পর্তুগালের ফুটবলার পেদ্রো নেটোর জুতো দেখে খানিক অবাক হয়েছিলেন সকলে। এ কেমন জুতো? গোড়ালির কাছে কাটা। প্রশ্ন উঠেছিল, ছেঁড়া জুতো পরে কি খেলতে নেমেছিলেন পেদ্রো? উত্তর, না। জুতো ছেঁড়েনি। উল্টে গোড়ালির কাছে জুতোর কিছুটা অংশ কেটে খেলতে নেমেছিলেন তিনি। কিন্তু কেন?
শুধু পেদ্রো নন, আরও অনেক ফুটবলারকে দেখা গিয়েছে এ রকম জুতো পরে খেলতে। অতীতে ব্রাজ়িলের ফিলিপে কুটিনহো, রবার্ট ফির্মিনহো, জার্মানির ম্যাটস হামেলস বা ইটালির ড্যানিয়েল ডে রসিও গোড়ালির কাছে জুতো কেটে খেলতে নেমেছেন। তার একমাত্র কারণ, ‘হাগলান্ডস ডিফরমিটি’।
কী এই ‘হাগলান্ডস ডিফরমিটি’?
এটি পায়ের এক বিশেষ সমস্যা। এই সমস্যায় গোড়ালির পিছনের অংশের হাড় বেড়ে যায়। ঠিক তার কাছেই থাকে আখিসিল টেন্ডন। ফুটবলারদের ক্ষেত্রে এই আখিলিস টেন্ডন খুব গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে চোট পেলে অনেক সময় কেরিয়ার শেষ হয়ে যায়।
১৯২৭ সালে সুইডেনের এক চিকিৎসক প্যাট্রিক হাগলান্ড প্রথম এই রোগ ধরেছিলেন। তার পর থেকে তাঁর নামে একে ‘হাগলান্ডস ডিফরমিটি’ বলা হয়। ১০০ বছর পরে ফুটবলে এই রোগ অনেকের মধ্যেই দেখা যাচ্ছে।
পায়ের এই বিশেষ সমস্যা থাকলে জুতো পরার পর গোড়ালির কাছে ব্যথা হয়। সেই সময় খেলা বা দৌড়ানো দূর, হাঁটতেও কষ্ট হয়। তাই ও ভাবে জুতোর একটা অংশ কেটে নেন ফুটবলারেরা। তাতে গোড়ালির উপর চাপ পড়ে না। হাড়ের বেরিয়ে থাকা অংশ একটু জায়গা পায়। ফলে খেলতে আর সমস্যা হয় না।
এই প্রসঙ্গে অস্থি বিশেষজ্ঞ মাইকেল রবসন বলেছেন, “গোড়ালির কাছে হাড় বেড়ে যাওয়ার পর আশপাশে যে পেশিতন্তু থাকে, সেখানে চাপ দিতে থাকে। তাতে এমনিতেই যন্ত্রণা হয়। সেই অবস্থায় গোড়ালি ঢাকা জুতো পরে খেলা অসম্ভব।”
ফিফার মেডিক্যাল সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে কাজ করা চিকিৎসক বার্থোলোমিয়ো হাডসন জানিয়েছেন, জুতো কেটে না পরলে গুরুতর সমস্যা হতে পারে ফুটবলারদের। তিনি বলেছেন, “গোড়ালির কাছে কিছু পেশিতন্তু আছে যারা চাপ সহ্য করে। কিন্তু গোড়ালির পিছনের দিকের হাড় বেড়ে গেলে সেই পেশিতন্তু বাধাপ্রাপ্ত হয়। বেশি চাপ পড়লে গোড়লি ফুলে যেতে পারে। হাড় আরও বেড়ে যেতে পারে। তাতে কেউ হাঁটার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলতে পারেন।”
জুতো কেটে পরলে কতটা সুবিধা?
