ফারাক্কার প্রভাবে বিলুপ্তির পথে মাছ ও জলজ প্রাণী, আশার নাম পদ্মা ব্যারেজ

আপলোড সময় : ১৮-০৫-২০২৬ ০৬:৩৯:৫৯ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৮-০৫-২০২৬ ০৬:৩৯:৫৯ অপরাহ্ন
ফারাক্কা বাঁধের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবে রাজশাহীসহ দেশের উত্তরাঞ্চলের অন্তত ৪০টি নদী ও খাল শুকিয়ে মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছে। কমে গেছে পদ্মার পানিপ্রবাহ, বিলুপ্তির পথে গঙ্গার ডলফিন, ঘড়িয়াল ও পদ্মার ইলিশসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী। শুষ্ক মৌসুমে প্রমত্তা পদ্মা এখন ধু ধু বালুচরে পরিণত হচ্ছে। এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে কৃষি, জীববৈচিত্র্য ও নদীকেন্দ্রিক জীবিকার ওপর। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ প্রকল্প হাতে নিয়েছে, যা ইতোমধ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদন পেয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়িত হলে শুষ্ক মৌসুমে পানিপ্রবাহ ধরে রাখা, কৃষিতে সেচ নিশ্চিত করা এবং মৃতপ্রায় নদীগুলো পুনরুজ্জীবিত করার সুযোগ তৈরি হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, রাজশাহী বিভাগের ৪০টিরও বেশি নদ-নদী ও খাল বর্তমানে দখল, দূষণ ও পানিশূন্যতার কারণে অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে। দুই যুগ আগেও এসব নদীতে পর্যাপ্ত নাব্যতা ও পানিপ্রবাহ ছিল। কিন্তু ফারাক্কার প্রভাবে শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকায় পানি প্রবাহ কমে যাওয়ায় পদ্মানির্ভর শাখা নদীগুলো ধীরে ধীরে ভরাট হয়ে সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

সরকার এরই মধ্যে রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় মৃতপ্রায় নদী ও খাল পুনরুদ্ধারে দখলমুক্তকরণ, সংস্কার ও খনন কার্যক্রম শুরু করেছে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি পানি ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে সামনে আনা হচ্ছে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প।

এদিকে ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে গত শনিবার রাজশাহীর বড়কুঠী পদ্মাপাড়ে গণজমায়েত করে নদী বাঁচাও আন্দোলন কমিটি। সমাবেশে বক্তারা নতুন গঙ্গা চুক্তিতে বাংলাদেশের ন্যায্য পানির হিস্যা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

বক্তারা বলেন, ১৯৭৬ সালের ১৬ মে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী-এর নেতৃত্বে রাজশাহীর মাদ্রাসা ময়দান থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ফারাক্কা লংমার্চ ছিল বাংলাদেশের পানি অধিকার আন্দোলনের অন্যতম বড় গণজাগরণ। কিন্তু পাঁচ দশক পরও ফারাক্কার প্রভাবে উত্তরাঞ্চল ভয়াবহ পরিবেশগত সংকটে রয়েছে।

সমাবেশে উপস্থাপিত তথ্যে বলা হয়, ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি গঙ্গায় পানিপ্রবাহ ছিল ৯০ হাজার ৭৩০ কিউসেক। ২০২৪ সালের একই দিনে তা কমে দাঁড়ায় ৭৫ হাজার ৪০৯ কিউসেকে। এক বছরের ব্যবধানে প্রবাহ কমেছে ১৫ হাজার ৩২১ কিউসেক।

পরিবেশবিদ ও নদী বাঁচাও আন্দোলন কমিটি রাজশাহীর আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এনামুল হক বলেন, ফারাক্কার প্রভাবে উত্তরাঞ্চলে সেচ সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। বরেন্দ্র অঞ্চলের অধিকাংশ গভীর নলকূপ প্রায় অকেজো হয়ে পড়ছে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমাগত নিচে নেমে যাচ্ছে, বাড়ছে আর্সেনিক দূষণও।

তিনি বলেন, ভারত আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতি উপেক্ষা করে গঙ্গাসহ অভিন্ন নদীর পানি একতরফাভাবে সরিয়ে নিচ্ছে। ফলে পদ্মাসহ শাখা-উপশাখা নদীগুলো শুষ্ক মৌসুম শুরুর আগেই শুকিয়ে যাচ্ছে।

নদী গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী বলেন, ফারাক্কার কারণে পদ্মা অববাহিকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্েয ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে। শতাধিক প্রজাতির মাছ হারিয়ে গেছে। জেলেরা পেশা পরিবর্তনে বাধ্য হচ্ছেন। পদ্মা ব্যারেজ এখন সময়ের দাবি।

তিনি জানান, রাজবাড়ীর পাংশায় প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ হলে বর্ষার অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। সংরক্ষিত পানি বিভিন্ন নদীপথে সরবরাহ করে শুষ্ক মৌসুমেও পানিপ্রবাহ সচল রাখা যাবে।

রাজশাহী উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো), উপ-সহকারী প্রকৌশলী, মোঃ আবু হুরায়রা বলেন, বর্তমানে আমরা ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল। পদ্মা ব্যারেজ নির্মিত হলে সারফেস ওয়াটার ব্যবহার করে সেচ দেওয়া সম্ভব হবে। এতে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং দীর্ঘদিনের পানিসংকট অনেকটাই কমে আসবে।

সংশ্লিষ্টদের আশা, পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের নদী, কৃষি ও পরিবেশ নতুন করে প্রাণ ফিরে পাবে।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]