কুমিল্লায় একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম, ২৪ ঘণ্টায় চার নবজাতকের মৃত্যু

আপলোড সময় : ০৯-০৮-২০২৬ ০৬:৩২:০৪ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৯-০৮-২০২৬ ০৬:৩২:০৪ অপরাহ্ন
একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম, এমন খবরে পরিবারজুড়ে আনন্দের বন্যা বয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই আনন্দ স্থায়ী হলো মাত্র কয়েক ঘণ্টা। কুমিল্লায় এক প্রসূতির একসঙ্গে জন্ম দেওয়া পাঁচ নবজাতকের চারজনই মারা গেছে জন্মের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে। বর্তমানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকা একমাত্র জীবিত শিশুটিকে বাঁচাতে হাসপাতালের বিছানায় নিঃস্ব হয়ে লড়াই করছে পরিবারটি।

কুমিল্লা নগরীর ঝাউতলা এলাকার মক্কা হসপিটাল পিএলসিতে শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম দেন জান্নাতুল নাঈমা নামে এক প্রসূতি। তিনি চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার সুজিপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও সৌদি প্রবাসী তারেকুল ইসলাম তারেকের স্ত্রী। নবজাতকদের মধ্যে দুইজন ছেলে ও তিনজন মেয়ে ছিল।

হাসপাতাল ও পরিবার সূত্র জানায়, গর্ভধারণের নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই জান্নাতুল নাঈমার প্রসববেদনা ওঠে। পরে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে তিনি পাঁচ সন্তানের জন্ম দেন।

তবে প্রসব স্বাভাবিক হলেও গর্ভধারণের মেয়াদ পূর্ণ না হওয়ায় নবজাতকরা ছিল অত্যন্ত অপরিণত ও স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম ওজনের। প্রসবের পরপরই তাদের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে। চিকিৎসকদের সব চেষ্টা সত্ত্বেও নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে একে একে চার নবজাতক মৃত্যুবরণ করে।

বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বেঁচে থাকা একমাত্র নবজাতকটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। শিশুটির উন্নত চিকিৎসা চালিয়ে যেতে গিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে পরিবারটি।

প্রসূতির বাবা শামসুল হুদা আবেগপ্লুত কণ্ঠে বলেন, 'একসঙ্গে পাঁচ নাতি-নাতনি আসার খবরে আমরা আনন্দে ভেসেছিলাম। কিন্তু এক নিমেষেই সব শেষ হয়ে গেল। চারজনকে হারিয়েছি, এখন শুধু এই একটি সন্তান বেঁচে আছে। তাকে বাঁচাতে সবার দোয়া ও সহযোগিতা চাই।'

মক্কা হসপিটাল পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরিয়ার মামুন জানান, এটি একটি বিরল প্রসবের ঘটনা ছিল। মা ও শিশুদের প্রাণ বাঁচাতে হাসপাতালের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হয়েছিল।

প্রসূতির দায়িত্বে থাকা গাইনি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সরতাজ বেগম বলেন, 'নির্ধারিত সময়ের অনেক আগে জন্ম নেওয়া এবং ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম থাকায় নবজাতকগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। তাদের জীবন বাঁচাতে বিশেষায়িত উন্নত চিকিৎসা ও নিবিড় পরিচর্যার প্রয়োজন ছিল।'

একদিকে চার সন্তানকে হারানোর শোক, অন্যদিকে জীবিত একমাত্র শিশুটিকে বাঁচিয়ে রাখার খরচ, সব মিলিয়ে এক নির্মম পরিস্থিতির মুখোমুখি প্রসূতির পরিবার। জীবিত শিশুটির প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করতে তারা সরকার এবং সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের কাছে আর্থিক সহায়তার আকুল আবেদন জানিয়েছেন।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]