নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকার লোকজনের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম ভরসা কমিউনিটি ক্লিনিক। এসব কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে লোকজন বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ও ওষুধ পেয়ে থাকেন। তবে বেশ কয়েক মাস ধরে এসব ক্লিনিকগুলোতে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে করে উপজেলার প্রত্যন্ত ও গ্রামীণ জনপদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ব্যাহত হয়ে পড়েছে। সরকারি এই চিকিৎসাকেন্দ্রে এসে ওষুধ না পেয়ে প্রতিদিন খালি হাতে ফিরছেন শত শত অসহায় ও দরিদ্র মানুষ।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে সূত্রে জানা গেছে, নিয়ামতপুর উপজেলার আটটি ইউনিয়নে ৩০ কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। এসব ক্লিনিকে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডাররা (সিএইচসিপি) বিনামূল্যে প্রত্যন্ত এলাকার লেকজনদের স্বাস্থ্য সেবা ও ওষুধ দেন। তবে কয়েক মাস ধরে এসব ক্লিনিকগুলোতে ওষুধ সরবরাহ না থাকায় স্বাভাবিক সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন কমিউনিটি ক্লিনিক ঘুরে দেখা যায়, চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষের চোখে-মুখে শুধু হতাশা আর ক্ষোভ। গ্রামীণ জনপদের অতিদরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষ, যারা সামান্য জ্বর-সর্দির ওষুধের জন্যও এই সরকারি কেন্দ্রগুলোর ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল তারা এখন পড়েছেন চরম বিপাকে। বাইরে থেকে চড়া মূল্যে ওষুধ কেনার আর্থিক সামর্থ্য নেই এই অসহায় পরিবারগুলোর।
উপজেলার পানিহারা কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে আসা লক্ষ্মী রানী (৬০) নামের এক বৃদ্ধা ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, 'আমি গরিব মানুষ, বাইরে থেকে ওষুধ কেনার টাকা আমার নাই। আগে এই ক্লিনিকে আসলে সপ্তাহে দু-একদিন অল্প-স্বল্প ওষুধ পেতাম, তাতেই আমার রোগবালাই ভালো হতো । কিন্তু কয়েক মাস ধরে এখানে কোনো ওষুধই পাওয়া যাচ্ছে না। টাকার অভাবে দোকান থেকেও কিনতে পারছি না।'
একই ধরনের কষ্টের কথা জানান দিনমজুর আব্দুর রশিদ (৫০)। তিনি বলেন, 'দিন খেটে যে টাকা পাই, তা দিয়ে কোনোমতে সংসারই চলে না। আগে নিজের বা ছেলেমেয়েদের জ্বর, সর্দি, কাশি হলে এখান থেকে ফ্রিতে কিছু সাধারণ ওষুধ পেতাম। এখন কয়েক মাস ধরে সব বন্ধ। ওষুধ না পেয়ে আমাদের গরিব মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই।'
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, 'প্রতিদিন ক্লিনিকে অসংখ্য দরিদ্র নারী-পুরুষ, শিশুসহ গর্ভবতী মহিলারা সুচিকিৎসার আশায় আসেন। কিন্তু ওষুধ না থাকায় নিরুপায় হয়ে তাদের খালি হাতে ফিরিয়ে দিতে হয়। কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে সাধারণত প্যারাসিটামল, হিসটাসিন, ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স, ক্যালসিয়াম জাতীয় ওষুধ ও স্যালাইনের বেশি চাহিদা থাকে। সরবরাহ না থাকায় এসব ওষুধ দেওয়া যাচ্ছে না। এতে করে দিন দিন রোগীর সংখ্যা কমতেই আছে।' ওষুধ সরবরাহ না থাকায় গত কয়েক মাসের তুলনায় এই মাসে (মে) সেবা প্রার্থীর সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে বলে তাঁরা জানান।
ওষুধ সরবরাহ না থাকার বিষয়ে বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ফয়সল নাহিদ পবিত্র ওষুধ সংকটের সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি জানান, 'নিয়ামতপুর উপজেলার ৩০টি কমিউনিটি ক্লিনিকের সবগুলোই বর্তমানে সচল রয়েছে। তবে বেশ কিছু মাস ধরে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ থাকায় রোগীরা সমস্যায় পড়েছেন, এটি সত্য। আমরা দ্রুত এই সমস্যা সমাধানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করছি। আশা করছি খুব শীঘ্রই ওষুধ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে এবং গ্রামীণ মানুষ আবার পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য সেবা পাবেন।'
