বিশ্বে প্রথম এইচআইভি আক্রান্তের শরীরে ফুসফুস প্রতিস্থাপনে সফল্য

আপলোড সময় : ২২-০৬-২০২৬ ০৭:০৬:১৭ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২২-০৬-২০২৬ ০৭:০৬:১৭ অপরাহ্ন
মারণ রোগকেও জয় করা যায়! আইচআইভি আক্রান্তকেও দীর্ঘ জীবন দেওয়ার পথ খুঁজে পেলেন আমেরিকার চিকিৎসকেরা। ‘হিউম্যান ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস’ শরীরে বাসা বাঁধলে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তছনছ করে দেয়। সামান্য সংক্রমণও প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। এমন রোগীর শরীরে অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা তাই অসম্ভব একটি বিষয় ছিল। এডসের রোগীর হার্ট, কিডনি বা ফুসফুস বিকল হতে শুরু করলে, তাঁকে বাঁচানোর কোনও পথ ছিল না। এ বার তা সম্ভব হবে। কারণ, আমেরিকার এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোন হেল্‌থের চিকিৎসকেরা বিশ্বে প্রথম বার এইচআইভি পজিটিভ দাতার শরীর থেকে ফুসফুস নিয়ে তা সফল ভাবে প্রতিস্থাপন করেছেন এইচআইভি পজিটিভ গ্রহীতার শরীরে। সে প্রতিস্থাপন সফল হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়াটিকে অনুমোদন দিয়েছে আমেরিকার ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ)।

এইচআইভি থাকলে অঙ্গ প্রতিস্থাপন বিপজ্জনক হতে পারে। তার কিছু কারণ আছে। প্রথমত, জানতে হবে রোগটি হলে শরীরের ভিতরে কী কী ঘটে। মানব শরীরে যে কোনও ভাইরাস বা ব্যাক্টেরিয়া ঢুকতে গেলে তাদের কোনও বাহক বা রিসেপটরের দরকার হয়। মানুষের শরীরে এমনই বাহক কোষ খুঁজে নেয় ভাইরাস। তার পর ঢুকে পড়ে কোষের ভিতরে। সেখানে বংশবিস্তার করে সংখ্যায় বাড়তে শুরু করে। আক্রান্ত হতে থাকে একের পর এক কোষ। এ ভাবেই ধীরে ধীরে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিকল হতে থাকে। এইচআইভি-১ ভাইরাস মানব শরীরে ঢোকার জন্য যে বাহক খুঁজে নেয়, তার নাম সিসিআর-৫। এক বার এই বাহককে আশ্রয় করে শরীরে ঢুকে গেলে সবচেয়ে আগে তা রক্তের শ্বেতকণিকা ও রোগ প্রতিরোধী কোষগুলিকে নষ্ট করতে থাকে। ফলে শরীরের সুরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভাবে ভেঙে পড়ে। তাই এইচআইভি আক্রান্ত রোগীকে নানা রকম ওষুধ দিয়ে তাঁর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়। এমন রোগীর যদি হার্ট, কিডনি বা ফুসফুস বিকল হতে থাকে, তা হলে সেটি প্রতিস্থাপন করতে হলে রোগীকে ইমিউনোসাপ্রেস্যান্ট জাতীয় ওষুধ দিতে হবে। শরীর যাতে নতুন অঙ্গটি প্রত্যাখ্যান না করে, সে কারণে ওষুধ খেয়ে যেতে হবে। আর এমন ওষুধ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও দমিয়ে রাখে। ফলে অঙ্গ প্রতিস্থাপন হলেও রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা কমে যাবে।

দ্বিতীয়ত, দাতার শরীর থেকে নেওয়া অঙ্গের সঙ্গে আরও কিছু জীবাণুও শরীরে ঢুকবে। সে সব যদি গ্রহীতার শরীরেও সংখ্যায় বাড়তে থাকে, তা হলে তাঁকে বাঁচানোই মুশকিল হয়ে যাবে।

এই সমস্যার সমাধানে চিকিৎসকেরা অ্যান্টি-রেট্রোভিয়াল থেরাপি প্রয়োগ করে কেবল এইচআইভি আক্রান্ত দাতার শরীর থেকেই অঙ্গ নিয়ে তা এইচআইভি আক্রান্ত গ্রহীতার শরীরে প্রতিস্থাপন করেছেন। অ্যান্টি-রেট্রোভিয়াল থেরাপি করে ভাইরাসের বিভাজন থামিয়ে দেওয়া যায়। ভাইরাস যদি সংখ্যায় বাড়তেই না পারে, তা হলে রোগও দ্রুত ছড়াবে না। রোগীর সেরে ওঠার সম্ভাবনা থাকবে। এই থেরাপির আরও একটি সুবিধা হল, এটি করলে দাতার শরীর থেকে কোনও রোগজীবাণু গ্রহীতার শরীরে ঢুকতে পারবে না। ফলে গ্রহীতার শরীরে রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকবে না। রোগীর বেঁচে থাকার সময়কালও বাড়বে।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]