আন্তর্জাতিক প্রাণবৈচিত্র্য দিবসে তানোরে কৃষিপ্রাণবৈচিত্র্য উৎসব

আপলোড সময় : ২১-০৫-২০২৬ ০৯:০১:২৯ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২১-০৫-২০২৬ ০৯:০১:২৯ অপরাহ্ন
রাজশাহীর তানোর উপজেলায় ৩৫০ বছরের প্রাচীন এক তেঁতুল গাছকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী কৃষিপ্রাণবৈচিত্র্য উৎসব।

আন্তর্জাতিক প্রাণবৈচিত্র্য দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২১ মে) উপজেলার মোহর গ্রামে একটি গাছ একটি বাস্তুসংস্থান প্রতিপাদ্যে এ উৎসবের আয়োজন করে তানোর উপজেলা জনসংগঠন সমন্বয় কমিটি, গ্রিন কোয়ালিশন ও বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ইন্ডিজেনাস নলেজ (বারসিক)।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, একটি গাছ শুধু গাছ নয়; এটি একটি পূর্ণাঙ্গ বাস্তুতন্ত্র। গাছের শিকড়ের নিচে কোটি কোটি অণুজীবের বসবাস, ডালপালায় আশ্রয় নেয় পাখি, কাঠবিড়ালি, মৌমাছিসহ নানা উপকারী প্রাণী ও পোকামাকড়। গাছের ঝরাপাতা মাটিকে উর্বর করে, আবার সেই মাটি গাছকে বাঁচিয়ে রাখে। প্রকৃতির এই আন্তঃসম্পর্ক সম্পর্কে মানুষকে নতুনভাবে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করাই ছিল উৎসবের মূল লক্ষ্য।

উৎসবে ১৪০ প্রজাতির ধান, সবজি ও গমের বীজ প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি জলজ বাস্তুতন্ত্রের উপাদান হিসেবে শাপলা, শালুক, পদ্ম, শামুক ও ঝিনুক, দেশীয় পরিবেশবান্ধব মাছ ধরার উপকরণ, ৪৫ প্রজাতির অচাষকৃত শাকসবজি, বরেন্দ্র অঞ্চলের বিভিন্ন নদীর পানি, মাটির বৈচিত্র্য এবং পরিবেশবান্ধব চুলা প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কৃষক-কৃষাণীরা নিজেদের মধ্যে দেশীয় বীজ বিনিময়ও করেন।

বারসিকের প্রোগ্রাম অফিসার অমৃত সরকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে কৃষিপ্রাণবৈচিত্র্য উৎসবের ধারণাপত্র ও আন্তর্জাতিক প্রাণবৈচিত্র্য দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরেন বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি মোঃ আতিকুর রহমান আতিক।

তিনি বলেন, প্রাণবৈচিত্র্য শুধু বনভূমি বা প্রাণীর প্রশ্ন নয়; এটি খাদ্য, পানি, স্বাস্থ্য, কৃষি, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির মূলভিত্তি। বর্তমানে প্রকৃতিনির্ভর অর্থনীতিকে বৈশ্বিক উন্নয়নের ভবিষ্যৎ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কৃষি, বন, মৎস্য, নির্মাণ ও খাদ্যব্যবস্থা সরাসরি জীববৈচিত্র্যের ওপর নির্ভরশীল। তাই জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও পুনরুদ্ধার এখন সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

অনুষ্ঠানে তানোর উপজেলার ১০টি গ্রামের কৃষক-কৃষাণী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং তরুণ-যুব সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেন। বক্তারা স্থানীয় পর্যায়ে প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন।

দুবইল গ্রামের কৃষক ও বরেন্দ্র বীজ ব্যাংকের সভাপতি মো. জায়দুর রহমান বলেন, দেশি ধানের বৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখতে আমি প্রতি বছর আউশ, আমন ও বোরো মৌসুমে ১৭০ জাতের ধান চাষ করি। পরে কৃষকদের মধ্যে সেই বীজ বিনিময় করি। এই জাতগুলো হারিয়ে গেলে হারিয়ে যাবে আমাদের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও গ্রামীণ সংস্কৃতির নবান্ন উৎসব।

জগদীশপুর গ্রামের কৃষাণী মোসা. সেতারা বেগম বলেন, আমি বিষমুক্ত সবজি চাষ করি। কোনো রাসায়নিক সার ব্যবহার করি না, জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করি। আমার বাড়িতে বিভিন্ন ধরনের বীজ সংরক্ষণ করা হয়, সেখান থেকে এলাকার মানুষ বীজ নিয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, আগে বাড়ির আশপাশে অনেক অচাষকৃত শাক পাওয়া যেত, এখন আর পাওয়া যায় না। তাই আমি বাড়িতে ৩০ প্রজাতির অচাষকৃত শাকের চাষ করছি। এতে পুষ্টি যেমন মিলছে, তেমনি হারিয়ে যাওয়া শাকও সংরক্ষণ হচ্ছে।

মন্ডুমালা গ্রামের আদিবাসী কৃষাণী মিস মনিকা টুডু বলেন, আমাদের খাদ্যোপযোগী অনেক শামুক, ঝিনুক ও জলজ প্রাণী হারিয়ে গেছে, যা আমাদের সংস্কৃতিরও অংশ ছিল। আমি একটি পুকুরে শামুক-ঝিনুক, শাপলা ও শালুক সংরক্ষণে কাজ করছি। এর মাধ্যমে জলজ প্রাণবৈচিত্র্য টিকে থাকবে।

গোল্লাপাড়া গ্রামের স্বশিক্ষিত কৃষিবিজ্ঞানী নূর মোহাম্মদ বলেন, আগামীর জন্য প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ করতে হবে। ফসলের জমিতে অবাধে কীটনাশক প্রয়োগ বন্ধ করতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, তানোর উপজেলার প্রাণবৈচিত্র্যের আধার হিসেবে পরিচিত কুমারী বিলের পাশে অতিরিক্ত কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে অনেক মাছ ও জলজ প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় গ্রিন কোয়ালিশনের মাধ্যমে বিভিন্ন পর্যায়ে সচেতনতামূলক সভা ও আলোচনা চালানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]