সকালে এক চামচ ঘি! হজমশক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি ত্বকেও আনতে পারে স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা

আপলোড সময় : ১২-০৬-২০২৬ ০৬:১১:৫৪ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১২-০৬-২০২৬ ০৬:১১:৫৪ অপরাহ্ন
সকালে ঘুম থেকে উঠে এক চামচ ঘি খাওয়ার অভ্যাস নতুন কিছু নয়। তবে এখন আবারও স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ঘি। কারণ, বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিমিত পরিমাণে ঘি খেলে তা শুধু হজমশক্তিই ভাল রাখে না, শরীরে দীর্ঘক্ষণ শক্তি জোগাতেও সাহায্য করতে পারে। এমনকি ত্বকের স্বাস্থ্যেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিনের শুরুটা কীভাবে হচ্ছে, তার উপর অনেকটাই নির্ভর করে সারাদিনের হজম, শক্তির মাত্রা এবং সামগ্রিক সুস্থতা। আর সেই জায়গাতেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে ঘি।

হজমশক্তি বাড়াতে কীভাবে সাহায্য করে ঘি?
ডায়েটিশিয়ান ও মেটাবলিক বিশেষজ্ঞ ডা. নীতি মুঞ্জালের মতে, সুষম প্রাতরাশের অংশ হিসেবে পরিমিত পরিমাণ ঘি দীর্ঘদিন ধরেই ঐতিহ্যবাহী পুষ্টিবিজ্ঞানে গুরুত্ব পেয়ে এসেছে। ভাল হজম মানেই শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণ আরও কার্যকরভাবে শোষণ করতে পারে। ফলে ভিটামিন, খনিজ এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের সঠিক ব্যবহার সম্ভব হয়।

ঘিতে রয়েছে উপকারী ফ্যাটি অ্যাসিড, যা পরিপাকতন্ত্রের কার্যকারিতা বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। পাশাপাশি এটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকার অনুভূতি দেয়। ফলে বারবার ক্ষুধা পাওয়া বা হঠাৎ শক্তি কমে যাওয়ার প্রবণতা কমতে পারে।

ডায়েটিশিয়ানের মতে, সকালে অল্প পরিমাণ বিশুদ্ধ ঘি শরীরকে ভেতর থেকে পুষ্টি জোগায়। ঘিতে থাকা বিউটারিক অ্যাসিড অন্ত্রের আবরণকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে এবং হজম প্রক্রিয়াকে আরও স্বাভাবিক করে তোলে। হজম ভাল হলে শরীরও সারা দিনে প্রয়োজনীয় পুষ্টি আরও ভালোভাবে গ্রহণ করতে পারে।

সারাদিন শক্তি জোগাতে পারে
আজকের ব্যস্ত জীবনে অনেকেই দ্রুত শক্তি পাওয়ার জন্য চিনি বা ক্যাফেইনসমৃদ্ধ খাবারের উপর নির্ভর করেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘি শরীরে ধীরে ধীরে শক্তি জোগায়। ফলে শক্তির ওঠানামা কম হয় এবং দীর্ঘক্ষণ কর্মক্ষম থাকা যায়।

এছাড়া ঘি দীর্ঘসময় পেট ভরা রাখতেও সাহায্য করে, যা অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমাতে পারে।

ত্বকের সঙ্গে কী সম্পর্ক?
স্বাস্থ্যকর ত্বকের সঙ্গে সুস্থ অন্ত্রের সম্পর্ক রয়েছে—এমন ধারণা এখন পুষ্টিবিজ্ঞানেও ক্রমশ গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যখন হজম ভাল হয় এবং শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি সঠিকভাবে শোষণ করতে পারে, তখন তার ইতিবাচক প্রভাব ত্বকেও পড়ে।

ঘিতে রয়েছে ভিটামিন A এবং ভিটামিন E, যা ত্বকের পুষ্টি ও আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত ও পরিমিত পরিমাণে ঘি খেলে সময়ের সঙ্গে ত্বক আরও স্বাস্থ্যকর ও উজ্জ্বল দেখাতে পারে।

অন্ত্রের স্বাস্থ্য ও ত্বকের স্বাস্থ্যের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে এখন অনেক গবেষণা হচ্ছে। হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকলে শরীর প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে তুলনামূলকভাবে বেশি সক্ষম হয়, যা ত্বকের সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। ফলে অনেকেই ত্বকের স্বাভাবিক জেল্লা, উন্নত টেক্সচার এবং সতেজতা অনুভব করতে পারেন।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, ঘি কোনও ‘ম্যাজিক ফুড’ নয়। শুধু ঘি খেলেই ত্বক উজ্জ্বল হয়ে যাবে বা সব শারীরিক সমস্যা দূর হবে, এমনটা ভাবা ঠিক নয়। এর উপকার পেতে হলে সুষম খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত জলপান, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং পর্যাপ্ত ঘুমও সমান জরুরি।

তবুও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অংশ হিসেবে সকালে এক চামচ ঘি হতে পারে একটি সহজ এবং স্বাস্থ্যকর অভ্যাস। কারণ অনেক সময় সুস্থ থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলো লুকিয়ে থাকে আমাদের বহুদিনের পরিচিত ঐতিহ্যের মধ্যেই।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]