বাইরের খাবার খাওয়া বন্ধ করেও ওজন বেড়ে যাচ্ছে? হাইপোথাইরয়েডিজমে আক্রান্ত নন তো?

আপলোড সময় : ২২-০৫-২০২৬ ০৭:২৮:৩০ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২২-০৫-২০২৬ ০৭:২৮:৩০ অপরাহ্ন
রোগা হতে চাইলে পরিশ্রম করতেই হবে। অনেকে তা করেও থাকেন। জিমে যাওয়া, বাড়িতে শরীরচর্চা করা, নিয়ম মেনে খাওয়াদাওয়া— রোজের রুটিনে এগুলি মেনে চলেন কড়া নিয়ম মেনে। অথচ এত কিছুর পরেও মনের মতো ফল না পাওয়া গেলে তখন শুরু হয় হতাশা। অনেকেই তাতে ধৈর্য এবং উৎসাহ— দুই-ই হারিয়ে ফেলেন। চিকিৎসকেরা বলছেন, অনেক সময় শারীরিক কোনও সমস্যা থাকলে চেষ্টা করেও কমতে চায় না ওজন। বিশেষ করে কারও যদি থাইরয়েডের সমস্যা থাকে, সে ক্ষেত্রে বিস্তর চেষ্টা করেও, অনেক সময় ওজন নিয়ন্ত্রণে আসতে চায় না। হাইপোথাইরয়েডিজমের ক্ষেত্রে কেন ওজন বাড়ে, জানেন?

থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে যে হরমোন নির্গত হয়, তা প্রধানত ছ’টি কাজ করে। এই সব হরমোন বিপাকক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণেও এই সব হরমোন কাজে আসে। এ ছাড়া নাড়িস্পন্দন নিয়ন্ত্রণে রাখতে, হাড়ের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে, কিডনি ভাল রাখতে এমনকি মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে এই সব হরমোনের যোগ আছে। হাইপোথাইরয়েডিজম অর্থাৎ থাইরয়েড হরমোনের উৎপাদন কমে গেলে বিপাক হারও কমে যায়, ফলে ফ্যাট গলানোর প্রক্রিয়াও ব্যাহত হয়। শরীরে যে পরিমাণ মেদ জমে তা খরচ হতে পারে না, ফলস্বরূপ ওজন বেড়ে যায়। কিডনির কাজ ব্যাহত হলে শরীরে জল আর লবণ জমতে শুরু করে, স্বাভাবিক কারণেই শরীরে ফোলা ভাব দেখা দিয়ে শুরু করে। হাইপোথাইরয়েডিজম হলে অবসাদ আসতে পারে, অবসাদ কাটাতে অনেকেই বেশি মাত্রায় খেতে শুরু করেন, ফলে এ ক্ষেত্রেও ওজন অনেকটাই বেড়ে যায়। এ ছাড়া হাইপোথাইরয়েডিজম হলে শরীরে ক্লান্তি দেখা দেয়, ফলে শারীরচর্চা করার ইচ্ছেও চলে যায়। শারীরচর্চা কম হলেও মেদ কম ঝরে— সব মিলিয়ে ওজন বেড়ে যায়।

তাই যাঁদের ওজন দ্রুত বাড়ছে, তাঁদের ক্ষেত্রে থাইরয়েডের সমস্যা বা হাইপোথাইরয়েডিজম আছে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখতে হবে। হাইপোথাইরয়েডিজম ধরা পড়লে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে ওষুধ খাওয়া শুরু করতে হবে।

হাইপোথাইরয়েডিজম ধরা পড়লে আর কী কী উপায়ে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখবেন?

১) না খেয়ে বেশি ক্ষণ থাকবেন না। একসঙ্গে বেশি খাবারও খাবেন না। অল্প করে বারে বারে খাওয়ার চেষ্টা করুন। এতে বিপাকহার নিয়ন্ত্রণে থাকে, ফলে ওজনও কমে।

২) নিয়মিত শরীরচর্চা করে যেতেই হবে। রোগা হতে চাইলে এর কোনও বিকল্প নেই। জিমে হোক বা বাড়িতে— শারীরিক কসরত করতেই হবে। এতে যে শুধু ওজন কমবে তা নয়, থাইরয়েডের সমস্যাও নিয়ন্ত্রণে থাকবে। কার্ডিয়ো করতে পারেন। দ্রুত ফল পাবেন। প্রয়োজন হলে জিম প্রশিক্ষকের সাহায্য নিতে পারেন। আর জিমে যেতে ইচ্ছে না করলে বাড়িতেই যোগাসন করুন।

৩) থাইরয়েডের সমস্যায় মিষ্টি খেলে খুব অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। তবে ওজন বাড়তে থাকলে সেই অভ্যাসে রাশ টানা প্রয়োজন। মিষ্টির বদলে এক বাটি তাজা মরসুমি ফল খেতে পারেন।

৪) সব রকম নরম ও রঙিন পানীয় এড়িয়ে চলুন। এতে যে পরিমাণ ক্যালোরি থাকে, তা অল্প সময়েই ওজন বাড়ানোর জন্য যথেষ্ট। থাইরয়েড থাকলে এই পানীয়গুলি এড়িয়ে চলুন। এ ছাড়া প্রক্রিয়াজাত খাবার, প্যাকেটন্দি খাবারও বাদ দিতে হবে রোজের ডায়েট থেকে।

৫) ওজন কমাতে চাইলে পর্যাপ্ত ঘুম প্রয়োজন। বেশ কিছু গবেষণা বলছে, ঘুমের অভাব স্থূলতার কারণ হতে পারে। তাই পর্যাপ্ত ঘুম হচ্ছে কি না, সে দিকে নজর রাখা জরুরি। ঘুম কম হলে অতি দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]