শিক্ষকতা যখন কেবল পেশা না হয়ে ভালোবাসা, আদর্শ আর মানবিকতার প্রতীক হয়ে ওঠে, তখন বিদায়ের দৃশ্যও হয়ে ওঠে হৃদয়স্পর্শী। ঠিক তেমনই এক আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী হলো ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গিলাবাড়ী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়।দীর্ঘ ৩২ বছর ৪ মাস ২০ দিনের বর্ণাঢ্য শিক্ষকতা জীবনের ইতি টেনে বৃহস্পতিবার (২১ মে) অবসরে গেলেন বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক মো. শাহজাহান-ই-হাবীব। এ উপলক্ষে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় এক ব্যতিক্রমধর্মী বিদায় সংবর্ধনা।
বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তখন যেন আবেগের অন্যরকম এক পরিবেশ। ফুল হাতে সারিবদ্ধ দাঁড়িয়ে ছিল শত শত শিক্ষার্থী। দুই পাশে তৈরি হয়েছিল ভালোবাসার মানবসারি। সেই পথ ধরে সহকর্মীদের সঙ্গে ধীর পায়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন সবার প্রিয় শিক্ষক শাহজাহান-ই-হাবীব। আর শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা ফুল ঝরে পড়ছিল তার ওপর— পুষ্পবৃষ্টিতে ভেসে উঠছিল এক বেদনাময় বিদায়ের দৃশ্য।
কেউ এগিয়ে এসে জড়িয়ে ধরছে প্রিয় স্যারকে, কেউ পা ছুঁয়ে নিচ্ছে দোয়া। আবার কেউ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলছে, “স্যার, আপনাকে ভুলবো না।” আবেগ সামলাতে পারেননি শিক্ষক, শিক্ষার্থী এমনকি অতিথিরাও।
অনুষ্ঠানে দেখা যায়, অনেক শিক্ষার্থী অঝোরে কাঁদছে, কেউ নির্বাক দাঁড়িয়ে আছে প্রিয় শিক্ষকের হাত ধরে। শেষবারের মতো স্মৃতিবন্দি করতে ব্যস্ত ছিল অনেকে। শিক্ষার্থীদের এমন অকৃত্রিম ভালোবাসায় অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন শাহজাহান-ই-হাবীব নিজেও।
বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা শিক্ষা অফিসার মো. শাহীন আখতারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।জানা গেছে, ১৯৬৬ সালের ৬ জুন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন মো. শাহজাহান-ই-হাবীব। এমএ ও বিএড সম্পন্ন করার পর ১৯৯৪ সালের ১ জানুয়ারি নিজ এলাকায় শিক্ষা বিস্তারের স্বপ্ন নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন গিলাবাড়ী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়। ১৯৯৫ সালে বিদ্যালয়টির একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই তিনি প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
তার নেতৃত্বে বিদ্যালয়টি শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও জাতীয় দিবসের আয়োজনে একাধিকবার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে। তিনি জেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হন এবং তার প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি দুইবার জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি পায়।শিক্ষার্থীরা বলেন, “স্যার শুধু পড়াশোনা শেখাননি, মানুষ হওয়ার শিক্ষাও দিয়েছেন। তিনি ছিলেন আমাদের অভিভাবকের মতো। স্যারকে ছাড়া স্কুল কল্পনা করতেই কষ্ট হচ্ছে।”বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা বলেন, “তিনি শুধু একজন প্রধান শিক্ষক ছিলেন না, ছিলেন এই বিদ্যালয়ের প্রাণ। তার আদর্শ ও স্মৃতি বিদ্যালয়ের প্রতিটি ইটের সঙ্গে মিশে থাকবে।”
অনুষ্ঠানে তাকে সম্মাননা স্মারক, উপহার সামগ্রী ও ফুলেল শুভেচ্ছা প্রদান করা হয়। পরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা গাড়িবহরে তাকে বাড়ি পৌঁছে দেন। বিদায়ের পুরো সময়জুড়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ছিল এক গভীর আবেগঘন নীরবতা।
বিদায়ী বক্তব্যে শাহজাহান-ই-হাবীব বলেন, “প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে এই বিদ্যালয় গড়ে তুলেছি। আজ শিক্ষকতা জীবনের সমাপ্তি হলেও বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও কল্যাণে আগামীতেও পাশে থাকবো।”