পেদ্রো কোনও দিন প্রকাশ্যে বলেননি, তাঁর জুতো বিশেষ ভাবে তৈরি করা হয়, না তিনি নিজেই তা কেটে পরেন। কিন্তু যদি কোনও ফুটবলারের পায়ে ‘হাগলান্ডস ডিফরমিটি’ থাকে তা হলে এ ভাবে জুতো পরলে আরাম পাওয়া যায়।
হাডসন বলেছেন, “এ ভাবে জুতো কেটে পরলে গোড়ালির ওই অংশের সঙ্গে জুতোর ঘর্ষণ কম হয়। ফলে ফুটবলারদের খেলতে সমস্যা হয় না। এখন ক্লাব ফুটবলে হামেশাই এই ঘটনা দেখা যাচ্ছে। ফুটবলে এখন এই সমস্যা খুবই সাধারণ।”
পুরোপুরি এই সমস্যা দূর করা যায় না। তবে যত্ন করলে কমানো যায়। তার জন্য গোড়ালির ওই অংশে যতটা সম্ভম চাপ কম দিতে হয়। তবে ফুটবলারদের তো সেই উপায় নেই। ম্যাচে প্রচুর চাপ পড়ে গোড়ালির উপর। তা হলে?
হাডসন বলেছেন, “খেলা তো আর থামানো যাবে না। ব্যথায় নিয়েই খেলতে হবে। বিশেষ করে বিশ্বকাপের ফাইনাল হলে তো আর কথাই নেই।” তবে ব্যথা কমানো সম্ভব। হাডসনের কথায়, “প্রয়োজন মতো জুতো বদলে, ফিজিয়োথেরাপি, শকওয়েভ থেরাপি, ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে ব্যথা কমানো যায়। অফ সিজ়নে পায়ের বিশেষ যত্ন নিতে হয়। তবে একেবারে তা মেটানো যায় না।”
অর্থাৎ, পেদ্রো, কুটিনহো, হামেলসদের এই সমস্যা ভবিষ্যতেও অনেক ফুটবলারের মধ্যে দেখা যাবে। জুতো কেটেই তাঁদের নামতে হবে বিশ্বমঞ্চে। জেতাতে হবে দলকে। ফ্যাশন নয়, বরং প্রয়োজনে বাকিদের থেকে আলাদা জুতো পরে মাঠে নামবেন সেই ফুটবলারেরা।
শুধু পেদ্রো নন, আরও অনেক ফুটবলারকে দেখা গিয়েছে এ রকম জুতো পরে খেলতে। অতীতে ব্রাজ়িলের ফিলিপে কুটিনহো, রবার্ট ফির্মিনহো, জার্মানির ম্যাটস হামেলস বা ইটালির ড্যানিয়েল ডে রসিও গোড়ালির কাছে জুতো কেটে খেলতে নেমেছেন। তার একমাত্র কারণ, ‘হাগলান্ডস ডিফরমিটি’।
কী এই ‘হাগলান্ডস ডিফরমিটি’?
