পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার গৌরীগ্রাম ইউনিয়নের হারিয়াকাহন গ্রামে এক বুদ্ধি ও বাকপ্রতিবন্ধী নারীকে (৩০) ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠার পর ঘটনাটি থানায় না জানিয়ে গ্রাম্য সালিশে মাত্র ২০টি জুতার আঘাতের শাস্তি দিয়ে মীমাংসা করে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে আজ সোমবার (১৩ জুলাই) গণমাধ্যমে যৌথ বিবৃতি পাঠিয়েছে ‘ইয়ুথ এ্যাকশন ফর সোশ্যাল চেঞ্জ - ইয়্যাস’ ও ‘ভঙ্গী নৃত্য শিল্পালয়’ নামের দেশের দুটি যুব ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের তথ্যানুযায়ী, গত বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে ভুক্তভোগীর মা পাশের বাড়িতে গেলে প্রতিবেশী মহব্বত আলী খাঁ (৪৫) তার ঘরে প্রবেশ করে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। ভুক্তভোগীর চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এলে অভিযুক্ত পালিয়ে যান। এরপর ঘটনাটি চার দিন গোপন রাখার পর গত ১২ জুলাই সন্ধ্যায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, একাধিক ইউপি সদস্য ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি গ্রাম্য সালিশ বসে, যেখানে অভিযুক্তকে শারীরিক শাস্তি হিসেবে ২০টি জুতার আঘাত করে বিষয়টি নিষ্পত্তি করে দেওয়া হয়। সালিশের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
যুব সংগঠন ‘ইয়ুথ এ্যাকশন ফর সোশ্যাল চেঞ্জ - ইয়্যাস’-এর প্রতিষ্ঠাতা - সভাপতি, লেখক উন্নয়ন ও অধিকারকর্মী (শ্রেষ্ঠ যুব সম্মাননাপ্রাপ্ত) মো. শামীউল আলীম শাওন এবং ‘ভঙ্গী নৃত্য শিল্পালয়’-এর সাধারণ সম্পাদক মো. রবিন শেখ যৌথ বিবৃতিতে এই ঘটনাকে দেশের বিচারব্যবস্থা, সুশাসন ও মানবাধিকারের ওপর একটি চরম আঘাত হিসেবে অভিহিত করেন।
তাঁরা বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ধারা ৯(৪)(খ) অনুযায়ী ধর্ষণচেষ্টা একটি আমলযোগ্য ও সম্পূর্ণ অ-আপসযোগ্য অপরাধ, যার বিচার কেবল বিশেষ ট্রাইব্যুনালেই সম্ভব; স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের এই সালিশি উদ্যোগ আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং সংবিধানের ২৭ ও ৩১ অনুচ্ছেদে বর্ণিত সমতা ও ন্যায়বিচারের অধিকারের পরিপন্থী।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩-এর আওতায় বিশেষ সুরক্ষা প্রাপ্য একজন নারীর অসহায়ত্বকে পুঁজি করে সামান্য শাস্তিতে বিষয়টি মিটিয়ে ফেলা প্রকারান্তরে অপরাধীকে ভবিষ্যৎ অপরাধে উৎসাহিত করার শামিল। একইসঙ্গে অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার এই প্রচেষ্টা দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ২০১ ও ২১২ অনুযায়ী পৃথক অপরাধ বলেও উল্লেখ করা হয়।
সংগঠনদ্বয়ের নেতৃবৃন্দ যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, ‘সাঁথিয়া থানা পুলিশ কেবল লিখিত অভিযোগের অজুহাতে কালক্ষেপণ করছে, অথচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার সুস্পষ্ট ভিডিও প্রমাণ রয়েছে। জনপ্রতিনিধিরা যেখানে ভুক্তভোগীকে সুরক্ষা দেবেন, সেখানে তাঁরাই অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। এই বিচারহীনতার প্রহসন অবিলম্বে বন্ধ হওয়া দরকার।’
সংগঠনদ্বয়ের ৪ দফা দাবি সূমহ হলো:
১. অভিযুক্ত মহব্বত আলী খাঁ-কে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
২. বেআইনি সালিশ আয়োজনের দায়ে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের ফৌজদারি মামলায় গ্রেপ্তার এবং সাময়িক বরখাস্ত করে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করতে হবে।
৩. ভাইরাল ভিডিও ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পুলিশকে লিখিত অভিযোগের অপেক্ষা না করে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে মামলা রুজু করতে হবে এবং জনপ্রতিনিধিদের জন্য বাধ্যতামূলক আইনি সচেতনতা প্রশিক্ষণ চালু করতে হবে।
৪. ভুক্তভোগী নারী ও তাঁর পরিবারের জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং ও সর্বোচ্চ আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
