আর্সেনালকে টাইব্রেকারে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন লুই এনরিকের দল

আপলোড সময় : ৩১-০৫-২০২৬ ০১:২৬:০২ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ৩১-০৫-২০২৬ ০১:২৬:০২ অপরাহ্ন
স্বপ্নপূরণ হল না আর্সেনালের। একই মরসুমে ইংল্যান্ড ও ইউরোপের সেরা ক্লাব হওয়ার সুযোগ ছিল তাদের সামনে। কয়েক দিন আগে ২২ বছরের খরা কাটিয়ে প্রিমিয়ার লিগ জিতেছিল তারা। কিন্তু চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিততে পারলেন না মিকেল আর্তেতার ছেলেরা। ফাইনালে গত বারের চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের প্যারিস সঁ জরমঁ-এর কাছে হারল ইংল্যান্ডের ক্লাব। নির্ধারিত ১২০ মিনিটে ১-১ ছিল খেলা। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে হল ফয়সালা।

প্রথমার্ধে গোল করে এগিয়ে যায় আর্সেনাল। দ্বিতীয়ার্ধে সমতা ফেরায় পিএসজি। ২০১৫ সাল থেকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে যে দল প্রথমে গোল করেছে সেই দল জিতেছে। কিন্তু এ বার তা হল না। আর্সেনাল তাদের রক্ষণাত্মক খেলার জন্য হারল। গোটা ম্যাচ জুড়ে আক্রমণ করল পিএসজি। ফলও পেল তারা। ফ্রান্স ও ইউরোপের সেরা ক্লাব হল তারা। রিয়াল মাদ্রিদের পর দ্বিতীয় ক্লাব হিসাবে পর পর দু’বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতল পিএসজি।

টাইব্রেকারে পিএসজি-র হয়ে প্রথমে শট নিতে যান র‌্যামোস। তিনি গোল করতে ভুল করেননি। আর্সেনালের হয়ে প্রথম পেনাল্টি নিতে যান গিয়োকেরেস। তিনিও গোল করেন। আর্সেনালের হয়ে দ্বিতীয় পেনাল্টি নিতে যান ডুয়ে। তিনিও সহজে গোল করেন। তিন বারই ভুল দিকে ঝাঁপান দুই গোলরক্ষক। আর্সেনালের হয়ে দ্বিতীয় পেনাল্টি নিতে যান এজ়ে। বাইরে মারেন তিনি। পিছিয়ে পড়ে আর্সেনাল। পিএসজি-র সমর্থকদের সামনে টাইব্রেকার হচ্ছিল। অর্থাৎ, গোলের পিছন থেকে সমর্থকদের চাপ বাড়ছিল আর্সেনালের উপর। সেই চাপ সামলাতে পারলেন না তরুণ এজ়ে। পিএসজি-কে এগিয়ে দেওয়ার সুযোগ ছিল মেন্ডেসের। তাঁর শট বাঁচিয়ে দেন রায়া। ফলে আবার সমান সমান হয়ে যায় দু’দল। আর্সেনালের হয়ে তৃতীয় পেনাল্টি নিতে যান অভিজ্ঞ ডেকলান রাইস। তিনি ঠান্ডা মাথায় গোল করেন। প্যারিসের দলের হয়ে চতুর্থ পেনাল্টি নিতে যান আশরফ হাকিমি। তিনি গোল করতে ভুল করেননি। আর্সেনালের হয়ে চতুর্থ পেনাল্টি থেকে গোল করেন ব্রাজ়িলের মার্তিনেলি। পিএসজি-র হয়ে পঞ্চম পেনাল্টি থেকে গোল করেন বেরাল্ডো। অর্থাৎ, লড়াইয়ে থাকতে হল গোল করতেই হত গ্যাব্রিয়েলকে। আর্সেনালের এই সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার বারের উপর দিয়ে বল উড়িয়ে দেন। ৪-৩ ফলে জেতে প্যারিসের ক্লাব।

এ কোন আর্সেনাল? এই দলটিই কি ২২ বছর পর প্রিমিয়ার লিগ জিতেছে? এই দলটিই কি অপরাজিত থেকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে উঠেছে? হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে আর্সেনালের খেলা দেখে সেই প্রশ্ন উঠছিল। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল গত বারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ী দল প্যারিস সঁ জরমঁ-এর। উল্টে আর্সেনালকে দেখে মনে হচ্ছিল, প্রতি-আক্রমণের অপেক্ষায় রয়েছে। সেই প্রতি-আক্রমণকেই কাজে লাগালেন আর্তেতার ছেলেরা।

৬ মিনিটের মাথায় পিএসজি-র রক্ষণের ভুলে বল পেয়ে যান কাই হাভার্ৎজ। কিন্তু কাছাকাছি কোনও সতীর্থ ছিলেন না। ফলে প্রথম পোস্টের কাছে এসে কোণাকুণি জোরাল শট মারেন হাভার্ৎজ। পিএসজি-র গোলরক্ষক সাপানভ ভেবেছিলেন হাভার্ৎজ মাটি ঘেঁষা শট মারবেন। তাই হাঁটু মুড়ে বসেছিলেন তিনি। সেটা কাজে লাগান জার্মান স্ট্রাইকার। সাপানভের মাথার উপর দিয়ে গোল করেন তিনি।

কিন্তু এগিয়ে যাওয়ার পরেই ‘পার্ক দ্য বাস’ নীতিতে চলে যান হোসে মোরিনহো ও আন্তোনিয়ো কন্তের ভক্ত আর্তেতা। সামনে একাই হাভার্ৎজকে রেখে বাকি ১০ জন নীচে নেমে রক্ষণ সামলাচ্ছিলেন। ফলে গোটা প্রথমার্ধ জুড়ে একের পর এক আক্রমণ পিএসজি-র। কিন্তু গোলের মুখ খুলতে পারছিলেন না লুই এনরিকের ছেলেরা।

আক্রমণ করলেও একটি ভুল করছিল পিএসজি। প্রায় প্রতিটি আক্রমণ হচ্ছিল ডান প্রান্ত ধরে। আশরফ হাকিমি, উসমান দেম্বেলে ও ভিটিনহার পা ধরে আক্রমণ হচ্ছিল। অথচ, দলের সবচেয়ে প্রতিভাবান খেলোয়াড় খিভিচা কাভারাৎস্কেলিয়াকে তেমন ভাবে ব্যবহার করা হচ্ছিল না। অনেক সময় তিনি বাঁ প্রান্তে একা থাকলেও বল পাচ্ছিলেন না। ফলে পিএসজি-র আক্রমণ দানা বাঁধছিল না। ফলে প্রথমার্ধে ৭৫ শতাংশ বলের দখল নিয়েও গোল করতে পারছিল না পিএসজি। ১-০ গোলে এগিয়ে বিরতিতে যায় আর্সেনাল।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]