রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজির অভিযোগে দুই যুবক আটকের পর এলাকায় একই ধরনের পরিচয় ব্যবহারকারী আরও কয়েকজনকে ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে। তাদের মধ্যে মতিউর রহমান নামে এক ব্যক্তিকে নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে নানা সন্দেহ। কখনো নিজেকে ডিজিএফআই, কখনো সাবেক র্যাব কর্মকর্তা আবার কখনো পদোন্নতিপ্রাপ্ত সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
সম্প্রতি বাঘার আড়ানী পৌরসভার পিয়াদাপাড়া এলাকায় পুলিশ, ডিবি ও ডিজিএফআইয়ের সদস্য পরিচয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগে হাসিবুল হাসান (২৬) ও সোহেল রানা (২৮) নামে দুই যুবককে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। বর্তমানে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করছে পুলিশ।
এই ঘটনার পর স্থানীয়দের প্রশ্ন—আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে কেউ এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছে কি না, তা কি প্রশাসন আরও গভীরভাবে যাচাই করবে? সেই প্রশ্নের সঙ্গে সামনে এসেছে মতিউর রহমানের নামও।
স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, বাঘার আলাইপুর এলাকার মৃত দোস্তুলের ছেলে চিন্হিত মাদক কারবারি রাকিব, আলাইপুর মহাজনপাড়ার আফজাল আলীর ছেলে ইমন, বাঘা উপজেলার পাকুড়িয়া ইউনিয়নের পানিকামড়া এলাকার চিন্হিত মাদক কারবারি রয়েলের সঙ্গে বিভিন্ন সময় মতিউর রহমানকে দেখা গেছে। এছাড়া অত্র এলাকায় মাদকের কারবার, স্বর্নচোরা কারবারসহ বেশ গুরুপ্তপূর্ণ অভিযোগও উঠে এসেছে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, মতিউর বিভিন্ন সময়ে নিজেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা হিসেবে উপস্থাপন করেন এবং কখনো অস্ত্রসদৃশ বস্তু প্রদর্শন করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা, ব্যবহৃত অস্ত্রের প্রকৃতি কিংবা তার বৈধতা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
র্যাবের সদস্যদের কাছে পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন
মতিউর রহমানের একটি ছবি দেখিয়ে বাঘা উপজেলায় দায়িত্ব পালনকারী র্যাব-৫-এর এফএস সদস্যদের কাছে তার পরিচয় সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট একাধিক র্যাব সদস্য জানান, মতিউর রহমান তাদের পরিচিত নন এবং তিনি র্যাবের সদস্য কি না—এমন কোনো তথ্য তাদের জানা নেই।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে র্যাব-৫-এর এক কর্মকর্তা ছবিটি প্রসঙ্গে বলেন, ছবিতে র্যাবের পোশাক পরিহিত একজন ব্যক্তির সঙ্গে যে গাড়িটি দেখা যাচ্ছে, সাধারণ র্যাব সদস্যরা এ ধরনের প্রাইভেটকার ব্যবহার করেন না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ছবিটি আসল নাকি প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি বা পরিবর্তিত—সেটিও যাচাই প্রয়োজন।
তবে শুধু একটি ছবি দেখে কোনো ব্যক্তির পরিচয় বা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা যায় না। ছবিটি কখন, কোথায় এবং কী পরিস্থিতিতে ধারণ করা হয়েছে, সেটিও স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
প্রশাসনের যাচাই জরুরি
স্থানীয়দের প্রশ্ন, মতিউর রহমানের প্রকৃত পরিচয় কী? তিনি কোনো সরকারি বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত কি না? যুক্ত না থাকলে তিনি কীভাবে এসব পরিচয় ব্যবহার করছেন? আর মাদক কারবারিদের সঙ্গে তার কথিত যোগাযোগের পেছনে আসলে কী রয়েছে?
এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে তার জাতীয় পরিচয়, কর্মপরিচয়, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ব্যবহারের অভিযোগ এবং অস্ত্র প্রদর্শনের বিষয়টি প্রশাসনের পক্ষ থেকে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
বিশেষ করে একই উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজির অভিযোগে ইতোমধ্যে দুই ব্যক্তি আটকের পর, মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোও প্রশাসনের নজরে এনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর কোনোটি এখনো আদালত বা তদন্তে প্রমাণিত নয়। তাই তাকে কোনো অপরাধে জড়িত হিসেবে চূড়ান্তভাবে অভিহিত না করে তার পরিচয় ও অভিযোগগুলো যাচাই করাই হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।
এ বিষয়ে মতিউর রহমানের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার অবস্থানও যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।
এখন প্রশ্ন একটাই—আড়ানীতে দুইজন আটকের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় নিয়ে ওঠা অভিযোগের জাল কতদূর বিস্তৃত? আর সেই অনুসন্ধানে ‘মতিউর রহমান’ নামটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ—তা নির্ধারণ করবে প্রশাসনের যাচাই ও তদন্ত।
সম্প্রতি বাঘার আড়ানী পৌরসভার পিয়াদাপাড়া এলাকায় পুলিশ, ডিবি ও ডিজিএফআইয়ের সদস্য পরিচয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগে হাসিবুল হাসান (২৬) ও সোহেল রানা (২৮) নামে দুই যুবককে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। বর্তমানে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করছে পুলিশ।
এই ঘটনার পর স্থানীয়দের প্রশ্ন—আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে কেউ এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছে কি না, তা কি প্রশাসন আরও গভীরভাবে যাচাই করবে? সেই প্রশ্নের সঙ্গে সামনে এসেছে মতিউর রহমানের নামও।
স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, বাঘার আলাইপুর এলাকার মৃত দোস্তুলের ছেলে চিন্হিত মাদক কারবারি রাকিব, আলাইপুর মহাজনপাড়ার আফজাল আলীর ছেলে ইমন, বাঘা উপজেলার পাকুড়িয়া ইউনিয়নের পানিকামড়া এলাকার চিন্হিত মাদক কারবারি রয়েলের সঙ্গে বিভিন্ন সময় মতিউর রহমানকে দেখা গেছে। এছাড়া অত্র এলাকায় মাদকের কারবার, স্বর্নচোরা কারবারসহ বেশ গুরুপ্তপূর্ণ অভিযোগও উঠে এসেছে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, মতিউর বিভিন্ন সময়ে নিজেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা হিসেবে উপস্থাপন করেন এবং কখনো অস্ত্রসদৃশ বস্তু প্রদর্শন করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা, ব্যবহৃত অস্ত্রের প্রকৃতি কিংবা তার বৈধতা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
র্যাবের সদস্যদের কাছে পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন
মতিউর রহমানের একটি ছবি দেখিয়ে বাঘা উপজেলায় দায়িত্ব পালনকারী র্যাব-৫-এর এফএস সদস্যদের কাছে তার পরিচয় সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট একাধিক র্যাব সদস্য জানান, মতিউর রহমান তাদের পরিচিত নন এবং তিনি র্যাবের সদস্য কি না—এমন কোনো তথ্য তাদের জানা নেই।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে র্যাব-৫-এর এক কর্মকর্তা ছবিটি প্রসঙ্গে বলেন, ছবিতে র্যাবের পোশাক পরিহিত একজন ব্যক্তির সঙ্গে যে গাড়িটি দেখা যাচ্ছে, সাধারণ র্যাব সদস্যরা এ ধরনের প্রাইভেটকার ব্যবহার করেন না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ছবিটি আসল নাকি প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি বা পরিবর্তিত—সেটিও যাচাই প্রয়োজন।
তবে শুধু একটি ছবি দেখে কোনো ব্যক্তির পরিচয় বা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা যায় না। ছবিটি কখন, কোথায় এবং কী পরিস্থিতিতে ধারণ করা হয়েছে, সেটিও স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
প্রশাসনের যাচাই জরুরি
স্থানীয়দের প্রশ্ন, মতিউর রহমানের প্রকৃত পরিচয় কী? তিনি কোনো সরকারি বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত কি না? যুক্ত না থাকলে তিনি কীভাবে এসব পরিচয় ব্যবহার করছেন? আর মাদক কারবারিদের সঙ্গে তার কথিত যোগাযোগের পেছনে আসলে কী রয়েছে?
এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে তার জাতীয় পরিচয়, কর্মপরিচয়, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ব্যবহারের অভিযোগ এবং অস্ত্র প্রদর্শনের বিষয়টি প্রশাসনের পক্ষ থেকে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
বিশেষ করে একই উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজির অভিযোগে ইতোমধ্যে দুই ব্যক্তি আটকের পর, মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোও প্রশাসনের নজরে এনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর কোনোটি এখনো আদালত বা তদন্তে প্রমাণিত নয়। তাই তাকে কোনো অপরাধে জড়িত হিসেবে চূড়ান্তভাবে অভিহিত না করে তার পরিচয় ও অভিযোগগুলো যাচাই করাই হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।
এ বিষয়ে মতিউর রহমানের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার অবস্থানও যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।
এখন প্রশ্ন একটাই—আড়ানীতে দুইজন আটকের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় নিয়ে ওঠা অভিযোগের জাল কতদূর বিস্তৃত? আর সেই অনুসন্ধানে ‘মতিউর রহমান’ নামটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ—তা নির্ধারণ করবে প্রশাসনের যাচাই ও তদন্ত।