আমলীচুকাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মানের দাবি

আপলোড সময় : ১৭-০৬-২০২৬ ০৭:৫৫:২৭ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৭-০৬-২০২৬ ০৭:৫৫:২৭ অপরাহ্ন
বগুড়ার গাবতলী উপজেলার কাগইল ইউনিয়নের অন্তর্গত ​গ্রামীণ মনোরম পরিবেশে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল আমলীচুকাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

দীর্ঘ চার দশক ধরে শিক্ষা বিস্তারে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। কিন্তু বর্তমানে বিদ্যালয়ের ভগ্নদশা ও অবকাঠামোগত সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠদান এবং শিক্ষকদের প্রশাসনিক কার্যক্রম চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

বিদ্যালয়ের করুণ দশা দেখে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

​সরেজমিনে বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা গেছে, বর্তমান সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে বিদ্যালয়টির অবকাঠামোর কোনো উন্নয়ন হয়নি। দীর্ঘদিনের পুরোনো ভবনটি এখন জরাজীর্ণ। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়া যেন নিত্যদিনের ঘটনা। ভবনের বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় ফাটল ধরেছে, যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। ​সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয় বর্ষা মৌসুমে। অতি বৃষ্টির সময় পুরোনো ভবনের ছাদের ছিদ্র দিয়ে অবিরাম পানি পড়ে ফলে ক্লাসরুমের ভেতরেই সৃষ্টি হয় বৃষ্টির পানি। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা চালিয়ে যেতে হচ্ছে। অনেক সময় শ্রেণিকক্ষে বৃষ্টির পানি থেকে রক্ষা পেতে শিক্ষার্থীদের ছাতা মাথায় দিয়ে ক্লাস করতে হয়। যে বয়সে শিক্ষার্থীদের নিশ্চিন্তে পাঠদান গ্রহণের কথা, সেই বয়সে তাদের আতঙ্কে দিন কাটাতে হচ্ছে। মেধাবী শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান ও ইসরাফিল হোসেন জানান, যেকোনো সময় ছাদ ধসে তাদের উপর পড়ে যেতে পারে। শিক্ষার পরিবেশ ভালো হলেও জানমালের নিরাপত্তা ঝুঁকির ফলে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক ভাবে মানসিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে।

​শুধু পাঠদান নয়, বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকান্ডের মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অতিবৃষ্টি হলে প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় বা অফিস কক্ষের অবস্থাও শোচনীয় হয়ে পড়ে। ছাদ চুঁইয়ে পড়া পানিতে অফিসের মেঝে ভিজে যায়, ফলে মূল্যবান দাপ্তরিক কাগজপত্র ও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও বিদ্যালয়টিতে শ্রেণিকক্ষের তীব্র সংকট রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের পাঠদান গ্রহণে বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। বিদ্যালয়টির চারপাশে সীমানা প্রাচীর না থাকায় অনিরাপদ পরিবেশ বিরাজ করছে, যা ছোট শিশুদের জন্য আরও ঝুঁকিপূর্ণ।

​বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোছাঃ মুর্শিদা বেগম জানান, আমরা বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ অবস্থা সম্পর্কে জানিয়েছি।

তিন কক্ষের বিদ্যালয় ভবনটি অতি পুরনো হওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমরা পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছি, কিন্তু এভাবে চলতে থাকলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। আমরা দ্রুত নতুন ভবন ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

সহকারী শিক্ষক মেহেদুল ইসলাম জানান, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রাণের ঝুঁকি এড়াতে অতিদ্রুত একটি নতুন ভবন নির্মাণ প্রয়োজন।

​স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন এলাকাবাসী দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসনের সুদৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তাঁদের দাবি, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রাণের ঝুঁকি এড়াতে এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে অতি দ্রুত একটি নতুন ভবন নির্মাণ করা প্রয়োজন।

গাবতলী উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মাদ আলী সিদ্দিক জানান, বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেছি এবং তথ্য ছকের আবেদনের ভিত্তিতে বিদ্যালয়টির ভবন অতি পুরনো। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]