যুদ্ধ ফের শুরু হলে ‘ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের’ হুঁশিয়ারি ইরানের

আপলোড সময় : ৩১-০৫-২০২৬ ০৮:০৬:০২ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ৩১-০৫-২০২৬ ০৮:০৬:০২ অপরাহ্ন
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতার আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছালেও, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে নতুন যুদ্ধ আগের চেয়ে আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে সতর্ক করেছে তেহরান। ইরানি কর্মকর্তারা বলছেন, যুদ্ধ পুনরায় শুরু হলে এর প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়বে।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছে, যা এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে আলোচনা এগোলেও সামরিক উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। চলতি সপ্তাহে কয়েক দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফা হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে হরমুজ প্রণালীতেও সংঘর্ষের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, নতুন কোনো সংঘাত শুরু হলে তা ‘অঞ্চলের অনেক বাইরে’ ছড়িয়ে পড়বে এবং প্রতিপক্ষ এমন ধ্বংসযজ্ঞের মুখোমুখি হবে, যা তারা কল্পনাও করতে পারবে না।

গত সংঘাতে ইরান মার্কিন ঘাঁটি, ইসরাইলি শহর এবং উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দেয়।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সম্প্রতি বলেছেন, ভবিষ্যতে প্রতিশোধমূলক যেকোনো পদক্ষেপে ‘আরও অনেক চমক’ থাকবে। একই ধরনের ইঙ্গিত দিয়েছেন দেশটির সামরিক কর্মকর্তারাও। তাদের দাবি, যুদ্ধবিরতির সময়টিতে ইরান তার সামরিক সক্ষমতা নতুন করে শক্তিশালী করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এসব বক্তব্যের বড় অংশ প্রতিরোধমূলক কৌশল হলেও কূটনীতি ব্যর্থ হলে তেহরানের হাতে উত্তেজনা বাড়ানোর বেশ কয়েকটি বাস্তব বিকল্প রয়েছে।

এর মধ্যে অন্যতম হলো গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথে অচলাবস্থা সৃষ্টি। হরমুজ প্রণালীর পাশাপাশি ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর মাধ্যমে বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে নতুন সংকট তৈরি করতে পারে ইরান। এই পথ ইউরোপ, এশিয়া ও আরব বিশ্বের মধ্যে বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান করিডর হিসেবে বিবেচিত হয়। এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি ও পণ্য পরিবহন ব্যয় আরও বেড়ে যেতে পারে।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের তেল শোধনাগার, বিদ্যুৎকেন্দ্র বা জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালায়, তাহলে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর তেলক্ষেত্র ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোও হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ইরানি কর্মকর্তারা।

ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির সদস্য আহমাদ বাখশায়েশ আরদেস্তানি বলেছেন, ইরানের তেল উৎপাদন বন্ধ করার চেষ্টা করা হলে তেহরানও উপসাগরীয় অঞ্চলের তেলক্ষেত্র লক্ষ্য করে হামলা চালাবে, যাতে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আরও বেড়ে যায়।

অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও নতুন করে হামলার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরান ও তার মিত্র গোষ্ঠীগুলো ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে এ ধরনের সক্ষমতার ইঙ্গিত দিয়েছে।

ইরান আরও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। দেশটি ভারত মহাসাগরে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক ঘাঁটি দিয়েগো গার্সিয়াকে লক্ষ্য করে মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল বলে পশ্চিমা সূত্রগুলোর দাবি।

বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক আলোচনা সফল হলে নতুন সংঘাত এড়ানো সম্ভব হতে পারে। তবে সমঝোতা ভেস্তে গেলে মধ্যপ্রাচ্য আবারও বড় ধরনের সামরিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়তে পারে, যার প্রভাব বিশ্ববাজারেও পড়বে।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]