রাস্তার ধারে রোল-চাউমিন-ফুচকা দেখলেই খেয়ে ফেলেন? তার পরেই অবধারিত অম্বল, পেটে ব্যথা, বুক জ্বালার কবলে পড়েন? বাঙালি এমনিতেই ভোজনরসিক। তার গ্যাস-অম্বলের সমস্যা চিরন্তন। ডায়েটের ধার ধারেন না যাঁরা, তাঁরা চর্বচোষ্য যেমন খান, তেমনই ওষুধও খেয়ে যান। এতে না পেট সারে, না শরীর ভাল থাকে। ফলে পেটের সমস্যা ক্রনিক হয়ে যায় এবং মুঠো মুঠো অ্যান্টিবায়োটিক খেতে খেতে ওষুধও এক সময়ে কাজ করা বন্ধ করে দেয়।
তবে ব্যস্ত জীবনে সময় মেনে খাওয়াদাওয়া করা সম্ভব হয় না। যাঁরা অফিসকর্মী এবং দিনের ১২ ঘণ্টা অন্তত বাড়ির বাইরে থাকতে হয়, তাঁদের অসুবিধে রয়েছেই। পেটুকদের আরও সমস্যা! দোকানের মশলাদার খাবার, অনলাইন ফুড ডেলিভারির লোভনীয় ডিসকাউন্টের মায়া চট করে কাটাতে পারেন না! কিন্তু জীবনযাত্রায় কতগুলি সুস্থ পরিবর্তন আনতে পারলে, পেটের সমস্যা বা অম্বলকে কাবু করা যায় ওষুধ ছাড়াই। সে পদ্ধতিই শিখিয়ে দিয়েছেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা। পেটের সমস্যা, পেট ফাঁপা বা পেটখারাপ হবেই না, যদি রপ্ত করা যায় পাঁচ রকম অভ্যাস।
ধীরেসুস্থে খান: ব্যস্ততা থাকবেই। কিন্তু রকেটের গতিতে খেলে হবে না। এতেই পেট ফাঁপার সমস্যা বাড়ে। সময় নিয়ে ধীরেসুস্থে চিবিয়ে খেতে হবে। মুখের লালায় ‘অ্যামাইলেজ়’ নামে পাচক উৎসেচক থাকে যা খাবার খাওয়ার পর মুখেই কার্বোহাইড্রেট ভাঙতে শুরু করে। ধীরেসুস্থে সময় নিয়ে চিবিয়ে খাবার খেলে এই উৎসেচক ভাল করে কাজ করতে পারে। সমস্ত কার্বোহাইড্রেট ভেঙে দিতে পারে যা পরবর্তীতে পেটে গিয়ে মেদ হয়ে জমা হয়।
ঘড়ির কাঁটায় নজর রাখুন: প্রতি দিন নির্দিষ্ট সময়ে সকালের জলখাবার, দুপুরের খাবার এবং রাতের খাবার খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। শরীরের একটি নিজস্ব ঘড়ি আছে। সেটি কাঁটায় কাঁটায় চলে। পরিপাকতন্ত্রও সেই নিয়মেই চলে। তাই রোজ নির্দিষ্ট সময়ে খেলে শরীর আগে থেকেই সেই সময়ে পাচকরস বা হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড নিঃসরণের জন্য প্রস্তুত থাকে। ফলে খাবার দ্রুত ও সঠিক ভাবে হজম হয়। কিন্তু সময়ের হেরফের হলে সেই নিয়ম উল্টে যায়। তখন পাকস্থলী এত বেশি অ্যাসিড তৈরি করতে থাকে যে গ্যাস-অম্বল বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা দেখা দেয়।
খাওয়ার মাঝে অতিরিক্ত জল নয়: খাওয়ার ঠিক আগে, খাওয়ার মাঝে বা খাওয়ার পরপরই ঢকঢক করে জল খাওয়ার অভ্যাস ছাড়তে হবে। পাকস্থলীর অ্যাসিড অতি তীব্র। তা খাবার হজম করতে এবং ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়া নষ্ট করতে সাহায্য করে। খাওয়ার মাঝেই বা খেয়ে উঠেই যদি অতিরিক্ত জল খেয়ে ফেলেন বা নরম পানীয় খেয়ে নেন, তা হলে সেই পাচক রসের ঘনত্ব কমে যায় এবং তাতে থাকা খাবার হজমে সহায়ক উৎসেচকগুলি আর ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। তখন বদহজমের সমস্যা দেখা দেয়, যা থেকে ঘন ঘন পেটখারাপ হতে থাকে। তাই বাইরের খাবার বেশি না খেলেও পেটের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
‘মাইন্ডফুল ইটিং’: মন দিয়ে খাবার খেতে হবে। শুনতে অদ্ভুত লাগলেও, হজমের জন্য তা জরুরি। ‘মাইন্ডফুল ইটিং’ কথাটি এখন খুব পরিচিত। গবেষকেরা বলছেন, টিভি দেখতে দেখতে, মোবাইল স্ক্রল করতে করতে বা ল্যাপটপে কাজ করতে করতে খাবার খেলে তা ঠিকমতো হজম হবে না। আপনি যদি খাবার খাওয়ার সময়ে সে দিকেই মনঃসংযোগ করেন, তাহলে খাবারের গন্ধ, স্বাদ অনুভব করতে পারেন। মস্তিষ্ক এই সঙ্কেতই পরিপাকতন্ত্রকে পাঠায় এবং সেই খাবার ঠিক ভাবে হজম করার নির্দেশও দেয়।
