ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় গভীর রাতে বসতঘরের জানালা ভেঙে এক স্কুলছাত্রীকে (১৫) ঘর থেকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে সদরপুর উপজেলার ভাষাণচর ইউনিয়নের একটি গ্রামে।
গ্রেপ্তাররা হলেন—হেলাল মৃধা (২০), রইস শিকদার (১৬) ও রনি বেপারী (১৭)।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঘটনার রাতে ভুক্তভোগী কিশোরী তার ছোট ভাই ও ছোট বোনকে নিয়ে বাড়িতে অবস্থান করছিল। তার মা ও চাচা পরিবারের এক সদস্যের চিকিৎসার কারণে ফরিদপুরের একটি হাসপাতালে ছিলেন। এ সময় ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল বাড়িটি ঘিরে ফেলে। তারা প্রথমে দরজা খুলতে চাপ দেয়। ভেতর থেকে দরজা না খোলায় জানালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে কিশোরীকে চুল ধরে টেনে-হিঁচড়ে বাইরে নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগীর ছোট বোনের ভাষ্য, দুর্বৃত্তরা জোরপূর্বক তার বোনকে ঘর থেকে বের করে নিয়ে যায়। স্বজন ও প্রতিবেশীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাদের সরিয়ে দেয়।
ভুক্তভোগীর চাচার অভিযোগ, পরে কিশোরীকে মোটরসাইকেলে করে পাশের গ্রামের একটি পুকুরপাড়ে নিয়ে গিয়ে তিন যুবক পালাক্রমে ধর্ষণ করে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, রাত প্রায় ৩টার দিকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় কিশোরীকে বাড়ির উঠানে ফেলে রেখে পালিয়ে যাওয়ার সময় এলাকাবাসী ধাওয়া দিয়ে হেলাল মৃধা ও রইস শিকদারকে একটি মোটরসাইকেলসহ আটক করে। পরে তাদের সদরপুর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। পরবর্তীতে পুলিশ রনি বেপারীকে গ্রেপ্তার করে।
প্রতিবেশীরা জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এলাকায় জুয়া, মাদক এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে ভুক্তভোগীকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করছিল। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তারা বিরত হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিনের সেই উত্ত্যক্তের ধারাবাহিকতায় পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, অভিযুক্তরা একটি কিশোর গ্যাংয়ের প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছিল। গ্রেপ্তার তিনজন ছাড়াও মনির খান, মিঠুন সরদার, ইমন বেপারীসহ আরও কয়েকজন ওই গ্যাংয়ের সদস্য বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভাষাণচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ গোলাম কাওছার বলেন, ঘটনার বিষয়ে তিনি খোঁজখবর নিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন, মাদক ব্যবসা এবং কিশোর গ্যাং পরিচালনার সঙ্গে জড়িত।
ভুক্তভোগীর মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “শাশুড়ির অপারেশনের জন্য হাসপাতালে ছিলাম। খবর পেয়ে বাড়ি এসে মেয়ের এই অবস্থা দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছি। আমার মেয়েকে ঘর থেকে তুলে নিয়ে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। আমি জড়িত সবার সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”
এ বিষয়ে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আল মামুন শাহ বলেন, ঘটনাটি নিয়ে মামলা দায়ের করা হয়েছে। স্থানীয়দের হাতে আটক দুই আসামিকে শনিবার (১ আগস্ট) সকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পরে রনি বেপারী নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রকাশের আগে ঘটনাটির তারিখ, আদালতে প্রেরণের সময় এবং ভুক্তভোগীর চিকিৎসার সর্বশেষ অবস্থা সংশ্লিষ্ট থানা বা হাসপাতাল থেকে আরেক দফা যাচাই করে নেওয়া ভালো।