স্বর্ণের পুতুলের প্রলোভন, শেষে শ্বাসরোধে হত্যা; গ্রেফতার তান্ত্রিক শামসুল

আপলোড সময় : ০৪-০৬-২০২৬ ০৮:১৯:৩৪ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৪-০৬-২০২৬ ০৮:১৯:৩৪ অপরাহ্ন
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার ভাতুড়িয়া এলাকা উদ্ধার হওয়া আলোচিত গৃহবধূ নাসিমা আক্তারের (৩৬) হাত পা বাঁধা অর্ধদগ্ধ মরদেহের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ।

স্বর্ণের কলসি ও স্বর্ণের পুতুল পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন অর্থ আত্মসাৎ করার পর শেষ পর্যন্ত নাসিমাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় স্থানীয় তান্ত্রিক ও কবিরাজ মো. সামশুল হককে (৫৫) গ্রেফতার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি জেলহাজতে রয়েছেন।গত মঙ্গলবার (২ জুন) রাত সাড়ে ৮টায় ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ খোদাদাদ হোসেন এ তথ্য জানান।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১ জুন) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার ভাতুরিয়া ইউনিয়নের ফাজিলপুর তন্নিদিঘির পূর্ব পাশে গড় নামের স্থান থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এদিন সকালে স্থানীয়রা ওই নারীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ মরদেহের গলায় রশির দাগ, দগ্ধ চিহ্নসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় মরদেহটির পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেনের সার্বিক দিকনির্দেশনায় জেলা পুলিশের একাধিক টিম দ্রুত তদন্তে নামে। নিহতের ১২ বছর বয়সী মেয়ের দেওয়া তথ্য, অর্থ লেনদেনের সূত্র এবং প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে মাত্র ২০ ঘণ্টার মধ্যেই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করা সম্ভব হয়।

তদন্তে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। দীর্ঘদিন ধরে স্বর্ণের কলসি ও স্বর্ণের পুতুল পাইয়ে দেওয়ার নামে নাসিমা আক্তারের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিলেন সামশুল হক। ঘটনার দিন নাসিমা প্রতিশ্রুত স্বর্ণ এনে দেওয়ার জন্য চাপ দিলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান অভিযুক্ত।

পুলিশের ভাষ্যমতে, সেখানে তন্ত্র-মন্ত্রের আচার পালনের কথা বলে নাসিমার গলায় দড়ি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এরপর ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে এবং আলামত নষ্টের উদ্দেশ্যে তার বোরখায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। তবে আগুন পুরোপুরি ছড়িয়ে না পড়ায় মরদেহের পেছনের অংশে দগ্ধ হওয়ার চিহ্ন রয়ে যায়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, ঘটনার দিনই সামশুল হককে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি নাসিমার কাছ থেকে নেওয়া ৩০ হাজার টাকাও উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে আরও জানা গেছে, সামশুল হক দীর্ঘদিন ধরে অলৌকিক শক্তি, গুপ্তধন ও স্বর্ণের কলসির প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে এ ধরনের একাধিক প্রতারণার অভিযোগের তথ্যও পাওয়া গেছে।

গ্রেফতারকৃত সামশুল হক হরিপুর উপজেলার টেংরিয়া মকবুলপাড়া গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে। নিহত নাসিমা আক্তার রাণীশংকৈল উপজেলার রাউতনগর গ্রামের স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল্লাহর স্ত্রী।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রায় ক্লুলেস অবস্থায় শুরু হওয়া এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য অল্প সময়ের মধ্যেই উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন। তবে এ ঘটনার পেছনে অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতারণা চক্র জড়িত রয়েছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]