যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দিতে প্রস্তুত ইরানের গোপন সেল

আপলোড সময় : ১৯-০৬-২০২৬ ০৪:৫৪:৪৬ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৯-০৬-২০২৬ ০৪:৫৪:৪৬ অপরাহ্ন
ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা বা সামরিক ঘাঁটি রয়েছে এমন উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে একটি নতুন গোপন সেল গঠন করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। আটটি ইরাকি সূত্রের বরাতে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন বা পশ্চিমা গোয়েন্দাদের নজরদারি এড়াতে এই সেলগুলো ইরাকের প্রতিষ্ঠিত মিলিশিয়া নেটওয়ার্কের সম্পূর্ণ বাইরে থেকে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। 

রয়টার্সের তিনটি সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছরের ২০ এপ্রিল থেকে ১৭ মে-র মধ্যে এই নতুন সেলগুলো কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে অন্তত সাতটি ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এই হামলাগুলো মূলত ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বসরা ও সামাওয়ার কাছাকাছি প্রত্যন্ত মরুভূমি এলাকা থেকে পরিচালনা করা হয়।

সূত্রগুলোর দেওয়া তথ্যমতে, গঠিত তিন বা চারটি সেলের প্রতিটিতে প্রায় ১০ জন করে ইরাকি শিয়া যোদ্ধা রয়েছেন। তাদের অনেককেই ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ নামের জোটভুক্ত বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী থেকে বাছাই করে নেওয়া হয়েছে। তবে নতুন এই সেলগুলো ওই জোটের প্রথাগত কমান্ড কাঠামোর বাইরে থেকে সরাসরি আইআরজিসির শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে জবাবদিহি করে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর সক্ষমতা কমে যাওয়া এবং দেশটির সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পদের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ার প্রেক্ষাপটে আইআরজিসি তাদের দীর্ঘদিনের রণকৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। ইরাকের পাঁচজন স্থানীয় মিলিশিয়া কমান্ডারের মতে, নতুন এই গোপন সেল গঠন তেহরানের সেই কৌশলগত পরিবর্তনেরই একটি বড় প্রতিফলন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একযোগে ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’-এর ব্যানারে পরিচালিত গোষ্ঠীগুলো দেশটিতে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনায় ডজনখানেক ড্রোন ও রকেট হামলার দায় স্বীকার করেছে। তবে ইরাকের ভেতরে ইরানের প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর বড় ধরনের কোনো দৃশ্যমান তৎপরতা সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যায়নি।

মূলত গত বছর থেকে ইরাকের কয়েকটি প্রভাবশালী শিয়া গোষ্ঠী আঞ্চলিক সংঘাত এড়াতে অস্ত্র ত্যাগ করে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে মনোযোগ দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে আসছিল। অবসরপ্রাপ্ত ইরাকি সেনা জেনারেল জাসিম আল-বাহাদলি এবং ইরাকের শাসক জোটের দুজন আইনপ্রণেতার মতে, স্থানীয় মিলিশিয়াদের এই রাজনৈতিক অবস্থানের কারণেই আইআরজিসি সরাসরি তাদের নিজস্ব নিয়ন্ত্রণে নতুন ও অনুগত গোষ্ঠী গঠনে উৎসাহিত হয়ে থাকতে পারে।

শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী বিষয়ে বিশেষজ্ঞ আল-বাহাদলি বলেন, আইআরজিসি কর্তৃক গঠিত নতুন এই দলগুলো আকারে তুলনামূলকভাবে বেশ ছোট, আদর্শিকভাবে অনেক বেশি কঠোর এবং ইরানের দ্বারা অধিক নিয়ন্ত্রিত। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে ও তীব্র অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার সীমিত রাখার কৌশলগত প্রয়োজন থেকেই ইরান এমন ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]