এটি পায়ের এক বিশেষ সমস্যা। এই সমস্যায় গোড়ালির পিছনের অংশের হাড় বেড়ে যায়। ঠিক তার কাছেই থাকে আখিসিল টেন্ডন। ফুটবলারদের ক্ষেত্রে এই আখিলিস টেন্ডন খুব গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে চোট পেলে অনেক সময় কেরিয়ার শেষ হয়ে যায়।
১৯২৭ সালে সুইডেনের এক চিকিৎসক প্যাট্রিক হাগলান্ড প্রথম এই রোগ ধরেছিলেন। তার পর থেকে তাঁর নামে একে ‘হাগলান্ডস ডিফরমিটি’ বলা হয়। ১০০ বছর পরে ফুটবলে এই রোগ অনেকের মধ্যেই দেখা যাচ্ছে।
পায়ের এই বিশেষ সমস্যা থাকলে জুতো পরার পর গোড়ালির কাছে ব্যথা হয়। সেই সময় খেলা বা দৌড়ানো দূর, হাঁটতেও কষ্ট হয়। তাই ও ভাবে জুতোর একটা অংশ কেটে নেন ফুটবলারেরা। তাতে গোড়ালির উপর চাপ পড়ে না। হাড়ের বেরিয়ে থাকা অংশ একটু জায়গা পায়। ফলে খেলতে আর সমস্যা হয় না।
এই প্রসঙ্গে অস্থি বিশেষজ্ঞ মাইকেল রবসন বলেছেন, “গোড়ালির কাছে হাড় বেড়ে যাওয়ার পর আশপাশে যে পেশিতন্তু থাকে, সেখানে চাপ দিতে থাকে। তাতে এমনিতেই যন্ত্রণা হয়। সেই অবস্থায় গোড়ালি ঢাকা জুতো পরে খেলা অসম্ভব।”
ফিফার মেডিক্যাল সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে কাজ করা চিকিৎসক বার্থোলোমিয়ো হাডসন জানিয়েছেন, জুতো কেটে না পরলে গুরুতর সমস্যা হতে পারে ফুটবলারদের। তিনি বলেছেন, “গোড়ালির কাছে কিছু পেশিতন্তু আছে যারা চাপ সহ্য করে। কিন্তু গোড়ালির পিছনের দিকের হাড় বেড়ে গেলে সেই পেশিতন্তু বাধাপ্রাপ্ত হয়। বেশি চাপ পড়লে গোড়লি ফুলে যেতে পারে। হাড় আরও বেড়ে যেতে পারে। তাতে কেউ হাঁটার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলতে পারেন।”
জুতো কেটে পরলে কতটা সুবিধা?
পেদ্রো কোনও দিন প্রকাশ্যে বলেননি, তাঁর জুতো বিশেষ ভাবে তৈরি করা হয়, না তিনি নিজেই তা কেটে পরেন। কিন্তু যদি কোনও ফুটবলারের পায়ে ‘হাগলান্ডস ডিফরমিটি’ থাকে তা হলে এ ভাবে জুতো পরলে আরাম পাওয়া যায়।
হাডসন বলেছেন, “এ ভাবে জুতো কেটে পরলে গোড়ালির ওই অংশের সঙ্গে জুতোর ঘর্ষণ কম হয়। ফলে ফুটবলারদের খেলতে সমস্যা হয় না। এখন ক্লাব ফুটবলে হামেশাই এই ঘটনা দেখা যাচ্ছে। ফুটবলে এখন এই সমস্যা খুবই সাধারণ।”
পুরোপুরি এই সমস্যা দূর করা যায় না। তবে যত্ন করলে কমানো যায়। তার জন্য গোড়ালির ওই অংশে যতটা সম্ভম চাপ কম দিতে হয়। তবে ফুটবলারদের তো সেই উপায় নেই। ম্যাচে প্রচুর চাপ পড়ে গোড়ালির উপর। তা হলে?
হাডসন বলেছেন, “খেলা তো আর থামানো যাবে না। ব্যথায় নিয়েই খেলতে হবে। বিশেষ করে বিশ্বকাপের ফাইনাল হলে তো আর কথাই নেই।” তবে ব্যথা কমানো সম্ভব। হাডসনের কথায়, “প্রয়োজন মতো জুতো বদলে, ফিজিয়োথেরাপি, শকওয়েভ থেরাপি, ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে ব্যথা কমানো যায়। অফ সিজ়নে পায়ের বিশেষ যত্ন নিতে হয়। তবে একেবারে তা মেটানো যায় না।”
অর্থাৎ, পেদ্রো, কুটিনহো, হামেলসদের এই সমস্যা ভবিষ্যতেও অনেক ফুটবলারের মধ্যে দেখা যাবে। জুতো কেটেই তাঁদের নামতে হবে বিশ্বমঞ্চে। জেতাতে হবে দলকে। ফ্যাশন নয়, বরং প্রয়োজনে বাকিদের থেকে আলাদা জুতো পরে মাঠে নামবেন সেই ফুটবলারেরা।