অসুস্থতার সুযোগে টিপসই নিয়ে জমি আত্মসাতের অভিযোগ, শেষ সম্বল ফেরত চান বৃদ্ধা মা

আপলোড সময় : ০৭-০৭-২০২৬ ০৯:০৮:৪৯ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৭-০৭-২০২৬ ০৯:০৮:৪৯ অপরাহ্ন
জীবনের শেষ বয়সে এসে নিজের শেষ সম্বল তিন কাঠা জমি ফিরে পেতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর খুটিপাড়া এলাকার বৃদ্ধা শহর বানু।

তার অভিযোগ, অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে বড় ছেলে আলম জোরপূর্বক টিপসই নিয়ে তার নামে থাকা জমি নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নিয়েছেন। জমি ফেরতের দাবি জানাতে গিয়ে এখন মেয়ে ও পরিবারের সদস্যরা হামলা, মিথ্যা মামলা এবং প্রাণনাশের হুমকির শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন শহর বানু। তার পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পুত্রবধূ মুক্তি খাতুন।

শহর বানু বলেন, তিনি অসুস্থ থাকাকালে বড় ছেলে আলম জোর করে তার টিপসই নেন। পরে সেই টিপসই ব্যবহার করে তার শেষ সম্বল তিন কাঠা জমি নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেন। তিনি বলেন, "আমার শেষ সম্বল ছিল ওই জমি। আমি আমার জমি ফেরত চাই।"

বৃদ্ধার মেয়ে সুফিয়া বেগম বলেন, তাদের মা আগেই সন্তানদের মধ্যে সম্পত্তি ভাগ করে দিয়েছিলেন। কেবল তিন কাঠা জমি তার নিজের নামে ছিল, যা ছিল তার শেষ ভরসা। কিন্তু অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে কৌশলে সেই জমি রেজিস্ট্রি করে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করায় তাকে হামলা, মিথ্যা মামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

লিখিত বক্তব্যে মুক্তি খাতুন জানান, দীর্ঘদিন ধরে জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে তাদের পরিবার হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অপপ্রচারের শিকার হচ্ছে। একই এলাকার সুজন, নুসরাত জাহান বিউটি ও আলমের সঙ্গে তাদের জমি নিয়ে বিরোধ চলমান রয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, গত ১০ জুন তাদের বাড়িতে প্লাস্টারের কাজ চলাকালে মিস্ত্রি জমির পাশের কাঁটা সরাতে গেলে প্রতিপক্ষ বাধা দেয় এবং বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় সুফিয়া বেগমের মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন এবং তার মাথায় একাধিক সেলাই দিতে হয়। এ সময় মুক্তি খাতুনসহ পরিবারের অন্য সদস্যদেরও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়।

এ ছাড়া হামলার সময় সুফিয়া বেগমের গলায় থাকা প্রায় আট আনি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া, শ্লীলতাহানির চেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

মুক্তি খাতুন বলেন, ঘটনার পর পুঠিয়া থানায় অভিযোগ করেও কার্যকর প্রতিকার না পেয়ে তারা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। জমি-সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে বর্তমানে পুঠিয়া উপজেলা ভূমি অফিসে একটি মিসকেসও চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, "আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আইন অনুযায়ী যে সিদ্ধান্ত হবে, আমরা তা মেনে নেব। কিন্তু আমাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানিমূলক মামলা দেওয়া হচ্ছে।"

লিখিত বক্তব্যে আরো অভিযোগ করা হয়, অভিযুক্তদের মধ্যে প্রেমতলী ডিগ্রি কলেজের শিক্ষিকা নুসরাত জাহান বিউটিও রয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, গত ২৮ জুন বিভিন্ন গণমাধ্যমে নুসরাত জাহান বিউটি ও তার চতুর্থ স্বামীকে জড়িয়ে তার মেয়ের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে। মেয়ের অভিযোগের বরাত দিয়ে বলা হয়, দেনমোহরের অর্থের লোভে অন্যত্র বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় তাকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়, জোর করে ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয় এবং পেটে লাথি মারার ফলে গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে যায়। ওই ঘটনায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া এবং একটি মামলা দায়েরের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়।

মুক্তি খাতুন বলেন, একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলন থেকে হামলার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং উভয় পক্ষের দায়ের করা মামলার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানো হয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আলমের ছেলে সুজন বলেন, জমি নিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে তিনবার সালিশ হয়েছে। তার দাবি, সংশ্লিষ্ট জমির কোনো অস্তিত্ব হোল্ডিং রেকর্ডে নেই। তিনি বলেন, "সুফিয়া বেগম আমার আপন ফুফু। তারা জোরপূর্বক জায়গাটি দখল করতে চাইছেন।"

সুফিয়া বেগমের ওপর হামলার অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তার কিছু জানা নেই। তবে নুসরাত জাহান বিউটির বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ এবং শহর বানুর টিপসই নিয়ে জমি রেজিস্ট্রির অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বানেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক দুলাল বলেন, বিষয়টি তাকে আগে কেউ জানাননি। তবে দুই দিন আগে একটি অনুষ্ঠানে ওই পরিবারের সদস্যরা তাকে বিষয়টি অবহিত করেন। তিনি বলেন, বৃদ্ধা শহর বানু প্রয়োজনীয় পারিবারিক সহযোগিতা পাচ্ছেন না বলেও তার কাছে অভিযোগ করা হয়েছে।

পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম বলেন, থানায় কেউ আইনি সহযোগিতা চাইলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিষয়টি পারিবারিক ও জমি-সংক্রান্ত বিরোধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। অভিযোগ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]