শ্যাম্পু, লেবু, কারিপাতা নয়, খুশকিনাশের মহৌষধ অন্যত্র, জেনেনিন

আপলোড সময় : ২৮-০৬-২০২৬ ০৭:১৯:০৭ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৮-০৬-২০২৬ ০৭:১৯:০৭ অপরাহ্ন
শ্যাম্পু করলে উধাও। অথচ তার কয়েক ঘণ্টা পরে আবার মাথার ত্বকে সরসরানি। চুলকালেই নখের গোড়ায় সাদাসাদা গুঁড়ো গুঁড়ো পদার্থ। চুলকোনো জায়গাটিতে জ্বালা ভাব। চুল আঁচড়াতে গেলে চিরুনিতে গোছা গোছা চুল আর তার সঙ্গে ছোট ছোট মৃত চামড়ার গুঁড়ো। সকালে শ্যাম্পু করে রাতের মধ্যেই এমন খুশকি ফিরে আসার অভিজ্ঞতাও রয়েছে অনেকের। আবার কারও মাথায় আঙুল বুলিয়ে ঘষলে বৃষ্টির মতো ঝরে পড়েছে খুশকি। পড়তেই থেকেছে। তা মাটিতে জমেছে ধুলোর মতো। খুশকির সমস্যা বাড়লে, তা কোন জায়গায় পৌঁছতে পারে, তা যাঁরা ভুক্তভোগী, তাঁরাই জানেন।

সমস্যার সমাধানে ইন্টারনেট ঘেঁটে নানা ধরনের শ্যাম্পু ব্যবহার করেন অনেকেই। কেউ আবার হাজার হাজার টাকা ব্যয় করে দ্বারস্থ হন গালভারী দাবি করা হেয়ার ক্লিনিকের। কিন্তু সমস্যার সমাধান এত জটিল নয়। খুশকির সমস্যাকে দূর করতে হলে খুশকিকে বুঝতে হবে। বুঝতে হবে, কেন তা হয়।

খুশকি কেন হয়?
মাথার ত্বকে ‘ম্যালাসেজিয়া’ নামের এক ধরনের ছত্রাক বা ইস্ট থাকে। অতিরিক্ত তেল, ঘাম, গরম, এমনকি, অতিরিক্ত মানসিক চাপও সেই ছত্রাকের বংশবৃদ্ধিতে সাহায্য করে। আর যখন ওই ছত্রাকের বংশবৃদ্ধি হয়, তখনই খুশকির সমস্যার ভিত গড়তে শুরু করে। ছত্রাকের আধিক্য মাথার ত্বকে প্রদাহ তৈরি করে। এতে ত্বকের কোষ নিষ্প্রাণ হয়ে দ্রুত ঝরে পড়তে শুরু করে। আর এই ঝরে পড়া মৃত কোষই খুশকি।

খুশকি মূলত দু’প্রকার
তৈলাক্ত খুশকি : এক ধরনের খুশকি হয় হলদেটে এবং কিছুটা চটচটে। এগুলি চুল থেকে সহজে ঝরে পড়ে না। বরং চুলের গোড়ায় বা মাথার ত্বকে লেগে থেকে অবিরত চুলকানি ভাব তৈরি করে। মাথার ত্বককে সংবেদনশীল করে দেয়। তাই চুলকোলে সহজেই ত্বক কেটে-ছড়ে যায়। জ্বালা করে। তা থেকে সংক্রমণের আশঙ্কা আরও বাড়ে। ওই ধরনের খুশকি হল তৈলাক্ত খুশকি। যাঁদের মাথার ত্বকে অতিরিক্ত তেল থাকে, তাঁদের এ ধরনের খুশকির ঝুঁকি বেশি। গরমে আর ঘামে এ ধরনের খুশকি মাত্রাছাড়া বাড়ে।

শুষ্ক খুশকি : মাথায় হাত দিয়ে অল্প ঘষলেই ঝুরঝুর করে ছড়িয়ে পড়ে গুঁড়ো গুঁড়ো শুকনো চামড়া। এই ধরনের খুশকি কাঁধে, পিঠে, কপালে এমনকি মুখের উপরেও ঝড়ে পড়তে পারে। যা থেকে ত্বকে সংক্রমণ হয়ে ব্রণও হতে পারে। এ ধরনের খুশকির নেপথ্য কারণও ওই একই ছত্রাক। কিন্তু শুষ্ক ত্বকে তার প্রভাব আলাদা। শীতে ওই ধরনের খুশকির প্রাবল্য বাড়ে। তবে গরমেও যে হয় না, তা নয়। কেউ যদি ভাবেন মাথার ত্বকের শুষ্ক ভাব তেল দিলেই যাবে এবং খুশকি হবে না, তা কিন্তু নয়। ওই ধরনের খুশকির সম্ভাবনা তাতে মোটেই কমবে না।

গরমকালের খুশকি
গরমের অতিরিক্ত তাপ, রোদ মাথার ত্বকে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। ত্বকের কোষ দ্রুত নিষ্প্রাণ হয়। মৃতকোষ বাড়ে। তা ছাড়া ভ্যাপসা গরমে অর্থাৎ যেখানে বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রা বেশি, বেশি ঘাম হয়, তেমন আবহাওয়ায় মাথায় ঘাম এবং তেল জমে বেশি। তাতে ম্যালাসেজিয়া ছত্রাক মহা আনন্দে বাড়ে। এ ছাড়া গরমে দীর্ঘ ক্ষণ হেলমেট পরে থাকলে বা ভিজে চুল বেঁধে রাখলেও ম্যলাসেজিয়া ছত্রাক সক্রিয় হয়। বার বার ফিরে ফিরে আসে।

সমাধান করতে কী করবেন?
শ্যাম্পু বাছতে হবে বুঝে: শুধু শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুলে হয়তো কয়েক ঘণ্টার জন্য চুল থেকে মৃতকোষ দূর হবে। কিন্তু যে মুহূর্তে মাথা ঘামবে, তৈলাক্ত হবে, সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হবে অস্বস্তি। তাই এমন শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে, যা ছত্রাকের বংশবৃদ্ধি কমাতে পারে। বিভিন্ন ওষুধের দোকানে ওই ধরনের ছত্রাকনাশক শ্যাম্পু পাওয়া যায়। চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে ওই ধরনের শ্যাম্পু কিনুন এবং ব্যবহার করুন।

নিয়মিত দেখভাল: খুশকি সাময়িক ভাবে কমে গেলেও শ্যাম্পু ব্যবহার করা বন্ধ করা যাবে না। খুশকি দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা। তাই কিছু দিন অন্তর অন্তর ওই বিশেষ শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধোয়ার অভ্যাস করতে হবে। প্রথমে ২-৩ দিন অন্তর এক বার পরে এক সপ্তাহ অন্তর এবং তার পরে মাসে দু’ বার অন্তত ব্যবহার করা উচিত।

সতর্ক থাকতে যা যা করবেন
১। মাথার ত্বক ঘেমে গেলে অবশ্যই ভাল ভাবে জল দিয়ে মাথা ধুয়ে নিন। সম্ভব না হলে পাখার হাওয়ায় ভাল ভাবে শুকিয়ে নিন চুল। ভিজে ভাব থাকলেই খুশকি হবে।

২। ভেজা চুল বেঁধে রাখবেন না। ঘেমে যাওয়া চুলও বাঁধা যাবে না।

৩। হেলমেট, স্কাল ক্যাপ বা চিরুনি নিয়মিত পরিষ্কার রাখা উচিত।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]