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে সূত্রে জানা গেছে, নিয়ামতপুর উপজেলার আটটি ইউনিয়নে ৩০ কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। এসব ক্লিনিকে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডাররা (সিএইচসিপি) বিনামূল্যে প্রত্যন্ত এলাকার লেকজনদের স্বাস্থ্য সেবা ও ওষুধ দেন। তবে কয়েক মাস ধরে এসব ক্লিনিকগুলোতে ওষুধ সরবরাহ না থাকায় স্বাভাবিক সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন কমিউনিটি ক্লিনিক ঘুরে দেখা যায়, চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষের চোখে-মুখে শুধু হতাশা আর ক্ষোভ। গ্রামীণ জনপদের অতিদরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষ, যারা সামান্য জ্বর-সর্দির ওষুধের জন্যও এই সরকারি কেন্দ্রগুলোর ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল তারা এখন পড়েছেন চরম বিপাকে। বাইরে থেকে চড়া মূল্যে ওষুধ কেনার আর্থিক সামর্থ্য নেই এই অসহায় পরিবারগুলোর।
উপজেলার পানিহারা কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে আসা লক্ষ্মী রানী (৬০) নামের এক বৃদ্ধা ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, 'আমি গরিব মানুষ, বাইরে থেকে ওষুধ কেনার টাকা আমার নাই। আগে এই ক্লিনিকে আসলে সপ্তাহে দু-একদিন অল্প-স্বল্প ওষুধ পেতাম, তাতেই আমার রোগবালাই ভালো হতো । কিন্তু কয়েক মাস ধরে এখানে কোনো ওষুধই পাওয়া যাচ্ছে না। টাকার অভাবে দোকান থেকেও কিনতে পারছি না।'
একই ধরনের কষ্টের কথা জানান দিনমজুর আব্দুর রশিদ (৫০)। তিনি বলেন, 'দিন খেটে যে টাকা পাই, তা দিয়ে কোনোমতে সংসারই চলে না। আগে নিজের বা ছেলেমেয়েদের জ্বর, সর্দি, কাশি হলে এখান থেকে ফ্রিতে কিছু সাধারণ ওষুধ পেতাম। এখন কয়েক মাস ধরে সব বন্ধ। ওষুধ না পেয়ে আমাদের গরিব মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই।'
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, 'প্রতিদিন ক্লিনিকে অসংখ্য দরিদ্র নারী-পুরুষ, শিশুসহ গর্ভবতী মহিলারা সুচিকিৎসার আশায় আসেন। কিন্তু ওষুধ না থাকায় নিরুপায় হয়ে তাদের খালি হাতে ফিরিয়ে দিতে হয়। কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে সাধারণত প্যারাসিটামল, হিসটাসিন, ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স, ক্যালসিয়াম জাতীয় ওষুধ ও স্যালাইনের বেশি চাহিদা থাকে। সরবরাহ না থাকায় এসব ওষুধ দেওয়া যাচ্ছে না। এতে করে দিন দিন রোগীর সংখ্যা কমতেই আছে।' ওষুধ সরবরাহ না থাকায় গত কয়েক মাসের তুলনায় এই মাসে (মে) সেবা প্রার্থীর সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে বলে তাঁরা জানান।
ওষুধ সরবরাহ না থাকার বিষয়ে বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ফয়সল নাহিদ পবিত্র ওষুধ সংকটের সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি জানান, 'নিয়ামতপুর উপজেলার ৩০টি কমিউনিটি ক্লিনিকের সবগুলোই বর্তমানে সচল রয়েছে। তবে বেশ কিছু মাস ধরে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ থাকায় রোগীরা সমস্যায় পড়েছেন, এটি সত্য। আমরা দ্রুত এই সমস্যা সমাধানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করছি। আশা করছি খুব শীঘ্রই ওষুধ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে এবং গ্রামীণ মানুষ আবার পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য সেবা পাবেন।'