ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে বলতে উত্তেজিত হয়ে পড়লেন নেতানিয়াহু, ক্ষুব্ধ ‘বন্ধুর’ সিদ্ধান্তে

আপলোড সময় : ২১-০৫-২০২৬ ০৫:২৭:১৩ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২১-০৫-২০২৬ ০৫:২৭:১৩ অপরাহ্ন
ইরান সংঘর্ষে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে এ বার মতবিরোধ দেখা দিল ‘দুই বন্ধুর’। আমেরিকা যে পথে এগোচ্ছে, তা পছন্দ নয় ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। আবার ‘বন্ধু’ নেতানিয়াহু যা চাইছেন, সে রাস্তায় যেতে নারাজ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তা নিয়ে দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে একপ্রস্ত তপ্ত ফোনালাপও হয় বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ।

আমেরিকা চাইছে, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার পথ খুলে রাখতে। কিন্তু নেতানিয়াহুর সায় নেই তাতে। এ নিয়ে ঈষৎ অসন্তুষ্টও ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। তিনি চাইছেন, ফের ইরানে হামলা শুরু করুক আমেরিকা। বস্তুত, মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলির দাবি, গত মঙ্গলবার ইরানে নতুন হামলার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছিল। কিন্তু তার ঠিক আগেই সোমবার আচমকা তিনি ঘোষণা করে দেন, ওই সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রাখা হচ্ছে। পরের দিন, মঙ্গলবার ফোনে কথা হয় ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহুর। দুই ‘বন্ধুর’ প্রায় এক ঘণ্টার ফোনালাপ একটি পর্যায়ে গিয়ে বেশ তপ্ত হয়ে গিয়েছিল বলে দাবি করা হচ্ছে। বিভিন্ন মার্কিন এবং ইজ়রায়েলি সংবাদমাধ্যম সূত্রে দাবি, ফোনে কথা বলার সময়ে বেশ উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলেন নেতানিয়াহু।

ফেব্রুয়ারির শেষে আমেরিকা এবং ইজরায়েল একযোগে হামলা চালিয়েছিল ইরানে। সেই থেকে দুই বন্ধুর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ফোনে কথা হয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করা হবে, তা নিয়ে আলোচনাও হয়েছে। এরই মধ্যে গত রবিবার ফোনে কথা বলেন দুই রাষ্ট্রনেতা। ‘সিএনএন’ জানাচ্ছে, ওই সময়েই ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, চলতি সপ্তাহের শুরুতে তিনি ইরানে নতুন করে হামলা চালাতে পারেন। কিন্তু ওই ফোনালাপের ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই ট্রাম্প ঘোষণা করে দেন, তিনি হামলা স্থগিত রাখছেন। কূটনৈতিক সমাধানের বিষয়ে তাঁকে আশ্বস্ত করেছিলেন কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির রাষ্ট্রনেতারা। তাঁদের অনুরোধই হামলা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেন ট্রাম্প।

কিন্তু এই কূটনৈতিক আলোচনার পক্ষপাতী নন নেতানিয়াহু। শুরু থেকেই তেহরানের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক মনোভাব প্রকাশ করেছেন তিনি। মার্কিন প্রশাসনের আধিকারিক এবং ইজ়রায়েলি সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, হামলা স্থগিত রাখার এই সিদ্ধান্ত শুধু ইরানকেই সুবিধা করে দেবে বলে মনে করছেন নেতানিয়াহু। ট্রাম্পকেও ফোনালাপে সে কথা জানিয়েছেন তিনি। আলোচনার একটি পর্যায়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে ভুল বলেও দাবি করেন নেতানিয়াহু। তিনি ট্রাম্পকে জানান, পরিকল্পনামাফিক হামলা করাই উচিত ছিল আমেরিকার।

ইজরায়েলি এক সূত্র জানাচ্ছে, ফোনে কথা বলার সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করার জন্য বার বার ট্রাম্পকে চাপ দেন নেতানিয়াহু। ওই সূত্রের মতে, দুই রাষ্ট্রনেতার মতবিরোধ ছিল স্পষ্ট। কোনও চুক্তিতে পৌঁছোনো যায় কি না, তা শেষ পর্যন্ত দেখতে চাইছেন ট্রাম্প। কিন্তু নেতানিয়াহু চাইছেন অন্য পথে এগোতে। মঙ্গলবারের ওই ফোনালাপের পরে ইজরায়েলি বিভিন্ন সূত্র জানায়, কূটনৈতিক আলোচনায় ইরান গড়িমসি করেই যাচ্ছে। এবং ট্রাম্প তাদের প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। এ নিয়ে ইজরায়েলের প্রশাসনের উঁচুতলায় হতাশা বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও হামলার হুমকি দিয়ে ট্রাম্পের পিছিয়ে আসার ঘটনা নতুন নয়। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা অতীতে বিভিন্ন সময়ে দাবি করেছেন, ইরান যুদ্ধ নিয়ে আমেরিকা এবং ইজরায়েলের মধ্যে উদ্দেশ্যগত ফারাক রয়েছে।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]