হান্টাভাইরাস নিয়ে নতুন গবেষণায় উদ্বেগ, সংক্রমণের ছয় বছর পরেও বীর্যে মিলল ভাইরাসের চিহ্ন

আপলোড সময় : ২১-০৫-২০২৬ ১০:৪০:১০ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২১-০৫-২০২৬ ১০:৪০:১০ অপরাহ্ন
হান্টাভাইরাস নিয়ে সাম্প্রতিক এক গবেষণা বিশ্বজুড়ে চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীদের মধ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, এই ভাইরাস মানুষের প্রজননতন্ত্রে দীর্ঘ সময় লুকিয়ে থাকতে পারে। এমনকি সংক্রমণ সেরে যাওয়ার প্রায় ছয় বছর পরেও এক ব্যক্তির বীর্যে ভাইরাসের জিনগত চিহ্ন পাওয়া গেছে।

গবেষণাটি সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকীতে প্রকাশিত হওয়ার পর স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। গবেষকদের মতে, এটি হান্টাভাইরাস সংক্রমণ ও এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সম্পর্কে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

হান্টাভাইরাস একটি বিরল কিন্তু গুরুতর ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত সংক্রামিত ইঁদুর বা অন্যান্য দন্তপ্রাণীর মল, প্রস্রাব কিংবা লালার সংস্পর্শে মানুষ আক্রান্ত হয়। এতে জ্বর, পেশিতে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, কিডনি ও ফুসফুসের জটিলতা দেখা দিতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে রোগটি প্রাণঘাতীও হতে পারে।

গবেষণায় ৫৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তির নমুনা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সংক্রমণের ৭১ মাস পরেও তাঁর বীর্যে হান্টাভাইরাসের আরএনএ বিদ্যমান রয়েছে। তবে রক্ত, প্রস্রাব বা শ্বাসতন্ত্রের নমুনায় ভাইরাসের কোনো উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। এতে বিজ্ঞানীদের ধারণা, পুরুষের অণ্ডকোষ ভাইরাসের জন্য একটি ‘ইমিউন-প্রিভিলেজড সাইট’ বা নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করতে পারে, যেখানে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা তুলনামূলক কম সক্রিয় থাকে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর আগে ও এর ক্ষেত্রেও একই ধরনের ঘটনা দেখা গিয়েছিল। ওই ভাইরাসগুলোও দীর্ঘ সময় বীর্যে অবস্থান করতে পারে বলে গবেষণায় উঠে এসেছিল।

সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি করেছে হান্টাভাইরাসের ‘অ্যান্ডিজ ভাইরাস’ ধরনটি। এমন একটি ধরন, যা মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে সক্ষম বলে আগেই জানা গেছে। তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় পাওয়া ভাইরাসের আরএনএ আদৌ সংক্রামক কিনা, বা যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে অন্যের শরীরে ছড়াতে পারে কিনা, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ অবস্থায় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পুরুষ রোগীদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছেন। কন্ডোম ব্যবহার, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রয়োজনে বীর্য পরীক্ষার কথাও বলা হচ্ছে। আগে যেখানে সংক্রমণের পর ৪২ দিন সতর্ক থাকাকে যথেষ্ট ধরা হত, এখন সেই সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।

তবে গবেষক ও চিকিৎসকেরা সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, গবেষণাটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং ভাইরাসটি যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে বাস্তবে ছড়ায় কিনা, তা নিশ্চিত হতে আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন। তবে এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে হান্টাভাইরাস মোকাবিলার নীতি, চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্য নির্দেশনায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]