‘সময় নেই, দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিলে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে ইরান’: হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

আপলোড সময় : ১৮-০৫-২০২৬ ১০:১৮:৫৫ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৮-০৫-২০২৬ ১০:১৮:৫৫ অপরাহ্ন
আরব দুনিয়ার রণক্ষেত্রে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার তেহরানকে চরম হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইউরেনিয়াম মজুত থেকে শুরু করে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ— একাধিক ইস্যুতে যখন আমেরিকা ও ইরানের আলোচনা কার্যত বিশ বাঁও জলে, ঠিক তখনই নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ সরাসরি যুদ্ধের হুমকি দিয়ে বসলেন ট্রাম্প।

রবিবার একটি পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, “ইরানের জন্য ঘড়ির কাঁটা দ্রুত দৌড়চ্ছে। ওদের উচিত দ্রুত পদক্ষেপ করা। নাহলে ওদের আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। সময়ের গুরুত্বটা ওদের বোঝা উচিত!”

ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারি এমন এক সময়ে এল, যখন ইরানের সংবাদমাধ্যম ‘ফার্স নিউজ এজেন্সি’ ওয়াশিংটনের দেওয়া কঠিন শর্তগুলো ফাঁস করে দিয়েছে। জানা গেছে, আমেরিকা চায় ইরানকে তাদের ৪০০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সমর্পণ করতে হবে। পাশাপাশি মাত্র একটি পরমাণু গবেষণা কেন্দ্র সচল রাখা, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণের দাবি ত্যাগ করা এবং বিদেশে ফ্রিজ হয়ে থাকা ইরানি সম্পদ আপাতত ব্লক রাখা - এই শর্তগুলো মানলেই তবে আলোচনায় বসবে হোয়াইট হাউস।

পাল্টা হিসেবে তেহরানও পাঁচটি শর্ত ছুড়ে দিয়েছে। ইরানের স্পষ্ট দাবি, লেবানন-সহ গোটা আরব দুনিয়ায় মার্কিন সামরিক অভিযান বন্ধ করতে হবে, সমস্ত নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে এবং বিদেশের ব্যাঙ্কে আটকে থাকা ইরানের অর্থ ফেরত দিতে হবে। শুধু তাই নয়, হরমুজ প্রণালীর উপর ইরানের সার্বভৌমত্বকেও স্বীকৃতি দিতে হবে আমেরিকাকে।

এদিকে মার্কিন চাপের মুখে মাথা নোয়াতে নারাজ ইরান। সে দেশের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান অভিযোগ করেছেন, ইজরায়েল ও আমেরিকা মিলিতভাবে ইরানে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি, এই দুই দেশ ইরানের ভেতরে অশান্তি ছড়াতে বিভিন্ন ‘জঙ্গি গোষ্ঠীকে’ মদত দিচ্ছে। পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী মহসিন নকভির সঙ্গে বৈঠকে পেজেশকিয়ান জানান, প্রতিবেশী দেশগুলি নিজেদের মাটি ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে দেয়নি বলেই আমেরিকার ছক সফল হয়নি। এই সহযোগিতার জন্য তিনি পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ইরাককে ধন্যবাদও জানান।

বর্তমান সংকটের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী। ইরান এই পথ দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের ওপর কড়া নজরদারি শুরু করেছে। পালটা হিসেবে আমেরিকাও ইরানের বন্দরগুলিতে নৌ-অবরোধ তৈরি করে অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে মরিয়া।

গত এপ্রিলে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু তা দীর্ঘস্থায়ী কোনও রাজনৈতিক সমাধান আনতে ব্যর্থ। ট্রাম্প খোদ স্বীকার করেছেন যে, পাকিস্তানের প্রতি সৌজন্য দেখিয়েই তিনি যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছিলেন। তিনি বলেন, “পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল এবং প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত চমৎকার মানুষ। তাঁদের অনুরোধেই আমরা বোমা বর্ষণ থামিয়েছিলাম।”

তবে এই সমঝোতা নিয়েও বিতর্ক দানা বেঁধেছে। সিবিএস নিউজের দাবি, যুদ্ধবিরতির সুযোগ নিয়ে ইরান তাদের বেশ কিছু যুদ্ধবিমান ও নজরদারি বিমান পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডির কাছে একটি বিমানঘাঁটিতে সরিয়ে ফেলেছে। সব মিলিয়ে আলোচনা এখন পুরোপুরি থমকে। ওয়াশিংটন ও তেহরান— দুই পক্ষই একে অপরের প্রস্তাব নাকচ করে দেওয়ায় আরব দুনিয়ায় মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। এখন দেখার, ট্রাম্পের এই ‘চরম হুঁশিয়ারি’ তেহরানকে আলোচনার টেবিলে ফেরাতে পারে কি না।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]