চট্টগ্রামে আকস্মিক বন্যায় লন্ডভন্ড সাতকানিয়া

আপলোড সময় : ১৭-০৭-২০২৬ ০৫:২৮:৪৭ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৭-০৭-২০২৬ ০৫:২৮:৪৭ অপরাহ্ন
টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যার পানি নেমে গেছে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায়। পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার কাঁচা-পাকা সড়ক, কৃষিজমি, মাছের ঘের, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বসতঘরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র বেরিয়ে এসেছে।

উপজেলা প্রশাসনের প্রাথমিক হিসাবে এ উপজেলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১০০ কোটি টাকার বেশি।

উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও শিক্ষা বিভাগের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পৌরসভা এলাকা, উপজেলার নলুয়া, আমিলাইষ, পশ্চিম ঢেমশা, চরতি, বাজালিয়া, কেঁওচিয়া, এওচিয়া, সোনাকানিয়া, কাঞ্চনা, মাদার্শা,ধর্মপুর, পুরানগড় ও খাগরিয়া ইউনিয়নে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আলমগীর বলেন, বন্যার সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে। এখনও চূড়ান্ত হিসাব তৈরি হয়নি।

সরেজমিনে গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ডলু খালের বন্যার পানির প্রবল স্রোতে পৌরসভার সামিয়ার পাড়ার মোহাম্মদ সেলিম নামে এক ব্যক্তির পাকা একতলা ঘর ও মোহাম্মদ জাফরের টিনশেড ঘর ধসে পড়ে আছে। এর আগে বন্যা চলাকালে পানির স্রোতে এসব ঘরবাড়ি ধসে পড়ে বলে জানান তারা।

একইভাবে পৌরসভার রামপুর বায়তুশ শরফ মাদ্রাসার উত্তর পাশের প্রধান সড়ক ডলু খাল সংলগ্ন পশ্চিম দিকের সড়কে মুছে গেছে ইট-সুড়কির চিহৃ। একসময়ের ব্যস্ততম সড়কটিতে বন্যার পানি নেমে গিয়ে অন্তত ৩০ থেকে ৩০ ফুটের গভীর গর্ত সৃষ্টি হয়েছে।

একই অবস্থা গোলার ঘাট এলাকায়ও। অনেক সড়কের কার্পেটিং উঠে গেছে, কোথাও কোথাও বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। কালভার্টের সংযোগ সড়ক ধসে পড়ায় কিছু এলাকায় মানুষ বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করে চলাচল করছেন। 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আমনের বীজতলা, আউশ ধান, শাকসবজি, পান, পেঁপে বাগান এবং মিশ্র ফলের বাগানসহ বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় সাড়ে ১৬ হাজারের বেশি কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কৃষিখাতে প্রাথমিক ক্ষতির পরিমাণ ধরা হয়েছে প্রায় ৬০ কোটি টাকা।

উপজেলা মৎস্য বিভাগের হিসাবে, বন্যায় ৩ হাজার ৫৭৫টি পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫৭৫ হেক্টর পুকুর ও দীঘি। বন্যার পানিতে ভেসে গেছে ১ হাজার ৪৬০ মেট্রিক টন মাছ ও ১৮ লাখ পোনা। অবকাঠামোসহ এই খাতে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৩৭ কোটি টাকা।

প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ খাতে প্রাথমিক ক্ষতির পরিমাণ সাড়ে ১০ কোটি টাকা।

সাতাকানিয়া সুতা প্রক্রিয়াকরণ কাজে নিয়োজিত ‘চরকী সমিতির’ সভাপতি মনজুর আলম জানান, বন্যায় অন্তত ৮০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই খাতে ৫ হাজার শ্রমিক কর্মরত ছিলেন। এখন তারা অলস সময় পার করছেন।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তথ্যমতে,  বন্যায় ক্ষতির পরিমাণ তিন কোটির টাকার বেশি।

উপজেলার সোনাকানিয়া ইউনিয়নের ইউনিয়নের সবজি চাষি রফিকুল ইসলাম, মোহাম্মদ ইউনুচ জানান, বন্যার পানিতে কাঁকরোল, ঝিঙে, বেগুন ও ঢেঁড়সের ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে।

আমন চাষি সমশু, দিদার, কালাম ,বশর, নেজাম, মতলব বন্যায় তাদের ধানের বীজতলা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাওয়ার কথা জানান।

বাজালিয়া ইউনিয়নের মৎস্যচাষি আবদুল হান্নান বলেন, ঘেরের বাঁধ ভেঙে সব মাছ ভেসে গেছে। কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

সাতকানিয়া পৌরসভার সামিয়ার পাড়ার মোহাম্মদ সেলিম বলেন, বন্যার পানিতে একতলা পাকা বাড়ি সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে।

সোনাকানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোহাম্মদ মাহাদিন জানায়, বন্যায় তাদের স্কুলের যাতায়াতের সড়কটি ভেঙে গেছে। বিকল্প পথ দিয়ে স্কুলে যেতে অনেক সময় লাগছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, পানি পুরোপুরি নেমে গেলে মাঠপর্যায়ে আবারও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করা হবে। প্রাথমিকভাবে বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০ কোটি টাকা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রণোদনার প্রস্তাব পাঠানো হবে।

উপজেলা প্রকৌশলী সবুজ কান্তি দে জানান, বন্যায় ৪৫টি সড়ক ক্ষতি হয়েছে, যার দৈর্ঘ্য ৩৮ দশমিক ৫ কিমি, ৬টি কালভার্ট, ১টি পানির স্ট্রাকচার ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)মো, খন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, বিভিন্ন দপ্তর প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করেছে। কয়েকটি ইউনিয়নে এখনও পানি পুরোপুরি সরেনি। তাই হিসেব করতে আরও সময় লাগবে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, কৃষক ও মৎস্য চাষিদের সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও অবকাঠামো দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]