রাজশাহীর আমবাজারে ধস, উৎপাদন খরচও উঠছে না চাষিদের

আপলোড সময় : ০১-০৬-২০২৬ ০৭:৩২:১১ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০১-০৬-২০২৬ ০৭:৩২:১১ অপরাহ্ন
কোরবানির ঈদের ছুটির প্রভাবে রাজশাহীর আমের বাজারে মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। জেলার সবচেয়ে বড় আমের মোকাম পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর হাটে গুটি আমের দাম কমে মণপ্রতি ৭০০ টাকায় নেমেছে। গোপালভোগ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায়। তবে মৌসুমের নতুন আম ক্ষীরশাপাতি (হিমসাগর) তুলনামূলক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে, যার মণপ্রতি দাম ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা।

রবিবার (৩১ মে) সকালে বানেশ্বর আমের হাট ঘুরে দেখা যায়, চাষিরা ভ্যানে করে আম নিয়ে আসছেন এবং আড়তদারেরা সরাসরি ভ্যান থেকেই আম কিনছেন। নতুন আমের চালান এলেই ব্যবসায়ীরা আম দেখে দরদাম করছেন। বাজার পরিস্থিতি বুঝে চাষিরা কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর কম দামেই আম বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

হাট সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ মে বাজারে প্রথম আসা গোপালভোগের দাম মণপ্রতি ২ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। বর্তমানে তা কমে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায় নেমেছে। ১৫ মে থেকে বাজারে আসা গুটি জাতের আমের দাম প্রথমদিকে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা থাকলেও বর্তমানে তা ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লক্ষ্মণভোগ আম বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা মণ দরে, যা গত বছরের তুলনায় অনেক কম। অন্যদিকে ৩০ মে থেকে বাজারে ওঠা হিমসাগরের দাম শুরুতেই তুলনামূলক বেশি রয়েছে।

বাঘার আমচাষি মোঃ বাবু বলেন, প্রায় ২০ বিঘা জমিতে তাঁর আমবাগান রয়েছে। বর্তমানে গুটি আম ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। সার, কীটনাশক ও শ্রমিক খরচ বিবেচনায় এই দামে উৎপাদন খরচও উঠছে না।

চাষি ও ব্যবসায়ীরা জানান, কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে ক্রেতাদের আগ্রহ কমে যাওয়ায় এবং পরিবহন ও কুরিয়ার সেবা ব্যাহত হওয়ায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আম পাঠানো বন্ধ হয়ে পড়েছিল। ফলে বাজারে চাহিদা কমে গিয়ে দামও নেমে এসেছে।

বানেশ্বর হাটে গোপালভোগ কিনতে আসা ব্যবসায়ী মিন্টু সরকার বলেন, গত বছরের একই সময়ে গোপালভোগের দাম ছিল প্রায় ২ হাজার ২০০ টাকা মণ। এবার দাম অনেক কম।

ব্যবসায়ী মোঃ ফজলু বলেন, কোরবানির ঈদের কারণে মানুষ এখন মাংস নিয়ে ব্যস্ত। ফলে আম কেনার আগ্রহ কমেছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান বাজারদরে শ্রমিক, পরিবহন ও বাগান পরিচর্যার খরচ মিটিয়ে লাভ থাকছে না। কম দামে আম বিক্রি করে লোকসান গুনতে হচ্ছে।

তবে ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, ঈদের ছুটি শেষ হলে বাজার আবার স্বাভাবিক হবে। হাটের ব্যবসায়ী মোঃ সাগর বলেন, প্রতি বছর ঈদের সময় আমের বাজারে কিছুটা স্থবিরতা দেখা দেয়। ছুটি শেষে ঢাকামুখী মানুষ আম কিনতে শুরু করলে চাহিদা বাড়বে এবং পাইকারি বাজারও চাঙা হবে।

এদিকে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে রাজশাহীতে আমের উৎপাদন ভালো হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রাজশাহী জেলার উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, মৌসুমে বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হওয়ায় অধিকাংশ মুকুল টিকে গেছে। ফলে উৎপাদন বেড়েছে এবং বাজারে সরবরাহও বেশি রয়েছে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীতে এ বছর ১৯ হাজার ৬২ হেক্টর জমির আমবাগান থেকে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৯৯৩ টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ১০ জুন থেকে ব্যানানা ম্যাংগো ও ল্যাংড়া, ১৫ জুন থেকে আম্রপালি ও ফজলি, ৫ জুলাই থেকে বারি আম-৪, ১০ জুলাই থেকে আশ্বিনা এবং ১৫ জুলাই থেকে গৌড়মতি আম সংগ্রহ করা যাবে। কাটিমন ও বারি আম-১১ পাকার পর সারা বছর সংগ্রহ করা সম্ভব হবে।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]