প্রথমবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামছেন মেসি

আপলোড সময় : ১৫-০৭-২০২৬ ০৫:২৭:২৮ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৫-০৭-২০২৬ ০৫:২৭:২৮ অপরাহ্ন
বিশ্ব ফুটবলে প্রায় সব অর্জনই এরই মধ্যে নিজের করে নিয়েছেন লিওনেল মেসি। তবে দীর্ঘ দুই দশকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে একটি অধ্যায় এতোদিনও অপূর্ণ ছিলো- ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কখনো মাঠে নামা হয়নি তার। ৩৯ বছর বয়সে এসে সেই অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে।

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মতো মহারণেই প্রথমবারের মতো ইংলিশদের মুখোমুখি হচ্ছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা, যেখানে ব্যক্তিগত আর দলীয়-দুই ইতিহাসই ছোঁয়ার সুযোগ তার সামনে।

২০০৫ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে আর্জেন্টিনার জার্সিতে স্বপ্নচলা শুরু হয়েছিলো রোজারিওর ছেলে মেসির। এর আগের বছরের শেষ দিকে বার্সেলোনার মূল দলে জায়গা করে নেওয়ার পর নেদারল্যান্ডসে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।

সেই বছরের আগস্টে বুদাপেস্টে হাঙ্গেরির বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে কোচ হোসে পেকারম্যান তাকে আর্জেন্টিনার হয়ে অভিষেকের সুযোগ দেন। ৬৪তম মিনিটে লিসান্দ্রো লোপেজের বদলি হিসেবে মাঠে নেমে তিনি হার্নান ক্রেসপোর সঙ্গে আক্রমণভাগে যোগ দেন।

কিন্তু মাঠে নামার মাত্র ৯০ সেকেন্ড পরই কনুই দিয়ে আঘাত করার অভিযোগে রেফারি তাকে লাল কার্ড দেখান। এ কারণে আর্জেন্টিনার হয়ে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সূচনাটা ছিলো সত্যিই বিব্রতকর।

ক্রেসপো তখন বলেছিলেন, ১৮ বছরের একটি ছেলে, যে জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক করছে এবং যার সামনে অনেক স্বপ্ন- তাকে এভাবে শাস্তি দেওয়া উচিত হয়নি। রেফারির আরও সহানুভূতিশীল হওয়া দরকার ছিলো।

ওই লাল কার্ডের কারণে তিন মাস পর সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে তিনি খেলতে পারেননি। এরপর থেকে দুই দেশের আর মুখোমুখি হওয়া হয়নি। ফলে আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে এবারই প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবেন মেসি।

শেষ আটে কানসাস সিটিতে সুইজারল্যান্ডকে হারানোর পর মেসি বলেন, ইংল্যান্ড ছাড়া প্রায় সব দলের বিপক্ষেই আমি খেলেছি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলাটা বিশেষ, কারণ তারা একটি বড় ফুটবল শক্তি। এমন একটি দলের বিপক্ষে, তাও আবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলতে পারা সবসময়ই দারুণ ব্যাপার।

চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার মতোই আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জিতিয়ে কিংবদন্তির কাতারে নাম লিখিয়েছিলেন মেসি। এবার তিনি আশা করছেন, ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও তার সেই পূর্বসূরির মতোই স্মরণীয় ছাপ রেখে যেতে পারবেন।

এই দুই দেশের যেকোনো লড়াই মানেই মনে পড়ে ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো সিটির অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালের কথা। সেই ম্যাচে ম্যারাডোনা হাত দিয়ে বল জালে পাঠিয়ে গোল করেছিলেন। পরবর্তীতে যা ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের তকমা পায়। এরপর ইংল্যান্ডের অর্ধেক রক্ষণভাগকে কাটিয়ে করেন আরেকটি অসাধারণ গোল, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসের এখনো অন্যতম সেরা গোল হিসেবে বিবেচিত।

চলতি টুর্নামেন্টে সেমিফাইনালের আগে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় সবার ওপরে উঠেছেন মেসি। বিশ্বকাপে রেকর্ড ৩২টি ম্যাচে ২১ গোল করেছেন তিনি।

ইন্টার মায়ামির এই তারকা সুইজারল্যান্ড ম্যাচের আগে টানা নয়টি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করেছিলেন। তবে ওই ম্যাচে তিনি গোল করার দায়িত্বটা অন্যদের ওপর ছেড়ে দেন। এখন আরেকটি বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠা থেকে মাত্র এক ম্যাচ দূরে আর্জেন্টিনা। তাদের লক্ষ্য ১৯৬২ সালের ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখা।

এটি হলে চারটি বিশ্বকাপের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে উঠবে আর্জেন্টিনা। একই সঙ্গে মেসি অনুসরণ করতে পারবেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুল-ব্যাক কাফুর কীর্তি। কাফু ১৯৯৪ থেকে ২০০২ পর্যন্ত টানা তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেছিলেন।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]