চাঁদ থেকে ‘ফিউচার ওয়ার মহাকাশ দখলের দৌড়ে চিনের উচ্চাকাঙ্ক্ষা

আপলোড সময় : ২৯-০৫-২০২৬ ০৯:১৯:২১ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৯-০৫-২০২৬ ০৯:১৯:২১ অপরাহ্ন
১৯৭৭ সালে মুক্তি পেয়েছিল স্টার ওয়ার্স। পরিচালক জর্জ লুকাসের সেই কল্পবিজ্ঞানের মহাকাব্য দর্শকদের সামনে তুলে ধরেছিল মহাকাশ যুদ্ধ, উন্নত ড্রোন ও ভবিষ্যতের প্রযুক্তিনির্ভর সভ্যতার এক বিস্ময়কর জগৎ। কয়েক দশক পরে সেই কল্পনার অনেকটাই বাস্তবে রূপ দেওয়ার স্বপ্ন দেখছে চায়না। বেজিং এখন শুধু পৃথিবীর আকাশ নয়, মহাকাশ দখলের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাতেও এগোচ্ছে দ্রুত গতিতে।

চিনের লক্ষ্য, ২০৩০ সালের মধ্যেই চাঁদে মানুষ পাঠানো। সেই লক্ষ্যপূরণে গত ২৪ মে নতুন নভোচারী দলকে মহাকাশে পাঠানো হয়েছে। তাদের একজন প্রায় এক বছর অবস্থান করবেন চিনের মহাকাশ স্টেশনে। এই মিশনকে ভবিষ্যতের চন্দ্রাভিযানের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। কারণ চাঁদে মানুষ পাঠানোর আগে দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশবাস, প্রযুক্তিগত স্থিতি ও নভোচারীদের মানসিক প্রস্তুতি নিশ্চিত করা জরুরি।

বর্তমানে পৃথিবীর নিম্ন-কক্ষপথে থাকা চিনের মহাকাশ স্টেশন তিয়াংগং মহাকাশ স্টেশন-এ অপেক্ষাকৃত নিরাপদ পরিবেশে কাজ করছেন নভোচারীরা। কিন্তু চাঁদের মাটিতে অবতরণ অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ধারাবাহিক প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে বেজিং। এখনও পর্যন্ত চিন চাঁদে শুধু রোবট পাঠালেও একের পর এক সফল শেনঝো প্রোগ্রাম অভিযান দেশটির সক্ষমতা প্রমাণ করেছে।

২০২৪ সালের জুনে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে চাঁদের ‘দূরবর্তী পৃষ্ঠ’ থেকে রোবটের মাধ্যমে নমুনা সংগ্রহ করে ইতিহাস গড়ে চিন। এই সাফল্য ভবিষ্যতের মানব অভিযানের পথ আরও মজবুত করেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩৫ সালের মধ্যে রাশিয়ার সহযোগিতায় চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি গড়তে চায় বেজিং। ২০৩০ সালের আগে সফল মানব অবতরণ সম্ভব হলে সেই প্রকল্প আরও গতি পাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

শুধু চাঁদ নয়, মহাকাশভিত্তিক যুদ্ধ প্রযুক্তিতেও নজর বাড়াচ্ছে চিন। এখনও পর্যন্ত দেশটি পূর্ণাঙ্গ কার্যক্ষম মহাকাশ ড্রোন উৎক্ষেপণ না করলেও হাইপারসনিক ড্রোন প্রযুক্তিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। চিনা সরকারি সংবাদমাধ্যমের দাবি, ভবিষ্যতে কক্ষপথ থেকেই একসঙ্গে বহু ড্রোন মোতায়েন করা সম্ভব হবে।

এরই মধ্যে সামনে এসেছে আরও উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা। চিন একটি বিশাল ত্রিভুজাকার মহাকাশযান তৈরির স্বপ্ন দেখছে, যার নাম ‘লুয়াননিয়াও’ বা ‘দিব্য পাখি’। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ৮০০ ফুট দীর্ঘ ও ১ লাখ ২০ হাজার টন ওজনের এই যান একসঙ্গে ৮৮টি পর্যন্ত স্বয়ংক্রিয় স্টেলথ ড্রোন বহন করতে পারবে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি বায়ুমণ্ডলের প্রান্তে অবস্থান করবে এবং সেখান থেকেই ড্রোন পরিচালনা, নজরদারি কিংবা অস্ত্র মোতায়েনের মতো কাজ করা যাবে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এত বড় মহাকাশযান নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি ও উপকরণ প্রযুক্তি এখনও পুরোপুরি আবিষ্কৃত হয়নি। ফলে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন এখনই সম্ভব নয়। তবু গবেষণা থেমে নেই। ভবিষ্যতে এই ধরনের প্রযুক্তি বাস্তবায়িত হলে মহাকাশ থেকেই ড্রোন রিচার্জ, দ্রুত মোতায়েন এবং মিসাইল হামলা চালানোর সক্ষমতা তৈরি হতে পারে। যা ভবিষ্যতের যুদ্ধের চরিত্রই বদলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা আন্তর্জাতিক মহলের।

এই প্রযুক্তিনির্ভর মহাকাশ প্রতিযোগিতায় নিজেদের এগিয়ে রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ Xi Jinping প্রশাসন। আর সেই কারণেই বিজ্ঞান, সামরিক কৌশল ও মহাকাশ গবেষণাকে একসঙ্গে মিলিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় এগোচ্ছে বেজিং।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]