একসঙ্গে মৃত্যু-দাফন ৪ ভাইয়ের, জানাজা পড়ালেন বেঁচে থাকা ভাই

আপলোড সময় : ২০-০৫-২০২৬ ০৫:৩৪:৩৬ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২০-০৫-২০২৬ ০৫:৩৪:৩৬ অপরাহ্ন
ওমানে এসি থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া চট্টগ্রামের চার ভাইয়ের মরদেহ নিজ গ্রামের সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। বুধবার (২০ মে) সকালে ১১টায় হোছনাবাদ লালানগর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে হয় জানাজা। এর আগে ওমান থেকে মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে বিশেষ ফ্লাইটে তাদের মরদেহ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে।

স্বপ্ন ছিল ওমান থেকে পরিবারের কাছে ফিরে আসবে চার ভাই। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে প্রবাসের মাটিতে এক রাতেই নিভে গেল সব স্বপ্ন। ফিরে এসেছে তারা। তবে, অ্যাম্বুলেন্স করে, নিজ বাড়িতে, নিথর দেহে। শেষ যাত্রায়ও এক সাথে সঙ্গী ছিল চার ভাই।
 
এর আগে মঙ্গলবার রাতে প্রবাসী চার ভাইয়ের মরদেহ শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছানোর পর স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করেন সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী।
 
এরপর বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিশেষ ফ্রিজারে অ্যাম্বুল্যান্সে মরদেহগুলো চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের গ্রামের বাড়িতে বুধবার ভোরে নিয়ে আসা হয়।
 
চার ভাইকে এক নজর দেখার জন্য গ্রামসহ আশেপাশের এলাকার হাজারো মানুষ উপস্থিত হয়। একসাথে চার ভাইয়ের মৃত্যু কোনো ভাবেই মানতে পারছেন না এলাকাবাসী ও স্বজনরা।
 
পাশাপাশি রাখা চারটি লাশবাহী খাটিয়া ঘিরে দাঁড়িয়ে ছিলেন অসংখ্য মানুষ। কারও চোখে পানি, কেউ আবার নির্বাক হয়ে তাকিয়ে ছিলেন। বুধবার সকালে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার বন্দারাজা পাড়ায় এমন দৃশ্য দেখা যায়।

বুধবার সকালে ১১টায় হোছনাবাদ লালানগর উচ্চ বিদ্যালয়ে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। নিহতদের একমাত্র জীবিত ভাই এনামুল হক স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষক। তিনিই জানাজার নামাজ পড়ান। তবে জানাজার আগে উপস্থিত সবার সামনে কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে শুধু বলেন, আমার ভাইদের আপনারা ক্ষমা করে দিয়েন। জানাজা শেষে এক সাথে চার ভাইকে সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
 
এলাকাবাসী মো. ইসমাইল বলেন, ১২ বছর আগে মেজো ভাই প্রথম ওমানে যান। পরে একে একে অন্য ভাইদেরও সেখানে নিয়ে যান। তারা ওমানে দুটি গাড়ি ওয়াশিংয়ের ব্যবসা গড়ে তোলেন এবং ধীরে ধীরে আর্থিকভাবে সচ্ছল হয়ে ওঠেন।

কয়েক বছর আগে তারা জমি কিনে নতুন বাড়ি তৈরি শুরু করেন। তাদের মধ্যে দুজন কিছুদিন আগে বিয়ে করেছিলেন। মেজো ভাই বিদেশে যাওয়ার মাত্র আট মাস আগে বিয়ে করেছিলেন। তাদের সুখের সংসারটা শেষ হয়ে গেল।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান বলেন, চার ভাইয়ের মরদেহ ভোরে বাড়িতে এসে পৌঁছেছে। জানাজা ও দাফনের জন্য সব প্রস্তুতি আগেই সম্পন্ন করা  হয়েছিল।

সরকারি নিয়ম অনুসারে নিহত প্রবাসীরা প্রতিজন তিন লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ পাবে জানিয়ে মো. নাজমুল হাসান বলেন, আমরা চেষ্টা করছি যত দ্রুত এই টাকা উনাদের পরিবারকে দেয়া যায়।
 
এই পরিবারের পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে মোহাম্মদ এনাম মাকে নিয়ে লালানগরের বাড়িতেই থাকেন। বড় দুই ভাই রাশেদ ও সাহেদ বিবাহিত ছিলেন এবং তাদের পরিবার রাঙ্গুনিয়ার বাড়িতেই থাকে। এদের মধ্যে সাহেদ সাত মাস আগে বিয়ে করে ওমানে গেছেন।
 
অনাকাঙ্ক্ষিত এমন ঘটনায় দ্রুত সময়ে মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করায় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, দূতাবাস ও স্থানীয় সাংসদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এলাকাবাসী।
 
গত মঙ্গলবার রাতে ওমানের মুলাদ্দাহ এলাকায় কেনাকাটা শেষে একটি ক্লিনিকের সামনে গাড়ির ভেতরে ঘুমিয়ে পড়েন চার ভাই। গাড়ির এসি থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাসে তাদের মৃত্যু হয়। 

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]