কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার পদ্মা নদীতে তলিয়ে নূরিয়া খাতুন (৭) নামে এক শিশু নিখোঁজ হয়েছে। এ ঘটনায় জামিলা খাতুন (৮) নামে অপর এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের ভূরকাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ নূরিয়া খাতুন উপজেলার জুনিয়াদহ গ্রামের আশিক শেখের মেয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দৌলতপুরের ভূরকাপাড়া এলাকায় পদ্মা নদীর ভাঙনরোধে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলছিল। এ সময় নূরিয়া ও জামিলা জিও ব্যাগের ওপর বসে খেলছিল। হঠাৎ নদীর পাড় ধসে জিও ব্যাগসহ দুই শিশু নদীতে পড়ে যায়। জামিলা কোনোভাবে সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও নূরিয়া প্রবল স্রোতে তলিয়ে যায়।
পরে জামিলা কান্নাকাটি করতে করতে স্থানীয়দের বিষয়টি জানায়। খবর পেয়ে এলাকাবাসী দ্রুত নদীর আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। তবে বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত নূরিয়া খাতুনের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
নৌ-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে ঈশ্বরদী নৌ-পুলিশ, ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিস এবং থানা পুলিশের সদস্যরা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন। পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় উদ্ধারকাজে কিছুটা বেগ পেতে হলেও শিশুটিকে উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, পদ্মার পাড় ধসে দুই শিশু নদীতে পড়ে যায়। এর মধ্যে একজনকে উদ্ধার করা গেলেও নূরিয়া খাতুন এখনও নিখোঁজ রয়েছে। তাকে উদ্ধারে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও নৌ-পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ শরিফুল ইসলাম বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করেছে। নদীতে প্রবল স্রোত থাকায় শিশুটি ভেসে অন্যত্র চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবুও তাকে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।