বছরে হাজার টন হিরে তৈরি হয় শনিতে? নেপথ্যে বজ্রপাত?

আপলোড সময় : ২৫-০৭-২০২৬ ০৯:৪৬:৪১ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৫-০৭-২০২৬ ০৯:৪৬:৪১ অপরাহ্ন
সৌরজগতের বাকি গ্রহগুলির তুলনায় শনি যেন একটু দূরেরই। চাইলেও তাকে নিয়ে খুব বেশি গবেষণা করতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। বাদ সেধেছে তার বলয়। সেই সঙ্গে তার উপরে ভেসে থাকা মেঘ। বিজ্ঞানীদের ধারণা, শনির ভিতরে যে পরিবেশ, যে রাসায়নিক পরিবর্তন প্রতিনিয়ত হয়ে চলে, তাতে জল বা বরফের পরিবর্তে হিরে তৈরি হয় সেই গ্রহে। সেই পরিমাণও নেহাত কম নয়। বছরে হাজার টন হিরেও তৈরি হতে পারে।

শুনে মনে হতে পারে এ হয়তো কোনও কল্পবিজ্ঞান! কিন্তু বিজ্ঞানীদের দাবি, হিরে তৈরির জন্য যে পরিবেশ, যে উপকরণের প্রয়োজন হয়, তার সবই রয়েছে শনিতে। প্রচুর পরিমাণে কার্বন নিঃসরণ হয় সেখানে। বায়ুর চাপ এবং তাপও যথেষ্ট বেশি ওই গ্রহে। এই আবহে সেখানে প্রতি দিন হিরে তৈরি হওয়ার বিষয়টি অস্বাভাবিক নয়, এমনটাই যুক্তি বিজ্ঞানীদের। তাঁরা প্রাথমিক হিসাব করে জানিয়েছেন, বছরে শনিতে ১০০০ টন হিরে তৈরি হওয়াও অস্বাভাবিক নয়। হয়তো প্রতি বছর সেই হিরে তৈরি হয়, তার পরে গ্রহের অতলে ডুবে যায়। বিজ্ঞানীদের একাংশের মতে, শনির গভীরে যে পরিমাণ তাপ রয়েছে, তাতে বহু হিরে গলে তরলে পরিণত হয়ে থাকতে পারে।

এই প্রক্রিয়ার কোনও প্রত্যক্ষ প্রমাণ বিজ্ঞানীরা এখনও পাননি। কোনও মহাকাশযানেও তার ছবি ধরা পড়েনি। তবে বিজ্ঞানীরা শনির মতো একটি প্রতিকৃতি তৈরি করে তার উপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। তাতেই তাঁদের একাংশ নিশ্চিত হয়েছেন যে, শনিতে নিত্য দিন তৈরি হয় হিরে।

শনির বায়ুমণ্ডলে রয়েছে হাইড্রোজেন এবং হিলিয়াম। সেই সঙ্গে রয়েছে মিথেনও। উইসকনসিন-ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেভিন বাইনেস এবং নাসা যৌথ ভাবে একটি গবেষণা করেছে। বিবিসির প্রতিবেদনে সেই গবেষণার কথা প্রকাশিত হয়েছে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, শনিতে মাঝেমধ্যেই প্রবল ঝড় হয়। যখন বাজ পড়ে, তখন মিথেন গ্যাসের অণু ভেঙে যায়। তার ফলে যে কার্বন উৎপন্ন হয়, তা ভুসাকালিতে পরিণত হয়। সেই ভুসাকালি বায়ুমণ্ডলের মধ্যে দিয়ে ঝরে ঝরে পড়ে।

যত নীচে নামে সেই কার্বনকণা, তত সেখানে চাপ এবং তাপমাত্রা দুই-ই বৃদ্ধি পায়। বিজ্ঞানীদের ধারণা, সেই কার্বন তখন গ্রাফাইটে পরিণত হয়, যা পেনসিলের শিসে পাওয়া যায়। গ্রহের আরও গভীরে চাপ আরও বেশি। সেখানে গিয়েই সম্ভবত হিরেতে পরিণত হয় ওই কার্বনকণা, মনে করেন বিজ্ঞানীরা। তবে তাঁরা মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, পৃথিবীর চেয়ে শনি অনেক বড়। তার বায়ুমণ্ডলের ব্যাপ্তিও বিশাল। সেখানে এক এক জায়গায় বায়ুর চাপ এক এক রকম। সে কারণে কার্বনের বিভিন্ন রূপের মধ্যে দিয়ে যায়। সে ভাবেই এক সময় সে হিরেতেও পরিণত হয়।

বিজ্ঞানী বাইনে বিবিসি-কে বলেন, ‘‘আমরা বুঝেছি, শনিতে প্রতি বছর প্রায় ১০০০ টন হিরে তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে। লোকে বলে, কী ভাবে এ সব বলছেন? ওখানে গিয়ে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব নয়। তবে রাসায়নিক পরীক্ষার মাধ্যমে আমরা একপ্রকার নিশ্চিত।’’

তবে বাইনে এ-ও মনে করেন, সেই হিরের রূপেরও বদল ঘটে শনিতে। কারণ, সেখানকার তাপ এবং চাপ। গবেষকদের মতে, প্রায় ৩০ হাজার কিলোমিটার ঝরে পড়ার পরে হিরের টুকরো যেখানে পৌঁছোয়, সেখানে তাপ এবং চাপ এতটাই বেশি যে, তা তরলে পরিণত হয়। কেউ কেউ মনে করেন, শনিতে হয়তো তরল হিরের একটি সাগরও থাকতে পারে। তবে এই বিষয়ে নিশ্চিত নন বাইনে। অতিরিক্ত তাপ এবং চাপে হিরের কী অবস্থা হয়, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে বলে জানান তিনি। এই নিয়ে ভিন্ন মত রয়েছে অন্য বিজ্ঞানীদেরও। আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটির মতে, শনিতে হিরের বৃষ্টি হওয়ার মতো অত কার্বনই নেই। কার্বন থাকলেও তা স্ফটিকে পরিণত না হয়ে ছড়িয়েও পড়তে পারে। এই সব নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন বলেই মনে করেন বিজ্ঞানীরা।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]