​রাজশাহীর পুঠিয়ায় বাক্প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ

আপলোড সময় : ২৩-০৬-২০২৬ ০৯:১৭:৫৩ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৩-০৬-২০২৬ ০৯:১৭:৫৩ অপরাহ্ন
পুঠিয়া পৌরসভায় আম কুড়ানোর কথা বলে এক বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী শিশুকে (১৬) পাটক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে রফিক মিস্ত্রি (৫৫) নামের এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে। শনিবার দুপুরে পুঠিয়া পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ঝলমলিয়া সরকারপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

​অভিযুক্ত রফিক মিস্ত্রি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে স্থানীয় ‘ভাই ভাই ট্রাভেলস’-এর মালিক মুকুলের বাড়িতে গৃহকর্মী (চাকর) হিসেবে কাজ করছেন। ঘটনার পর গতকাল রাতে অভিযুক্ত রফিক মিস্ত্রিকে গ্রেফতার করেন পুঠিয়া থানা পুলিশ।
‎
‎​ভুক্তভোগী শিশুটি জন্ম থেকেই বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী। ঘটনার পর প্রতিবেদকের সামনে তার মা যখন ইশারায় জানতে চান কী ঘটেছিল, তখন শিশুটির চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছিল। সে ইশারায় এবং আধো-বোলে উপস্থিত সবার সামনে সেই ভয়াবহ নির্যাতনের বিবরণ দেয়। অভিযুক্ত বৃদ্ধ তার সঙ্গে কী কী করেছে, তা বোঝানোর পাশাপাশি পেটের প্রচণ্ড ব্যথায় বারবার কেঁদে উঠছিল শিশুটি। প্রতিবন্ধী শিশুটির এই আকুতি ও কান্নায় উপস্থিত স্থানীয় প্রতিবেশীরাও চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি।
‎
‎​ভুক্তভোগী শিশুর মা জানান, ঘটনার দিন দুপুরে বাড়িতে প্রায় ২০ জন আত্মীয় আসায় তিনি রান্নাবান্নায় ব্যস্ত ছিলেন। বাড়ির বাইরে রোদে দেওয়া ভুট্টা পাহারা দিচ্ছিল তার প্রতিবন্ধী মেয়েটি। এ সময় প্রতিবেশী মুকুলের বাড়ির গৃহকর্মী রফিক মিস্ত্রি তাকে আম কুড়ানোর লোভ দেখিয়ে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর বাড়ির পাশের ওয়াদ আলীর পাটক্ষেতের ভেতরে নিয়ে শিশুটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।
‎
‎​অনুসন্ধানে জানা গেছে, অভিযুক্ত রফিক মিস্ত্রি ৫ সন্তানের জনক। তার চার স্ত্রীর মধ্যে চারিত্রিক সমস্যার কারণে ৩ জনই তাকে তালাক দিয়ে চলে গেছেন। বর্তমানে তিনি এক স্ত্রীকে নিয়ে ওই এলাকাতেই থাকেন। এর আগেও তিনি এলাকায় নারীদের উত্ত্যক্ত করা ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন, তবে লোকলজ্জার ভয়ে সেসব বিষয় ধামাচাপা পড়ে যায়।
‎
‎​তবে ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করে রফিক মিস্ত্রি দাবি করেন, ‘আমি এই ঘটনার সাথে জড়িত নই। শিশুটি আমার নাতনির মতো। তাকে আম কুড়াতে নিয়ে গিয়েছিলাম। এক বাগানে আম না পেয়ে পাটক্ষেতের ভেতর দিয়ে অন্য আরেকটি আম বাগানে নিয়ে গিয়েছিলাম মাত্র।’
‎
‎​এ বিষয়ে পুঠিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফরিদুল ইসলাম জানান, পুঠিয়া থানায় ধর্ষণ মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগী কে ফরেন রিপোর্টের জন্য (রামেক) হাসপাতালে পাঠানো হবে। আসামিকে আটক করে কোর্টের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হবে।
‎
‎​ভুক্তভোগী পরিবারটি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে এবং তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]