তানোরে ৫০ ফিট রাস্তা এখন মরণ ফাঁদ

আপলোড সময় : ১৯-০৭-২০২৬ ০২:১৯:২৮ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ১৯-০৭-২০২৬ ০২:১৯:২৮ পূর্বাহ্ন
রাজশাহীর তানোরের সীমান্তবর্তী উত্তরাঞ্চলের অন্যতম চৌবাড়িয়া হাটের প্রবেশ মুখের রাস্তা এখন মরণফাঁদ।গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে রাস্তায় হাঁটু পানি জলাবদ্ধতা ও গভীর খানাখন্দে যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। মাত্র ৫০ ফুট রাস্তা এখন কয়েক উপজেলার মানুষের গলার কাঁটা।গত কয়েকদিন যাবত রাস্তার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় বইছে। 

কিন্তু উপজেলা এলজিইডির পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

জানা গেছে,সপ্তাহের প্রতি শুক্রবার উত্তরাঞ্চলের অন্যতম চৌবাড়িয়া পশু হাট বসে।রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে গরু-ছাগল ক্রেতা-বিক্রেতাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যাপারীরা (পাইকারি ক্রেতা) হাটে আসেন।কিন্ত্ত মাত্র ৫০ ফুট খানাখন্দে ভরা রাস্তা এখন তাদের গলার কাঁটা। তবে দু'একবার খানাখন্দে ইট দেয়া হয়েছিল।কিন্ত্ত নিম্নমাণের পুরাতন ইট দেয়ায় সেগুলো গলে কাঁদায় পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীগণ জানান, আগে গর্ত ছিল সেটা বোঝা যেত। কিন্তু ইট গলে কাঁদা-পানিতে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। এতে কোথায় গর্ত আর কোথায় গর্ত নাই সেটাই বোঝা যায় না। এছাড়াও তানোর-চৌবাড়িয়া রাস্তার বেলপুকুর মোড়, হাতিশাইল ও মালার মোড়ে রাস্তায় ভয়াবহ গর্তের সৃস্টি হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, বিগত ২০২২ সালে তানোর থেকে চৌবাড়িয়া হাট পর্যন্ত প্রায় ১৩ কিলোমিটার রাস্তা নতুন ভাবে করা হয়। কিন্ত্ত নতুনভাবে রাস্তা নির্মাণের কথা থাকলেও মালশিরা মোড় থেকে চৌবাড়িয়া  হাটের সিএনজি স্ট্যান্ড পর্যন্ত শুধুমাত্র সীলকোট করা হয়। অথচ এক কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণে এক কোটি টাকার উপরে ব্যয়  দেখানো হয়। 

সুত্র জানায়,তানোর উপজেলা মোড় থেকে চৌবাড়িয়া হাট পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করেন রাজশাহী শহরের ওই সময়ের আলোচিত ঠিকাদার ওয়াসিম। এই ১০ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় প্রায় ১১ কোটি টাকা।

এনিয়ে উপজেলা প্রকৌশলী নুর নাহার জানান, রাস্তাগুলো নির্মানের পর থেকে অতিরিক্ত ভারি যানবাহন চলাচল করার কারনে টেকসই হয়নি। আর হাটে প্রবেশের রাস্তাটি নিচু। এজন্য সব পানি রাস্তায় জমে থাকে। রাস্তাটি উঁচু ভাবে আরসিসি করা হবে।

এদিকে এলজিইডির ৩২ লাখ টাকার টেন্ডার নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। সুত্র বলছে, জুন ক্লোজিংয়ের সময় তড়িঘড়ি করে অতি গোপনে ৩২ লাখ টাকার টেন্ডার দিয়েছেন প্রকৌশলী নুর নাহার বেগম। জুন ক্লোজিংয়ের পর বিষয়টি প্রকাশ পায়।  স্থানীয় ঠিকাদারেরা বিষয়টি জানতে পারেন। প্রকৌশলীর এমন কান্ডে ক্ষুব্ধ হয়ে পড়ে জনসাধারণ। 

স্থানীয় ঠিকাদারেরা জানান, অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে হিসাব সহকারী গোলাম মুর্তুজা, প্রকৌশলী এবং এক এসও'র যোগসাজশে গোপণে টেন্ডার কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। প্রকৌশলী কাউকে বুঝতে না দিয়ে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজগুলো দিয়েছেন।পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে টেন্ডার দেয়া হলে স্বচ্ছতা ও জবাব দিহিতা থাকত। একইসঙ্গে  সরকার পেতো বড় অঙ্কের  রাজস্ব। কিন্তু জুন ক্লোজিংয়ে হরিলুটের উদ্দেশ্যে প্রকৌশলী এসব করেছেন বলে মনে করছেন ঠিকাদারগণ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক এসও বলেন, এই প্রকৌশলী পার্শ্ববর্তী উপজেলা মোহনপুরে দায়িত্বে থাকা কালীন তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম  অভিযোগ উঠে। সকল কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে তাকে তানোর উপজেলায় বদলি করা হয়। এখানে এসেও তিনি একই ধরনের কর্মকান্ড শুরু করেছেন। তথ্য চাইলে তথ্য না দেয়া,ঠিকাদারসহ গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ইত্যাদি নানা অভিযোগ উঠেছে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকৌশলী নুর নাহার জানান, ৩২ লাখ টাকার গোপনে টেন্ডার হয়নি। পাঁচটি প্যাকেজে ইউজিপি টেন্ডার দেয়া হয়েছে। টেন্ডারের মাধ্যমে টিন, সেলাই মেশিন কেনা হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এমপি স্যার এগুলো বিতরণ করবেন।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]