রাজশাহী সিটি হাটে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ, জড়িত রাজনৈতিক সিন্ডিকেট

আপলোড সময় : ২৬-০৫-২০২৬ ০৬:৩৪:০২ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৬-০৫-২০২৬ ০৬:৩৪:০২ অপরাহ্ন
রাজশাহীর অন্যতম বৃহৎ পশুর মোকাম সিটি হাটে কুরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত টোল আদায়, রশিদে টাকার পরিমাণ উল্লেখ না করা এবং বিক্রেতাদের কাছ থেকেও অবৈধভাবে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইজারাদারদের বিরুদ্ধে| সংশ্লিষ্টদের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে একটি সিন্ডিকেট হাট নিয়ন্ত্রণ করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের এপ্রিলে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) বিএনপি-জামায়াত-আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কাছে তুলনামূলক কম মূল্যে হাটটি ইজারা দেয়। কাগজে-কলমে শওকত আলী ইজারাদার হলেও প্রকৃতপক্ষে তিন রাজনৈতিক দলের ছয়জন নেতা ও সমর্থক এই হাটের অংশীদার বলে অভিযোগ রয়েছে। পুরো কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছেন আওয়ামী লীগ নেতা আমিনুল ইসলাম আমিন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, আওয়ামী লীগের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতাদের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত আমিন অতীতে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন বড় ঠিকাদারি কাজও নিয়ন্ত্রণ করেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি সিটি হাটের ইজারাদার দলের নেতা আতিকুর রহমান কালুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও বিএনপি নেতাদের সঙ্গে সখ্য গড়ে প্রভাব ধরে রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, কুরবানির ঈদ উপলক্ষে নির্ধারিত টোলের বাইরে গরু ও মহিষপ্রতি অতিরিক্ত ২০০ থেকে ২৫০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। তবে রশিদে টাকার পরিমাণ উল্লেখ করা হচ্ছে না। একই সঙ্গে নিয়মবহির্ভূতভাবে বিক্রেতাদের কাছ থেকেও টাকা নেওয়া হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, একই পশু একাধিকবার হাতবদল হলে প্রতিবারই নতুন করে টোল আদায় করা হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, হাটে টোল সংক্রান্ত নির্ধারিত হার উল্লেখ করে দৃশ্যমান কোনো সাইনবোর্ড নেই। একটি বুথের সামনে ছোট লেমিনেটেড কাগজে মহিষের জন্য ৮০০ টাকা, গরুর জন্য ৭০০ টাকা এবং ছাগলের জন্য ৫০০ টাকা টোল নির্ধারণ করা হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে।

নাটোরের গুরুদাসপুর থেকে গরু বিক্রি করতে আসা হেলাল বলেন, আমার কাছ থেকে ১০০ টাকা নেওয়া হয়েছে| কিন্তু কোনো রশিদ দেয়নি| বিক্রেতার কাছ থেকে টাকা নেওয়ার নিয়ম নেই বললেও জোর করে টাকা নিয়েছে|

একই এলাকার আসমত আলী নামে এক ক্রেতা জানান, তিনি দুটি মহিষ কিনেছেন| প্রতিটির জন্য তার কাছ থেকে ৯০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে| পাশাপাশি বিক্রেতার কাছ থেকেও ২০০ টাকা আদায় করা হয়েছে|

হাটে আসা বিভিন্ন ক্রেতার রশিদ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, টাকার পরিমাণ লেখার নির্ধারিত স্থান ফাঁকা রাখা হয়েছে| সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, ঈদের আগে প্রতিটি হাটে অন্তত ৩০ হাজার গরু ও মহিষ বিক্রি হয়| সে হিসাবে অতিরিক্ত টোল আদায়ের মাধ্যমে প্রতি হাটে প্রায় ৭৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে|

এ ছাড়া ব্যাপারীদের কাছ থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নামে ট্রাকপ্রতি তিন হাজার টাকা করে আদায়ের অভিযোগও রয়েছে| প্রতিটি হাটে প্রায় ৫০০ ট্রাকে পশু দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হয়| সে হিসাবে প্রতিহাটে প্রায় ১৫ লাখ টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের|

অন্যদিকে, সীমান্ত দিয়ে আসা ভারতীয় গরু ও মহিষের মূল্য পরিশোধে হুন্ডির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের অভিযোগও উঠেছে| সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রতি হাটে অন্তত ২০ কোটি টাকার বেশি অর্থ ভারতীয় ব্যবসায়ীদের কাছে হুন্ডির মাধ্যমে পাঠানো হয়| এ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছেন আমিনুল ইসলাম আমিন|

তবে এসব অভিযোগ অ¯^ীকার করেছেন ইজারাদার শওকত আলী| তিনি বলেন, আমরা ১০০ টাকা বেশি নিই, সেটি ব্যবস্থাপনা খরচ হিসেবে নেওয়া হয়| সময়ের অভাবে রশিদে টাকার পরিমাণ লেখা হয় না| বিক্রেতাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো জবাব দেননি|

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নামে চাঁদা আদায়ের অভিযোগও অ¯^ীকার করেন শওকত আলী| তার দাবি, ব্যাপারীদের কাছ থেকে কোনো অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয় না| হুন্ডি ব্যবসার সঙ্গেও সিটি হাটের ইজারাদারদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই|

অভিযোগ অ¯^ীকার করে আমিনুল ইসলাম আমিন বলেন, শুধু নির্ধারিত টোলই নেওয়া হয়| ব্যাপারীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত কোনো টাকা আদায় করা হয় না|

হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাচারের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন|

এ বিষয়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সচিব সোহেল রানা বলেন, টোল আদায় নিয়ে অভিযোগ পেয়েছি| ইজারাদারদের রশিদে টোলের পরিমাণ উল্লেখ করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে|

রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র উপকমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, আমরা হাটে সরেজমিনে গিয়েছিলাম
। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো অসঙ্গতি পাওয়া যায়নি| ট্রাকপ্রতি টাকা আদায়ের বিষয়টি আমাদের জানা নেই| অভিযোগ পেলে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হবে। তবে পুলিশের কোনো সদস্য এ ধরনের টাকা নেন না।
 

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]