ঘুমোনোর তিন ঘণ্টা আগে খান: রাতের খাবার খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শুয়ে পড়ার অভ্যাস পেটের সমস্যার অন্যতম বড় কারণ। এর থেকেই অম্বল, বুক জ্বালার সমস্যা হয়। ঘুমোনো ও রাতের খাওয়ার মাঝে যেন ঘণ্টা তিনেকের ব্যবধান থাকে। তা ছাড়া খেয়ে উঠে অন্তত মিনিট দশেক হাঁটাহাঁটিও করতে হবে। এই নিয়ম মানলে পেটের সমস্যা আর কখনও হবে না।
তবে ব্যস্ত জীবনে সময় মেনে খাওয়াদাওয়া করা সম্ভব হয় না। যাঁরা অফিসকর্মী এবং দিনের ১২ ঘণ্টা অন্তত বাড়ির বাইরে থাকতে হয়, তাঁদের অসুবিধে রয়েছেই। পেটুকদের আরও সমস্যা! দোকানের মশলাদার খাবার, অনলাইন ফুড ডেলিভারির লোভনীয় ডিসকাউন্টের মায়া চট করে কাটাতে পারেন না! কিন্তু জীবনযাত্রায় কতগুলি সুস্থ পরিবর্তন আনতে পারলে, পেটের সমস্যা বা অম্বলকে কাবু করা যায় ওষুধ ছাড়াই। সে পদ্ধতিই শিখিয়ে দিয়েছেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা। পেটের সমস্যা, পেট ফাঁপা বা পেটখারাপ হবেই না, যদি রপ্ত করা যায় পাঁচ রকম অভ্যাস।
ধীরেসুস্থে খান: ব্যস্ততা থাকবেই। কিন্তু রকেটের গতিতে খেলে হবে না। এতেই পেট ফাঁপার সমস্যা বাড়ে। সময় নিয়ে ধীরেসুস্থে চিবিয়ে খেতে হবে। মুখের লালায় ‘অ্যামাইলেজ়’ নামে পাচক উৎসেচক থাকে যা খাবার খাওয়ার পর মুখেই কার্বোহাইড্রেট ভাঙতে শুরু করে। ধীরেসুস্থে সময় নিয়ে চিবিয়ে খাবার খেলে এই উৎসেচক ভাল করে কাজ করতে পারে। সমস্ত কার্বোহাইড্রেট ভেঙে দিতে পারে যা পরবর্তীতে পেটে গিয়ে মেদ হয়ে জমা হয়।
ঘড়ির কাঁটায় নজর রাখুন: প্রতি দিন নির্দিষ্ট সময়ে সকালের জলখাবার, দুপুরের খাবার এবং রাতের খাবার খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। শরীরের একটি নিজস্ব ঘড়ি আছে। সেটি কাঁটায় কাঁটায় চলে। পরিপাকতন্ত্রও সেই নিয়মেই চলে। তাই রোজ নির্দিষ্ট সময়ে খেলে শরীর আগে থেকেই সেই সময়ে পাচকরস বা হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড নিঃসরণের জন্য প্রস্তুত থাকে। ফলে খাবার দ্রুত ও সঠিক ভাবে হজম হয়। কিন্তু সময়ের হেরফের হলে সেই নিয়ম উল্টে যায়। তখন পাকস্থলী এত বেশি অ্যাসিড তৈরি করতে থাকে যে গ্যাস-অম্বল বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা দেখা দেয়।
খাওয়ার মাঝে অতিরিক্ত জল নয়: খাওয়ার ঠিক আগে, খাওয়ার মাঝে বা খাওয়ার পরপরই ঢকঢক করে জল খাওয়ার অভ্যাস ছাড়তে হবে। পাকস্থলীর অ্যাসিড অতি তীব্র। তা খাবার হজম করতে এবং ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়া নষ্ট করতে সাহায্য করে। খাওয়ার মাঝেই বা খেয়ে উঠেই যদি অতিরিক্ত জল খেয়ে ফেলেন বা নরম পানীয় খেয়ে নেন, তা হলে সেই পাচক রসের ঘনত্ব কমে যায় এবং তাতে থাকা খাবার হজমে সহায়ক উৎসেচকগুলি আর ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। তখন বদহজমের সমস্যা দেখা দেয়, যা থেকে ঘন ঘন পেটখারাপ হতে থাকে। তাই বাইরের খাবার বেশি না খেলেও পেটের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
‘মাইন্ডফুল ইটিং’: মন দিয়ে খাবার খেতে হবে। শুনতে অদ্ভুত লাগলেও, হজমের জন্য তা জরুরি। ‘মাইন্ডফুল ইটিং’ কথাটি এখন খুব পরিচিত। গবেষকেরা বলছেন, টিভি দেখতে দেখতে, মোবাইল স্ক্রল করতে করতে বা ল্যাপটপে কাজ করতে করতে খাবার খেলে তা ঠিকমতো হজম হবে না। আপনি যদি খাবার খাওয়ার সময়ে সে দিকেই মনঃসংযোগ করেন, তাহলে খাবারের গন্ধ, স্বাদ অনুভব করতে পারেন। মস্তিষ্ক এই সঙ্কেতই পরিপাকতন্ত্রকে পাঠায় এবং সেই খাবার ঠিক ভাবে হজম করার নির্দেশও দেয়।
ঘুমোনোর তিন ঘণ্টা আগে খান: রাতের খাবার খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শুয়ে পড়ার অভ্যাস পেটের সমস্যার অন্যতম বড় কারণ। এর থেকেই অম্বল, বুক জ্বালার সমস্যা হয়। ঘুমোনো ও রাতের খাওয়ার মাঝে যেন ঘণ্টা তিনেকের ব্যবধান থাকে। তা ছাড়া খেয়ে উঠে অন্তত মিনিট দশেক হাঁটাহাঁটিও করতে হবে। এই নিয়ম মানলে পেটের সমস্যা আর কখনও হবে না।