বিবৃতিতে সংগঠনদ্বয় জানায়, ভুক্তভোগী প্রকৃত ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত তারা বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করবে এবং প্রয়োজনে আরও কর্মসূচি ঘোষণা করবে।
বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের তথ্যানুযায়ী, গত বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে ভুক্তভোগীর মা পাশের বাড়িতে গেলে প্রতিবেশী মহব্বত আলী খাঁ (৪৫) তার ঘরে প্রবেশ করে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। ভুক্তভোগীর চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এলে অভিযুক্ত পালিয়ে যান। এরপর ঘটনাটি চার দিন গোপন রাখার পর গত ১২ জুলাই সন্ধ্যায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, একাধিক ইউপি সদস্য ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি গ্রাম্য সালিশ বসে, যেখানে অভিযুক্তকে শারীরিক শাস্তি হিসেবে ২০টি জুতার আঘাত করে বিষয়টি নিষ্পত্তি করে দেওয়া হয়। সালিশের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
যুব সংগঠন ‘ইয়ুথ এ্যাকশন ফর সোশ্যাল চেঞ্জ - ইয়্যাস’-এর প্রতিষ্ঠাতা - সভাপতি, লেখক উন্নয়ন ও অধিকারকর্মী (শ্রেষ্ঠ যুব সম্মাননাপ্রাপ্ত) মো. শামীউল আলীম শাওন এবং ‘ভঙ্গী নৃত্য শিল্পালয়’-এর সাধারণ সম্পাদক মো. রবিন শেখ যৌথ বিবৃতিতে এই ঘটনাকে দেশের বিচারব্যবস্থা, সুশাসন ও মানবাধিকারের ওপর একটি চরম আঘাত হিসেবে অভিহিত করেন।
তাঁরা বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ধারা ৯(৪)(খ) অনুযায়ী ধর্ষণচেষ্টা একটি আমলযোগ্য ও সম্পূর্ণ অ-আপসযোগ্য অপরাধ, যার বিচার কেবল বিশেষ ট্রাইব্যুনালেই সম্ভব; স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের এই সালিশি উদ্যোগ আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং সংবিধানের ২৭ ও ৩১ অনুচ্ছেদে বর্ণিত সমতা ও ন্যায়বিচারের অধিকারের পরিপন্থী।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩-এর আওতায় বিশেষ সুরক্ষা প্রাপ্য একজন নারীর অসহায়ত্বকে পুঁজি করে সামান্য শাস্তিতে বিষয়টি মিটিয়ে ফেলা প্রকারান্তরে অপরাধীকে ভবিষ্যৎ অপরাধে উৎসাহিত করার শামিল। একইসঙ্গে অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার এই প্রচেষ্টা দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ২০১ ও ২১২ অনুযায়ী পৃথক অপরাধ বলেও উল্লেখ করা হয়।
সংগঠনদ্বয়ের নেতৃবৃন্দ যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, ‘সাঁথিয়া থানা পুলিশ কেবল লিখিত অভিযোগের অজুহাতে কালক্ষেপণ করছে, অথচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার সুস্পষ্ট ভিডিও প্রমাণ রয়েছে। জনপ্রতিনিধিরা যেখানে ভুক্তভোগীকে সুরক্ষা দেবেন, সেখানে তাঁরাই অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। এই বিচারহীনতার প্রহসন অবিলম্বে বন্ধ হওয়া দরকার।’
সংগঠনদ্বয়ের ৪ দফা দাবি সূমহ হলো:
১. অভিযুক্ত মহব্বত আলী খাঁ-কে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
২. বেআইনি সালিশ আয়োজনের দায়ে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের ফৌজদারি মামলায় গ্রেপ্তার এবং সাময়িক বরখাস্ত করে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করতে হবে।
৩. ভাইরাল ভিডিও ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পুলিশকে লিখিত অভিযোগের অপেক্ষা না করে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে মামলা রুজু করতে হবে এবং জনপ্রতিনিধিদের জন্য বাধ্যতামূলক আইনি সচেতনতা প্রশিক্ষণ চালু করতে হবে।
৪. ভুক্তভোগী নারী ও তাঁর পরিবারের জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং ও সর্বোচ্চ আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
বিবৃতিতে সংগঠনদ্বয় জানায়, ভুক্তভোগী প্রকৃত ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত তারা বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করবে এবং প্রয়োজনে আরও কর্মসূচি ঘোষণা করবে।