নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় সরকারিভাবে অভ্যন্তরীণ বোরো ধান ও চাল সংগ্রহ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলা খাদ্যগুদাম প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের শুভ সূচনা করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো:মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ-৬ (রাণীনগর-আত্রাই) আসনের স্থানীয় সংসদ সদস্য ও আত্রাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম রেজাউল ইসলাম রেজু।
উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধান অতিথি বলেন, কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। প্রান্তিক কৃষকরা যেন তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য সরাসরি পায়, সেটিই সরকারের মূল লক্ষ্য। ধান সংগ্রহে কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি বা মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বরদাশত করা হবে না। প্রকৃত কৃষকরা যাতে কোনো হয়রানি ছাড়াই সরকারি গুদামে ধান দিতে পারেন, প্রশাসনকে তা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, কৃষকের ঘামঝরা পরিশ্রমের যথাযথ মূল্য নিশ্চিত করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষকদের উৎপাদনে উৎসাহ দেওয়া এবং সরাসরি সরকারি ক্রয় কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শামসুন্নাহার, উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ প্রসেনজিৎ তালুকদার, উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবু আনাছ, আত্রাই থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল করিম, খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উত্তম কুমার সরকার, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আব্দুল জলিল চকলেট, সাধারণ সম্পাদক মো. তসলিম উদ্দিন, যুগ্ম-সম্পাদক মো. আব্দুল মান্নান সরদার ও মো. নিয়মত আলী বাবুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও মো. মনিরুজ্জামান বলেন, আমরা শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে ধান-চাল সংগ্রহ করতে বদ্ধপরিকর। সরকারের নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী ধান পরীক্ষা করে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে কেনা হবে। কোনো সিন্ডিকেট বা অসাধু চক্র যাতে কৃষকদের অধিকার ক্ষুণ্ন করতে না পারে, সেজন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক তদারকি করা হবে।
উপজেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ৩৬ টাকা কেজি দরে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ১ হাজার ৯৫৫ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হবে। একজন কৃষক সর্বোচ্চ ৩ মেট্রিক টন পর্যন্ত ধান সরকারি খাদ্যগুদামে দিতে পারবেন। এছাড়াও চুক্তিবদ্ধ মিলারদের কাছ থেকে ৪৯ টাকা কেজি দরে ১৬৩ মেট্রিক টন চাল এবং ৩৬ টাকা কেজি দরে ৭১ মেট্রিক টন গম সংগ্রহ করা হবে। ৩ মে থেকে আগামী ৩১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত এই সংগ্রহ অভিযান চলমান থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় কৃষক কায়েকোবাদ (৬০) ও মাসুদ রানা (৩৫) সহ অনেক প্রান্তিক কৃষক উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় কৃষক কায়েকোবাদ বলেন, সরকার যদি এভাবে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় করে, তাহলে আমরা ন্যায্যমূল্য পাবো এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে। এতে কৃষকরা আরও বেশি উৎসাহ নিয়ে চাষাবাদ করতে পারবে। দীর্ঘদিন পর কৃষকদের জন্য এমন উদ্যোগ সত্যিই আশার আলো হয়ে এসেছে।