আর্সেনাল সমর্থকেরা এসব চেনা ছক ভুলে একটু অন্য রাস্তা নিল। কেউ ছাদে উঠে ম্যাচ দেখল, কেউ হোম এন্ডে লুকিয়ে ঢুকে পড়ল, কেউ আবার কার্ডবোর্ডের মিকেল আর্তেতা হাতে নিয়ে সেলহার্স্ট পার্ককে য় উত্তর লন্ডনে বদলে ফেলল! সিজনের শেষ ম্যাচে ক্রিস্টাল প্যালেসকে ২-১ গোলে হারিয়েছে গানার্সরা। আগেই অবশ্য ২২ বছর পর প্রিমিয়ার লিগ জেতায় সিলমোহর পড়েছে। কিন্তু এদিন ম্যাচ শেষের পরের দৃশ্যটাই যেন আসল স্টপার হয়ে উঠল।
অফিসিয়াল হিসেব বলছে, সেলহার্স্ট পার্কে ২ হাজার ৬৮৭ জন আর্সেনাল সমর্থক জড়ো হন। বাস্তবে সংখ্যাটা আরও বেশি। কেউ প্যালেস সমর্থকদের গ্যালারিতে ঢুকে পড়েন। কেউ পাশের সেইन्সবেরির ছাদে উঠে ম্যাচ দেখেন। রাস্তার ধারে তখন ট্রফি-ছাপা স্কার্ফ, টুপি, পতাকা বিক্রি হচ্ছে পুরোদমে। দেখে বোঝার উপায় ছিল না, এটা অ্যাওয়ে ম্যাচ।
রেফারির শেষ বাঁশি বাজার পর আর্সেনাল ফুটবলারদের কিছুক্ষণ ড্রেসিংরুমে অপেক্ষা করতে হয়। কারণ প্যালেস নিজেদের মরসুম-শেষের অনুষ্ঠানে মেতে। সেই ফাঁকেই ভিতরে জমে ওঠে আলাদা পার্টি। ক্লাবের অন্যতম কর্ণধার স্ট্যান ক্রঙ্কি এবং জশ ক্রঙ্কি ঢুকে পড়েন সাজঘরে। পরিবার, বন্ধুরাও সামিল। স্বাভাবিকভাবে শ্যাম্পেনের ফোয়ারা ছোটে দ্রুত! ফুটবলাররা থার্ড কিট বদলে লাল-সাদা ঐতিহ্যবাহী জার্সি পরে নেন। কোচিং স্টাফও পিছিয়ে ছিলেন না। কেউ জুরিয়েন টিম্বারের নম্বর, কেউ রিকার্দো কালাফিofরির জার্সি গায়ে চড়িয়ে চক্কর কেটেছেন।
সবার থেকে বিলকুল আলাদা পথ বেছে নেন গোলকিপার কোচ ইনাকি কানা। তাঁর জার্সিতে একসঙ্গে লেখা ডেভিড রায়া, কেপা আরিজাবালাগা আর টমি সেটফোর্ডের নাম খোদাই করা!
প্যালেসের অনুষ্ঠান শেষ হতেই ড্রেসিংরুমের বেল বেজে ওঠে। ম্যাচের আগে যে ঘণ্টা ফুটবলারদের মাঠে ডাকছিল, সেটাই এবার মরসুম শেষের সিগন্যাল। অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ডকে সামনে রেখে ফুটবলাররা মাঠে নামেন। বিশাল ব্লুটুথ স্পিকার নিয়ে আগুয়ান স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগের টম অ্যালেন। গ্যাব্রিয়েলের তর সইছিল না! ট্রফিতে চুমু খাচ্ছেন। উইলিয়াম সালিবা ট্রফির গায়ে হাত বুলিয়ে যাচ্ছেন। কেপা তখনও গোলকিপার গ্লাভস পরে কাপ ছুঁয়ে দেখছেন। ১৯ বছরের মাইলস লুইস-স্কেলি শুধু মাথা নেড়ে বলে চলেছেন, ‘পাগল পাগল লাগছে!’
সন্ধে ৭টার পর অবশেষে ট্রফি তুললেন ওডেগার্ড। তাঁর হাতে কাপ বাড়িয়ে দেন নর্থ লন্ডন ইউনাইটেডের ফুটবলার ইমানুয়েল। সাফল্যের কাণ্ডারী যিনি, সেই কোচ, মিকেল আর্তেতা স্ত্রী লরেনার সঙ্গে দাঁড়িয়ে ‘নর্থ লন্ডন ফরএভারে’ গলা মেলালেন। পাশে জশ ক্রঙ্কি আর বোর্ড সদস্য বেন উইনস্টন। উইলিয়াম সালিবা একের পর এক সতীর্থের হাতে খেতাব তুলে দিচ্ছেন। দেখে মনে হচ্ছে, পুরো অনুষ্ঠানটাই যেন তাঁর ব্যক্তিগত পরিচালনায় চলছে!
সেলিব্রেশনে অন্যতম মুখ অবশ্যই এবেরেচি এজে। গত মরসুমে টটেনহ্যামের বদলে আর্সেনালে যোগ দেন। সেই সিদ্ধান্তকে ঘিরে এমনিতেই সমর্থকদের আলাদা উচ্ছ্বাস ছিল। গতকাল প্যালেসের মাঠে নিজের নতুন ক্লাবের হয়ে প্রিমিয়ার লিগ ট্রফি হাতে তুললেন তরুণ মিডফিল্ডার! দৃশ্যটা নিঃসন্দেহে আর্সেনালের প্রবাদমালায় রয়ে যাবে।
মাঠের অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরও আর্সেনালের টিম বাস বেরোতে পারেনি। চারপাশে তখন সমর্থককদের ভিড়। ভিতরে ফুটবলাররা বিয়ার হাতে নাচছেন। পুরো দল বন্ধু-পরিবারকে নিয়ে সেন্ট্রাল লন্ডনের এক ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে যায়। শেষপাতে বুকায়ো সাকা একা একা ট্রফি হাতে আবার মাঠে ফিরে আসেন। ফাঁকা স্টেডিয়াতে নিজের মতো করে ছবি তোলেন। ২২ বছরের অপেক্ষার পর, একটু বেশি সময় নিয়ে নিভৃতে মুহূর্তটা উপভোগ করলেন তরুণ তারকা ।
মাঠের অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরও আর্সেনালের টিম বাস বেরোতে পারেনি। চারপাশে তখন সমর্থককদের ভিড়। ভিতরে ফুটবলাররা বিয়ার হাতে নাচছেন। পুরো দল বন্ধু-পরিবারকে নিয়ে সেন্ট্রাল লন্ডনের এক ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে যায়। শেষপাতে বুকায়ো সাকা একা একা ট্রফি হাতে আবার মাঠে ফিরে আসেন। ফাঁকা স্টেডিয়াতে নিজের মতো করে ছবি তোলেন। ২২ বছরের অপেক্ষার পর, একটু বেশি সময় নিয়ে নিভৃতে মুহূর্তটা উপভোগ করলেন তরুণ তারকা ।