নাটোরের গুরুদাসপুরে এক নারীসহ আপত্তিকর অবস্থায় গ্রেফতার হওয়া উপজেলা নাজিরপুর ইউনিয়ন যুবদলের ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক রেজাউল করিম রেজাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) জেলা যুবদলের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাকে বহিষ্কারের আদেশ দেওয়া হয়। এর আগে, মাদক সেবনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও পুলিশ তাদের সাধারণ ধারায় (১৫১ ধারা) মামলা দিয়ে জেলহাজতে প্রেরণ করায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জেলা যুবদলের সহ-দপ্তর সম্পাদক জাহিদ হাসান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নৈতিক স্খলন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে রেজাউল করিম রেজাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলীয় সংহতি রক্ষায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
জানা গেছে, বুধবার (১৩ মে) গভীর রাতে উপজেলার হামলাইকোল এলাকার আদম ব্যবসায়ী বুলবুলের বাড়ি থেকে তার স্ত্রী রুমা আক্তার লাবনীসহ (৩৩) রেজাকে আটক করে পুলিশে দেয় স্থানীয়রা। রেজা উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে। গ্রেফতারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেখা যায় রুমা আক্তার সিগারেট গাঁজা ভরছেন এবং পাশে বসে যুবদল নেতা রেজা মাদক বিক্রির টাকা গুনছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদকের কারবার চালিয়ে আসছিলেন।
ঘটনার প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার বিকেলে আসামিদের ১৫১ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনজুরুল আলম জানান, "অভিযুক্তদের গ্রেফতারের সময় কোনো বাদী পাওয়া যায়নি এবং তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কাছে মাদকও উদ্ধার হয়নি। এ কারণে পুলিশ ১৫১ ধারায় মামলা রুজু করে তাদের জেলহাজতে পাঠিয়েছে।"
তবে ভিডিও ফুটেজ থাকার পরও লঘু ধারায় মামলা করায় এবং মাদক আইনে ব্যবস্থা না নেওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, পুলিশি অভিযানের আগেই মাদক সরিয়ে ফেলায় তারা পার পেয়ে যাচ্ছে।