজাইনভিত্তিক কার্যক্রম যুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান ববি হাজ্জাজ। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে গণিত, বিজ্ঞান ও নকশা সম্পর্কে শেখার সুযোগ পাবে।

শিক্ষক ও মনিটরিং ব্যবস্থায় পরিবর্তন

শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়ানো এবং প্রশাসনিক ও মনিটরিং ব্যবস্থা আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। এ জন্য নতুন শিক্ষক সম্পর্কিত নীতি প্রণয়ন এবং মাঠপর্যায় থেকে বিভাগীয় পর্যায় পর্যন্ত মনিটরিং ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার কাজ চলছে বলে জানান তিনি।

শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক ও পুরো কমিউনিটির কল্যাণ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন ববি হাজ্জাজ। তাঁর মতে, শুধু শিক্ষার্থী বা শিক্ষক নয়, অভিভাবক ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে সামগ্রিক সামাজিক কল্যাণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে স্কুল ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে হবে।

তথ্যনির্ভর পদ্ধতিতে পরিবর্তনের লক্ষ্য

ববি হাজ্জাজ বলেন, সরকারের শিক্ষা বিষয়ক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর, এনসিটিবি, নেপ, বিএনএফই এবং সহযোগী বিভিন্ন সংস্থার পাশাপাশি গণমাধ্যমের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ।

শিক্ষা ব্যবস্থার কোথায় ঘাটতি রয়েছে, তা চিহ্নিত করে সমাধানের জন্য সবার কাছ থেকে সৎ ও বাস্তবভিত্তিক মতামত প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ডাটা-ডিপেন্ডেন্ট ও এভিডেন্স-বেজড পদ্ধতিতে কাজ করে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনার লক্ষ্য রয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাই সহযোগিতা করলে এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]