মস্তিষ্কের কোন পাঁচ রোগ নিয়ে সতর্ক থাকা জরুরি, চল্লিশের পরে হানা দিতে পারে যখন তখন

আপলোড সময় : ২৬-০৭-২০২৬ ০৬:৫৭:৩২ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৬-০৭-২০২৬ ০৬:৫৭:৩২ অপরাহ্ন
মস্তিষ্কের রোগ বলতে আগে ভাবা হত, ব্রেন স্ট্রোক। কিন্তু এখন ইন্টারনেটের দৌলতে অন্যান্য রোগের বিষয়েও সচেতনতা বেড়েছে। গবেষণা বলছে, বর্তমান সময়ের জীবনযাত্রার যা ধরন, তাতে মস্তিষ্ক বুড়িয়ে যাচ্ছে অকালেই। ক্ষয় ধরছে তাতে। ফলে নানা জটিল রোগ এসে হানা দিচ্ছে কম বয়সেই। মেনিনজাইটিস, ব্রেন টিউমার, ব্রেন ক্যানসারের মতো রোগের প্রকোপ বেড়েছে। চল্লিশ পার হলে মস্তিষ্কের যে যে রোগ নিয়ে সচেতন থাকতে হবে, সেগুলির লক্ষণ ও বৈশিষ্ট্য জেনে রাখা জরুরি।

ব্রেন স্ট্রোক

মস্তিষ্কের কোনও অংশে রক্ত সরবরাহ যখন হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায় অথবা মস্তিষ্কের কোনও রক্তনালি ফেটে গিয়ে ভিতরে রক্তক্ষরণ হয়, তখন তাকে স্ট্রোক বলা হয়। রক্ত সরবরাহ বন্ধ হলে অক্সিজেনের অভাবে মস্তিষ্কের কোষ বা স্নায়ুগুলি নষ্ট হতে থাকে।

উচ্চ রক্তচাপ, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবিটিস, রক্তে অতিরিক্ত খারাপ কোলেস্টেরল, ধূমপান, স্থূলতা এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপ স্ট্রোকের প্রধান কারণ। এ ছাড়া হার্টের কোনও সমস্যা (যেমন আর্টেরিয়াল ফাইব্রিলেশন) থাকলেও মস্তিষ্কে রক্তের জমাট বাঁধতে পারে। স্ট্রোক হলে হাত-পা অসাড় হতে থাকবে, মুখের একপাশ বেঁকে যেতে পারে, শরীরের এক দিক পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়তে পারে, রোগীর কথাবার্তা অসংলগ্ন হতে পারে।

ব্রেন ক্যানসার

ব্রেন টিউমার মানেই ক্যানসার নয়। আর ব্রেন ক্যানসার মানেই জীবন শেষ নয়। রোগ নির্ণয় এবং তার পরে যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে এর নিরাময় সম্ভব। বিশেষ এক ধরনের ব্রেন টিউমারকে গ্লায়োমা বলা হয়। এই গ্লায়োমা বা ব্রেন ক্যানসার মস্তিষ্কের যে কোনও অংশে হতে পারে।

খিঁচুনি, কানে কম শোনা, অনেক দিন ধরে মাথা ধরার মতো ঘটনা ব্রেন ক্যানসারের উপসর্গ। তাই শরীরে এমন কোনও লক্ষণ দেখতে পেলেই নিউরোসার্জনের সঙ্গে যোগাযোগ করা জরুরি।

মেনিনজাইটিস

মস্তিষ্ককে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য একটি স্বচ্ছ স্তর বা আবরণী থাকে, যাকে বলে মেনিনজেস। এটি যেমন বাইরের আঘাত থেকে মস্তিষ্ককে সুরক্ষা দেওয়ার কাজ করে, তেমনই আবার পুষ্টি জোগাতেও সাহায্য করে। মেনিনজেসে যদি কোনও কারণে সংক্রমণ বা প্রদাহ হয়, তখন তাকে বলা হয় মেনিনজাইটিস। ভাইরাস, ব্যাক্টেরিয়া, ছত্রাক বা কোনও পরজীবী সংক্রমণে মেনিনজাইটিস হতে পারে।

মেনিনজাইটিস মূলত স্নায়ঘটিত রোগ। ব্যাক্টেরিয়া বা ভাইরাস মস্তিষ্কে ঢুকলে সবার আগে মস্তিষ্কের কোষ ও স্নায়ুগুলিকেই আক্রমণ করে। ফলে খুব দ্রুত মস্তিষ্কের কোষের ক্ষয় হতে থাকে। ফলে এক দিকে যেমন মাথাঘোরা, বমি ভাব বা মাইগ্রেনের মতো লক্ষণ দেখা দিতে থাকে, তেমনই চিকিৎসা সঠিক সময়ে শুরু না হলে স্নায়বিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। প্রাণসংশয় হতে পারে রোগীর।

পার্কিনসন্স

আগে মনে করা হত বয়সকালের রোগ। কিন্তু পার্কিনসন্স হানা দিতে পারে অনেক আগেই। এই রোগের যে উৎস কোথায়, তা কেউ নির্দিষ্ট করে বলতে পারেন না। এ নিয়ে বিভিন্ন দেশে নিরন্তর গবেষণা চলছে। যদিও গবেষকেরা বলছেন, প্রাথমিক ভাবে দূষণের মাত্রা বেড়ে যাওয়া, খাবারে টক্সিনের উপস্থিতি এবং জিনঘটিত কারণে পার্কিনসন্সের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কোনও ব্যক্তি এই রোগে আক্রান্ত হলে মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষ বা নিউরন নষ্ট হতে থাকে। ফলে ব্যাহত হয় স্নায়বিক কার্যকলাপ এবং নড়াচড়ার উপর ক্রমেই নিয়ন্ত্রণ হারাতে থাকেন রোগী। দেহের ভারসাম্য নষ্ট হয়।

মৃগী রোগ

মৃগী হল স্নায়ুঘটিত রোগ। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই জিনগত কারণে এই সমস্যা দেখা যায়। তবে মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাত থেকেও মৃগী হতে দেখা গিয়েছে অনেকের। সদ্যোজাত থেকে শুরু করে বয়স্কদেরও এই রোগ হতে পারে। তবে কারণটা ভিন্ন। মস্তিষ্কের স্নায়ু কিংবা গঠনগত কোনও সমস্যা থাকলেও কিন্তু এই রোগ হানা দিতে পারে। মানুষের মস্তিষ্কে অসংখ্য সূক্ষ্ম স্নায়ুর ‘সার্কিট’ থাকে, যা শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সঞ্চালন নিয়ন্ত্রণ করে। সেই স্নায়ুর সার্কিটে অতিরিক্ত ‘স্পার্কিং’-এর কারণেই মৃগী রোগ দেখা দেয়। মৃগীর নানা ধরন আছে। উপসর্গও আলাদা। কারও খিঁচুনি বেশি হয়, কারও কম। রোগীর সমস্যাটি কোন পর্যায়ে রয়েছে, সেটা বোঝার জন্য এমআরআই এবং ইসিজি করার পরামর্শ দেওয়া হয়। রোগের মাত্রা বুঝে রোগীকে ওষুধ খেতে হয়।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]