রাজশাহী নগরীর কাজিহাটা এলাকায় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও আরডিএ’র নির্দেশনা উপেক্ষা করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ)।
বুধবার (২০ মে) সকাল ১১টার দিকে আরডিএ’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানকালে উপস্থিত ছিলেন আরডিএ’র অথরাইজড অফিসার আব্দুল্লাহ আল তারিকসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। পরিদর্শন শেষে সংশ্লিষ্ট নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ড্রিম স্মিথ প্রপার্টি প্রাইভেট লিমিটেডকে সাময়িকভাবে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে জননিরাপত্তা ও পার্শ্ববর্তী ভবনের সুরক্ষার স্বার্থে প্রটেকশন ওয়ালের পাশ দিয়ে দ্রুত বালু ভরাটের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
জানা গেছে, গত ১২ মে পার্শ্ববর্তী ভবনের মালিক ডা. মো. হাবিবুল্লাহ রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, প্রয়োজনীয় প্রটেকশন ওয়াল ছাড়া গভীর খননকাজ পরিচালনা করায় তার ভবন যেকোনো সময় মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় ডা. মো. হাবিবুল্লাহর মেয়ে তামান্না অভিযোগ করে বলেন, ভবনের বেজ খননের শুরুতেই কোনো ধরনের নিরাপত্তামূলক প্রটেকশন ওয়াল ছাড়াই নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। এ ঘটনায় তার বাবা আদালতে একটি মামলাও দায়ের করেন। পরে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান তাদের আশ্বস্ত করে জানায়, প্রায় ১৫ ফুট গভীর বেজ খননের কারণে ২০ ফুট স্টিল শিট পাইলিংয়ের মাধ্যমে প্রটেকশন ওয়াল স্থাপন করা হবে এবং ধাপে ধাপে মাটি কাটা হবে।
তিনি আরও বলেন, তার বাবা হজে যাওয়ার পর গত ২ মে থেকে মাত্র চার দিনের মধ্যে পুরো জায়গার মাটি একসঙ্গে কেটে ফেলা হয়। এতে খননকাজ চলাকালে তাদের ভবনসহ আশপাশের একাধিক ভবনে তীব্র কম্পন সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে প্রটেকশন শিট বসানো হলেও সেটি হেলে পড়ে। ফলে তাদের ভবন বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এসময় তিনি ভবনের দেয়াল ও মেঝেতে ফাটল ও দেবে যাওয়ার বিভিন্ন চিহ্ন উপস্থিত কর্মকর্তাদের সামনে তুলে ধরেন।
আরডিএ’র অথরাইজড অফিসার আব্দুল্লাহ আল তারিক বলেন, “আমাদের কাছে অভিযোগ আসে যে, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও যথাযথ প্রটেকশন ওয়াল ছাড়াই বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্তের জন্য আমাদের ইন্সপেক্টরকে পাঠানো হয়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানকে যথাযথ নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কাজ পরিচালনার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়।”
তিনি আরও বলেন, “নোটিশ দেওয়ার পরও প্রতিষ্ঠানটি বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে নেয়নি এবং নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করেনি। ফলে জননিরাপত্তা ও পার্শ্ববর্তী ভবনের ঝুঁকির বিষয় বিবেচনায় আজ ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নির্মাণকাজ বন্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ ও বিধি অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
অন্যদিকে ভবন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ড্রিম স্মিথ প্রপার্টি প্রাইভেট লিমিটেডের পরিচালক এবং মহানগর বিএনপির সদস্য ও সাবেক আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশার জামাতা গোলাম দাস্তগির সুমন বলেন, “ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়েছে ঠিকই, তবে আমাদের নির্মাণকাজ পুরোপুরি বন্ধের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। আরডিএ কর্তৃপক্ষ প্রটেকশন ওয়ালের পাশ দিয়ে দ্রুত বালু ভরাট করার নির্দেশ দিয়েছে। আমরা বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে নিয়েছি এবং আজ রাতের মধ্যেই বালু ভরাটের কাজ সম্পন্ন করে তার ছবি ও প্রয়োজনীয় তথ্য আরডিএ কর্তৃপক্ষের কাছে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেব।”
স্থানীয়দের দাবি, আবাসিক এলাকায় বহুতল ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না করা হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকে যায়। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত তদারকির দাবি জানিয়েছেন তারা।
