বাগমারায় কৃষিজমিতে দুই বছরে বেড়েছে ১ হাজার ৭৮৯টি পুকুর, চলছে মাটি বাণিজ্যে

আপলোড সময় : ২১-০৬-২০২৬ ০৬:২৮:৪৩ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২১-০৬-২০২৬ ০৬:২৮:৪৩ অপরাহ্ন
রাজশাহীর কৃষিপ্রধান উপজেলা বাগমারায় উদ্বেগজনক হারে কৃষিজমির শ্রেণি পরিবর্তন করে পুকুর খনন ও উর্বর মাটি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। তিন ফসলি জমি কেটে পুকুরে রূপান্তর এবং জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি অপসারণের ফলে কৃষি উৎপাদন, পরিবেশ ও জনজীবনে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে দাবি স্থানীয় কৃষক ও সচেতন নাগরিকদের।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ধানি জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে পুকুর খনন করা হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষিজমির মাটি কেটে ট্রলি ও বিভিন্ন যানবাহনের মাধ্যমে ইটভাটা ও অন্যত্র বিক্রি করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে এসব কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, মাড়িয়া ইউনিয়নের নিমপাড়া মৌজা, গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের দুলালিপাড়া, শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের ধামিনকৌড় পশ্চিম বিল, যোগীপাড়া ইউনিয়নের শান্তিপুর, বারোইহাটি (মাদাইমুড়ি স্কুল সংলগ্ন এলাকা), ঝিকড়া ইউনিয়নের বারুইপাড়া ও রাজরামপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে পুকুর খনন ও মাটি বিক্রির কার্যক্রম চলছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মাটি বহনকারী ট্রলির কারণে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব সড়কে চলাচলে ভোগান্তি তৈরি হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতের আঁধারে বিশেষ করে রাত ৯টার পর থেকে ভোর পর্যন্ত মাটি কাটার কাজ চলে। দিনের বেলা এসব কার্যক্রম অনেকটাই বন্ধ রাখা হয়।

রাজরামপুর গ্রামের বাসিন্দা সাদ্দাম অভিযোগ করেন, সরকারি বন্দোবস্তপ্রাপ্ত কৃষিজমিও পুকুরে পরিণত করা হয়েছে। তিনি বলেন, এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করলে তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, অবৈধ মাটি ও পুকুর ব্যবসার সঙ্গে জড়িত একটি প্রভাবশালী মহল দীর্ঘদিন ধরে কোটি টাকার মাটি বাণিজ্য করে আসছে। এর ফলে আবাদি জমির পরিমাণ কমছে এবং প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছে।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, দুই বছর আগে বাগমারা উপজেলায় পুকুরের সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৮৮৫টি। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৬৭৪টিতে। অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে নতুন করে ১ হাজার ৭৮৯টি পুকুর খনন হয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি।

উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, অবৈধ পুকুর খনন বন্ধে বিভিন্ন সময়ে গোয়ালকান্দি, গণিপুর, পারিলা বিল, গেরদিগোপাল, মাড়িয়া, ভবানীগঞ্জ, ঝিকড়া, শুভডাঙ্গা, যোগীপাড়া ও মচমইল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে একটি এক্সকাভেটর জব্দ, নোটিশ প্রদান এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে জরিমানা ও কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিজমির শ্রেণি পরিবর্তন দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। ভূমি ব্যবহার নীতিমালা অনুযায়ী তিন ফসলি জমিতে পুকুর খনন নিরুৎসাহিত করা হলেও বাস্তবে আইন অমান্যের অভিযোগ বাড়ছে। অনুমোদন ছাড়া মাটি উত্তোলন বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ (সংশোধিত) অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।

বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আহমেদ বলেন, অবৈধ মাটি কাটা ও পুকুর খননের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান নিয়মিত চলছে। গত মাসেই সংশ্লিষ্ট আইনে ২৯টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে ব্যবহৃত একাধিক এক্সকাভেটর মেশিন অকার্যকর করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে জড়িত ব্যক্তিদের পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হচ্ছে।

রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম জানান, কেউ যদি প্রশাসনের নাম ব্যবহার করে অবৈধ পুকুর খননের অনুমতির কথা বলে, তাহলে দ্রুত স্থানীয় প্রশাসনকে জানাতে হবে। অনিয়মের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

এলাকাবাসীর দাবি, অবৈধ পুকুর খনন ও মাটি ব্যবসা বন্ধে আরও কঠোর অভিযান, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার এবং কৃষিজমি রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]