রামিসা হত্যাকাণ্ড: যুক্তিতর্কের সময় কাঠগড়ায় স্বামী সোহেলকে মারতে যান স্বপ্না

আপলোড সময় : ০৪-০৬-২০২৬ ০৩:০৪:৪৫ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৪-০৬-২০২৬ ০৩:০৪:৪৫ অপরাহ্ন
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় করা মামলায় আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থানের সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা আসামি সোহেল রানাকে মারার চেষ্টা করেছেন তার স্ত্রী স্বপ্না।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে যুক্তিতর্ক চলার সময় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় স্বপ্নাকে আটকে দেয় পুলিশ।    
 
এ দিন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু। তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে সোহেল রানা এবং স্বপ্না আক্তার ছাড়া আর কাউকে দেখেননি সাক্ষীরা। ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেয়ার আগে সোহেল রানাকে তিন ঘণ্টা সময় দেয়া হয়েছিল। তখনো তিনি ‘ডলার’ নামে কারো নাম নেননি।’
 
আদালতকে বিভ্রান্ত করতেই কয়েদিদের কাছ থেকে এই বুদ্ধি পেয়ে সোহেল হঠাৎ তৃতীয় ব্যক্তির নাম নিচ্ছে বলে মন্তব্য করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।
 
সাক্ষ্য বিশ্লেষণ করে তিনি বলেন, ময়নাতদন্তে রামিসাকে ধর্ষণের প্রমাণ পাওয়া গেছে। কিন্তু পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলায় ডিএনএ স্যাম্পল পাওয়া যায়নি। তাই ময়নাতদন্তই বিচারে প্রাধান্য পাবে।
 
দুলু বলেন, ‘সাক্ষ্যে সোহেলের বিরুদ্ধে চার্জশিটে আনা সব অভিযোগ কনক্রিটলি প্রমাণিত হয়েছে। ধর্ষণ-হত্যা উভয় অপরাধে সোহেলকে আটকাতে স্বপ্না কোনো পদক্ষেপ নেননি। এটাই তার অপরাধ।’

সোহেলকে নেশাগ্রস্ত দাবি করেন সরকার নিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী। তার জবানবন্দির ভিত্তিতে কোনো সিদ্ধান্ত না নেয়ার জন্য আদালতের কাছে প্রার্থনা জানান তিনি।
 
এদিকে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত এ মামলায় রায়ের জন্য আগামী রোববার (৭ জুন) দিন ধার্য করেছেন।
 
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২৪ মে আদালত পুলিশের দাখিল করা অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে ১ জুন অভিযোগ গঠন শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন। তদন্তে ডিএনএ রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং ফরেনসিক আলামতের ভিত্তিতে অভিযোগপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
 
মামলা সূত্রে জানা যায়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল রামিসা। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না তাকে কৌশলে রুমের ভেতরে নেয়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা।
 
এক পর্যায়ে আসামির ঘরের সামনে শিশুটির একটি স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং আশপাশের ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর দেখতে পান সোহেল রানার শোবার ঘরের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ। আর তার মাথা পড়ে রয়েছে বাথরুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে।
 
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মরদেহ উদ্ধারের পর স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়।
 
এ ঘটনায় রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। গ্রেফতার আসামি সোহেল রানা ২০ মে আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]