বুধবার (২০ মে) সকাল ১১টার দিকে আরডিএ’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানকালে উপস্থিত ছিলেন আরডিএ’র অথরাইজড অফিসার আব্দুল্লাহ আল তারিকসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। পরিদর্শন শেষে সংশ্লিষ্ট নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ড্রিম স্মিথ প্রপার্টি প্রাইভেট লিমিটেডকে সাময়িকভাবে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে জননিরাপত্তা ও পার্শ্ববর্তী ভবনের সুরক্ষার স্বার্থে প্রটেকশন ওয়ালের পাশ দিয়ে দ্রুত বালু ভরাটের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
জানা গেছে, গত ১২ মে পার্শ্ববর্তী ভবনের মালিক ডা. মো. হাবিবুল্লাহ রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, প্রয়োজনীয় প্রটেকশন ওয়াল ছাড়া গভীর খননকাজ পরিচালনা করায় তার ভবন যেকোনো সময় মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় ডা. মো. হাবিবুল্লাহর মেয়ে তামান্না অভিযোগ করে বলেন, ভবনের বেজ খননের শুরুতেই কোনো ধরনের নিরাপত্তামূলক প্রটেকশন ওয়াল ছাড়াই নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। এ ঘটনায় তার বাবা আদালতে একটি মামলাও দায়ের করেন। পরে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান তাদের আশ্বস্ত করে জানায়, প্রায় ১৫ ফুট গভীর বেজ খননের কারণে ২০ ফুট স্টিল শিট পাইলিংয়ের মাধ্যমে প্রটেকশন ওয়াল স্থাপন করা হবে এবং ধাপে ধাপে মাটি কাটা হবে।
তিনি আরও বলেন, তার বাবা হজে যাওয়ার পর গত ২ মে থেকে মাত্র চার দিনের মধ্যে পুরো জায়গার মাটি একসঙ্গে কেটে ফেলা হয়। এতে খননকাজ চলাকালে তাদের ভবনসহ আশপাশের একাধিক ভবনে তীব্র কম্পন সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে প্রটেকশন শিট বসানো হলেও সেটি হেলে পড়ে। ফলে তাদের ভবন বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এসময় তিনি ভবনের দেয়াল ও মেঝেতে ফাটল ও দেবে যাওয়ার বিভিন্ন চিহ্ন উপস্থিত কর্মকর্তাদের সামনে তুলে ধরেন।
আরডিএ’র অথরাইজড অফিসার আব্দুল্লাহ আল তারিক বলেন, “আমাদের কাছে অভিযোগ আসে যে, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও যথাযথ প্রটেকশন ওয়াল ছাড়াই বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্তের জন্য আমাদের ইন্সপেক্টরকে পাঠানো হয়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানকে যথাযথ নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কাজ পরিচালনার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়।”
তিনি আরও বলেন, “নোটিশ দেওয়ার পরও প্রতিষ্ঠানটি বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে নেয়নি এবং নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করেনি। ফলে জননিরাপত্তা ও পার্শ্ববর্তী ভবনের ঝুঁকির বিষয় বিবেচনায় আজ ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নির্মাণকাজ বন্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ ও বিধি অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
অন্যদিকে ভবন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ড্রিম স্মিথ প্রপার্টি প্রাইভেট লিমিটেডের পরিচালক এবং মহানগর বিএনপির সদস্য ও সাবেক আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশার জামাতা গোলাম দাস্তগির সুমন বলেন, “ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়েছে ঠিকই, তবে আমাদের নির্মাণকাজ পুরোপুরি বন্ধের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। আরডিএ কর্তৃপক্ষ প্রটেকশন ওয়ালের পাশ দিয়ে দ্রুত বালু ভরাট করার নির্দেশ দিয়েছে। আমরা বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে নিয়েছি এবং আজ রাতের মধ্যেই বালু ভরাটের কাজ সম্পন্ন করে তার ছবি ও প্রয়োজনীয় তথ্য আরডিএ কর্তৃপক্ষের কাছে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেব।”
স্থানীয়দের দাবি, আবাসিক এলাকায় বহুতল ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না করা হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকে যায়। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত তদারকির দাবি জানিয়েছেন তারা।