চিন সফর শেষ, ইরানে এ বার আরও বিধ্বংসী হামলা? প্রস্তুত হচ্ছে বাহিনী

আপলোড সময় : ১৬-০৫-২০২৬ ০২:০৫:৫৩ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৬-০৫-২০২৬ ০২:০৫:৫৩ অপরাহ্ন
চিন সফর সেরে আমেরিকায় ফিরেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ বার ইরানের বিষয়ে তিনি কী সিদ্ধান্ত নেন, তা নিয়ে কৌতূহল রয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন এবং ইজ়রায়েলি বাহিনী প্রস্তুত। ট্রাম্প সবুজ সঙ্কেত দিলেই ফের হামলা শুরু হয়ে যাবে। অন্য দিকে, ইরান আরও বিধ্বংসী প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইম্‌সের রিপোর্টে দাবি, ট্রাম্প এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। ভাবনাচিন্তা চলছে।

সূত্রের খবর, সব রকম সম্ভাবনার জন্যই পৃথক পরিকল্পনা করে রেখেছেন ট্রাম্পের সহকারীরা। ইরানে ফের হামলা শুরুর প্রস্তুতি চলছে। কী কী ভাবে সেই হামলা হতে পারে, আগের চেয়ে হামলার ধরনে কোনও পরিবর্তন করা হবে কি না, তা-ও আলোচনায় রয়েছে। আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা করে চলেছে পাকিস্তান-সহ একাধিক দেশ। তাদের প্রতিনিধিরাও হোয়াইট হাউসের সঙ্গে অনবরত যোগাযোগ রাখছেন বলে খবর। ইরানকে হরমুজ় প্রণালী খোলার জন্য রাজি করানোর চেষ্টা চলছে। যদি তা সম্ভব হয়, তবে ট্রাম্প সেটাকে নিজের জয় বলে প্রচার করতে পারবেন। ইরানে লক্ষ লক্ষ ডলার খরচ করে এই যুদ্ধ অনেক আমেরিকান ভোটারই ভাল চোখে দেখছেন না। তাই তাঁদের সামনে যুদ্ধের কোনও না কোনও সাফল্য তুলে ধরতে চান ট্রাম্প। তাঁর নীতি যে ব্যর্থ হয়নি, তা প্রমাণ করার তাগিদ রয়েছে প্রেসিডেন্টের।

জিনপিঙের সঙ্গে ইরান নিয়ে ট্রাম্পের আলোচনা হয়েছে। কৌশলগত দিক থেকে ইরানের সহযোগী চিন। তবে হরমুজ় প্রণালী দিয়ে অবাধে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে চায় বেজিংও। তাদের পণ্য পরিবহণেও হরমুজ় অন্যতম ভরসা। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানকে এ বিষয়ে কোনও চাপ দিক চিন— জিনপিঙের কাছে এমন আবদার তিনি করেননি। তবে কী আলোচনা হয়েছে দু’পক্ষের, তা বিশদে বলতেও রাজি হননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। চিন এ বিষয়ে একেবারেই মুখ খোলেনি। সে দেশ থেকে ফেরার পথে ট্রাম্প ফের ইরান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। দাবি, ইরান সম্প্রতি যে সমঝোতার প্রস্তাবটি তাঁকে পাঠিয়েছিল, প্রথম লাইন পড়ার পরই তা ট্রাম্প ছুড়ে ফেলে দিয়েছেন। কারণ, সেখানে যা বলা হয়েছে, তা গ্রহণযোগ্য নয়।

গত ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্পের নির্দেশে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ বাহিনী ইরান আক্রমণ করেছিল। মৃত্যু হয়েছিল ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের। ইরান তার জবাবে পশ্চিম এশিয়ার মার্কিন ঘাঁটিগুলিতে লাগাতার হামলা চালায়। গত মাসে ট্রাম্প সাময়িক সংঘর্ষবিরতি ঘোষণা করেছেন। তবে চাপা উত্তেজনা এখনও রয়েছে। অনেকের মতে, ইরান যুদ্ধ নিয়ে পরস্পরবিরোধী চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন ট্রাম্প। যা চেয়েছিলেন, এখনও তা আদায় করতে পারেননি। ইরানের পরমাণু অস্ত্রধারী দেশ হয়ে ওঠার সমস্ত সম্ভাবনা এখনও তিনি নির্মূল করতে পারেননি। উল্টে নিজের দেশে রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার মুখোমুখি হয়েছেন। মার্কিন নাগরিকদের অনেকেই তাঁর নীতির সমালোচনা করছেন। সূত্রের খবর, পেন্টাগন ইরানে দ্বিতীয় পর্যায়ের অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ৫০ হাজারেরও বেশি মার্কিন সৈন্য পশ্চিম এশিয়ায় রয়েছেন। পশ্চিম এশিয়ার দুই আধিকারিকের দাবি, ইজ়রায়েল এবং আমেরিকার সেনাবাহিনী জোরকদমে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আগামী সপ্তাহেই ফের হামলা শুরু হতে পারে। ওয়াশিংটন থেকে শুধু অনুমতি আসার অপেক্ষা।

বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, ট্রাম্পের সামনে অন্যতম বিকল্প সংঘর্ষবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি করা এবং ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ মেয়াদে পরমাণু অস্ত্র নিয়ে কোনও চুক্তি করা। সে ক্ষেত্রে পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি নিশ্চিত হবে এবং হরমুজ় প্রণালীর অনিশ্চয়তাও কেটে যাবে। দেশে বিরূপ ভোটারদের একাংশকেও এ ভাবে তিনি নিজের দিকে টানতে পারবেন। তবে তিনি যদি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তবে মার্কিন সেনার আগ্রাসনের মাত্রা আগের চেয়ে বেড়ে যেতে পারে কয়েক গুণ। একাংশের মতে, দ্বিতীয় পর্যায়ে হামলার ধরন বদলাতে পারে মার্কিন সেনা। ইরানে নিয়োগ করা হতে পারে বিশেষ অপারেশন বাহিনী। তারা স্থলপথে অভিযান চালিয়ে মাটির নীচে সংরক্ষিত পরমাণু উপাদান ধ্বংস করবে। ট্রাম্প কোন বিকল্প বেছে নেন, তা অবশ্য ভবিষ্যৎই বলবে।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]