জেলা শিক্ষা অফিসার মো. শাহীন আখতার বলেন, “একজন আদর্শ শিক্ষক কখনো অবসরে যান না, তিনি বেঁচে থাকেন তার শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে। শাহজাহান-ই-হাবীব স্যার এই অঞ্চলের শিক্ষার আলো হয়ে থাকবেন বহুদিন।”
বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তখন যেন আবেগের অন্যরকম এক পরিবেশ। ফুল হাতে সারিবদ্ধ দাঁড়িয়ে ছিল শত শত শিক্ষার্থী। দুই পাশে তৈরি হয়েছিল ভালোবাসার মানবসারি। সেই পথ ধরে সহকর্মীদের সঙ্গে ধীর পায়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন সবার প্রিয় শিক্ষক শাহজাহান-ই-হাবীব। আর শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা ফুল ঝরে পড়ছিল তার ওপর— পুষ্পবৃষ্টিতে ভেসে উঠছিল এক বেদনাময় বিদায়ের দৃশ্য।
কেউ এগিয়ে এসে জড়িয়ে ধরছে প্রিয় স্যারকে, কেউ পা ছুঁয়ে নিচ্ছে দোয়া। আবার কেউ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলছে, “স্যার, আপনাকে ভুলবো না।” আবেগ সামলাতে পারেননি শিক্ষক, শিক্ষার্থী এমনকি অতিথিরাও।
অনুষ্ঠানে দেখা যায়, অনেক শিক্ষার্থী অঝোরে কাঁদছে, কেউ নির্বাক দাঁড়িয়ে আছে প্রিয় শিক্ষকের হাত ধরে। শেষবারের মতো স্মৃতিবন্দি করতে ব্যস্ত ছিল অনেকে। শিক্ষার্থীদের এমন অকৃত্রিম ভালোবাসায় অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন শাহজাহান-ই-হাবীব নিজেও।
বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা শিক্ষা অফিসার মো. শাহীন আখতারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।জানা গেছে, ১৯৬৬ সালের ৬ জুন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন মো. শাহজাহান-ই-হাবীব। এমএ ও বিএড সম্পন্ন করার পর ১৯৯৪ সালের ১ জানুয়ারি নিজ এলাকায় শিক্ষা বিস্তারের স্বপ্ন নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন গিলাবাড়ী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়। ১৯৯৫ সালে বিদ্যালয়টির একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই তিনি প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
তার নেতৃত্বে বিদ্যালয়টি শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও জাতীয় দিবসের আয়োজনে একাধিকবার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে। তিনি জেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হন এবং তার প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি দুইবার জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি পায়।শিক্ষার্থীরা বলেন, “স্যার শুধু পড়াশোনা শেখাননি, মানুষ হওয়ার শিক্ষাও দিয়েছেন। তিনি ছিলেন আমাদের অভিভাবকের মতো। স্যারকে ছাড়া স্কুল কল্পনা করতেই কষ্ট হচ্ছে।”বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা বলেন, “তিনি শুধু একজন প্রধান শিক্ষক ছিলেন না, ছিলেন এই বিদ্যালয়ের প্রাণ। তার আদর্শ ও স্মৃতি বিদ্যালয়ের প্রতিটি ইটের সঙ্গে মিশে থাকবে।”
অনুষ্ঠানে তাকে সম্মাননা স্মারক, উপহার সামগ্রী ও ফুলেল শুভেচ্ছা প্রদান করা হয়। পরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা গাড়িবহরে তাকে বাড়ি পৌঁছে দেন। বিদায়ের পুরো সময়জুড়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ছিল এক গভীর আবেগঘন নীরবতা।
বিদায়ী বক্তব্যে শাহজাহান-ই-হাবীব বলেন, “প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে এই বিদ্যালয় গড়ে তুলেছি। আজ শিক্ষকতা জীবনের সমাপ্তি হলেও বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও কল্যাণে আগামীতেও পাশে থাকবো।”
জেলা শিক্ষা অফিসার মো. শাহীন আখতার বলেন, “একজন আদর্শ শিক্ষক কখনো অবসরে যান না, তিনি বেঁচে থাকেন তার শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে। শাহজাহান-ই-হাবীব স্যার এই অঞ্চলের শিক্ষার আলো হয়ে থাকবেন বহুদিন।”