বাঘায় ফেসবুকে মাদক ব্যবসায়ীর ভূয়া তালিকা: আতঙ্কে সাধারণ জনগণ!

আপলোড সময় : ১৪-০৫-২০২৬ ১০:৪৩:২৭ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৪-০৫-২০২৬ ১০:৪৪:২৪ অপরাহ্ন
রাজশাহীর বাঘা থানার পাকুড়িয়া ইউপির কিশোরপুর গ্রামের মাদক, অস্ত্র ও স্বর্ণ চোরা চালান ব্যবসায়ীদের তালিকা শিরোনামে একটি ভূয়া তালিকা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভেসে বেড়াচ্ছে। 

৮ ও ১১ মে(২০২৬)  এমন একটি তালিকা কঠিন সত্য নামক ফেসবুক আইডি থেকে পোস্ট করা হয়। ভূয়া ওই তালিকা প্রকাশিত হবার পর থেকেই জনমনে ব্যাপক উদ্যেগ,উৎকন্ঠা ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। তালিকায় যাদের নাম দেয়া হয়েছে তারা এই ধরনের ষড়যন্ত্র মূলক ভূয়া তালিকা প্রকাশের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ  জানিয়েছেন।

মাদক ব্যবসায়ীদের বরাত দিয়ে প্রকাশিত ওই তালিকায় দেখা যায়,  যাদের নাম দেয়া হয়েছে তাদের অধিকাংশই দিন মজুর, খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ।

প্রকাশিত তালিকায় নাম থাকা ওই গ্রামের মৃত ইয়ানুছ মোল্লার ছেলে রতন আলী বলেন, আমি কৃষিকাজ ও গরু পালন করে জীবিকা নির্বাহ করি। আমি কখনই এ ধরনের ব্যাবসার সাথে সম্পৃক্ত ছিলাম না। অথচ আমার নাম দেয়া হয়েছে। এছাড়াও তালিকায় থাকা লালন পিতা ইয়াজুল মালিথা, নদীতে মাছ মেরে জীবিকা নির্বাহ করেন। আব্বাস আলী পিতা সাজের মালিথা দিন মজুর। বর্তমানে তিনি নাটোরের  সিংড়ায়  বিলে ধান কাটতে গেছেন।  রাজিব আলী পিতাঃ জার্মান মালিথা মাছ বিক্রয় ও কৃষি কাজ করে। ফিজু পিতা মন্ডল, নাঈম ইসলাম পিতা পিজু মন্ডল, আওয়াল পিতা বাদল, কালু পিতা ভাসান,রেন্টু পিতা গফুর, সম্রাট আলী পিতা  মকবুল হোসেন,সবাই নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে। আনসার আলী পিতা মৃত নবীর মণ্ডল চা স্টলের দোকান্দার। আশরাফুল পিতা মৃত নবীর মণ্ডল, আশিক পিতা আশরাফুল গরুর ব্যবসা করে। জিতু, ফিটু উভয়ের পিতা মান্নান, কৃষি কাজ করে। রতন আলী মাল পিতা একরাম মাল পিক আপ গাড়ি ড্রাইভিং করে জীবিকা নির্বাহ করে। হৃদয় আলী পিতা সবুর আলী, উল্কা গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। ফড়ং পিতা আবু তাহের, কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে।সুমন পিতা আবু তাহের বালুর ট্রাক  গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে।  আকবর পিতা কাসেম মোল্লা কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে।

সামিউল ইসলাম সরকার পিতা  শাহজাহান আলী সরকার বালির কন্ট্রাকটার ।

তালিকায় ১ নম্বরে থাকা জারসিস হোসেন বলেন,ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এই তালিকা প্রকাশ করেছে। দুই দিনে দুই ধরনের তালিকা প্রকাশ করা হয়। প্রথম দিনের তালিকায় ২২ জনের নাম প্রকাশিত করা হয়। তাতে আমার নাম নেই। তার দুই দিন পর প্রকাশিত তালিকায় আমার নাম ১ নম্বরে দিয়ে আমাকে গডফাদার আখ্যায়িত করা হয়। এটা উদ্যেশ্য প্রণোদিত। আমি গত  দশ বছর থেকে কাঠের ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করি। যা এলাকাতে সবাই জানে। আমার ছোট ভাই আমিনুল ইসলামের নামও দেওয়া হয়েছে। অথচ সে গরু ক্রয় বিক্রয়ের ব্যবসা করে  জীবিকা নির্বাহ করে।

তালিকায় যাদের নাম দেওয়া হয়েছে তাদের অধিকাংশই খেটে খাওয়া কৃষক, শ্রমিক, দিনমজুর, সাধারণ মানুষ। যাদের নামে থানায় একটা জিডি পর্যন্ত নেই।  আপনারা খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন।

উক্ত গ্রামেই অবস্থিত আলাইপুর  (বিওপি) ক্যাম্প, কোম্পানি কমান্ডার মাকসুদুর রহমান জানান,  প্রকাশিত তালিকা সম্পর্কে আমাদের জানা নেই, এ ধরনের কোনো তালিকা আমরা প্রস্তুত করি নাই। 

প্রকাশিত ওই তালিকার ব্যাপারে বাঘা থানার  ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) সেরাজুল ইসলাম জানান, আমরা কোনো তালিকা প্রকাশ করিনি। প্রকাশিত ওই তালিকার সঙ্গে আমাদের  কোন  সম্পর্ক নেই। নিরিহ মানুষের নাম ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে  তালিকা প্রকাশের বিষয়টি আমার জানা নেই। এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগ দেয় নাই। অভিযোগ পেলে বিধি মোতাবেক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর রাজশাহী জেলার উপ-পরিদর্শক মেহেদী হাসান মুঠোফোনে জানান, আমরা কোনো তালিকা প্রকাশ করিনি। প্রকাশিত ওই তালিকার বিষয়ে আমাদের জানা নেই। 

এ বিষয়ে এলাকার সচেতন নাগরিক মহল জানান, ফেসবুকে এ ধরনের ভুয়া তালিকা প্রকাশ করা উদ্বেগের বিষয়। কারন এতে করে, একদিকে যেমন সন্মান হানি ঘটে অপরদিকে ওই ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ ষড়যন্ত্রের শিকার হতে পারেন। তাই  আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর  উচিত, দ্রুত এ ধরনের ফেক আইডির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]